মদ, মাদক, পরকীয়া! পণের দাবিতে স্ত্রীকে অকথ্য নির্যাতন, পুলিশের স্ক্যানারে রাজ্যপালের নাতি
দিব্যার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন জোর করে তাঁর ৪ বছরের মেয়েকে আটকে রেখেছে।
কর্ণাটকের রাজ্যপাল থাওয়ার চাঁদ গেহলটের নাতি দেবেন্দ্র গেহলটের বিরুদ্ধে পণের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ তুললেন তাঁর স্ত্রী দিব্যা গেহলট। শুধু তাই নয়, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, শিশু কন্যাকে অপহরণের অভিযোগে মধ্যপ্রদেশের রতলামের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে দেশজুড়ে।

পুলিশ সূত্রে খবর, দিব্যা গেহলটের বাপের বাড়ি মধ্যপ্রদেশের রতলামে। আর শ্বশুরবাড়ি মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়ন জেলার নগদায়। ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী কন্যাদান যোজনায় দেবেন্দ্রর সঙ্গে বিয়ে হয় দিব্যার। সেই অনুষ্ঠানে তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বর্তমানে কর্ণাটকের রাজ্যপাল থাওয়ার চাঁদ গেহলট, লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সুমিত্রা মহাজন-সহ বহু বর্ষীয়ান নেতা-মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। দিব্যার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পরেই তিনি জানতে পারেন বিয়ের আগে থেকেই মদ এবং মাদকে আসক্ত ছিলেন তাঁর স্বামী। একাধিক মহিলার সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ছিল। এরপরেই যৌতুকের দাবিতে তাঁর উপরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। দিব্যা আরও জানান, ২০২১ সালে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তাঁর অভিযোগ, অনেক সময়ে তাঁকে খেতে দেওয়া হতো না, মারধর করত। মেয়ের জন্মের পরেও পরিস্থিত বদলায়নি।
এফআইআর-এ চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারির একটি ভয়াবহ ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। দিব্যার অভিযোগ, সেই দিন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরেই তাঁকে মারধর করতে শুরু করেন দেবেন্দ্র। সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আজ টাকা না আনলে তোকে মেরেই ফেলব।’ এরপরে তিনি দিব্যাকে ছাদ থেকে ঠেলে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। দিব্যা নীচের গ্যালারিতে পড়ে যান এবং কাঁধ, কোমর এবং মেরুদণ্ডে গুরুতর চোট পান। কিন্তু সারারাত তাঁকে ওই অবস্থায় ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ। পরের দিন সকালে তাঁকে নগদার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা ইন্দোরের বোম্বে হাসপাতালে রেফার করে দেন। দিব্যার দাবি, তাঁর বাবা-মাকে ঘটনার কথা জানানো হয়নি। পরে জোর করে তাঁর বাবাকে পুরো চিকিৎসার খরচ দিতে বাধ্য করা হয়। দিব্যার সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা তাঁর মেয়ে। দিব্যার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন জোর করে তাঁর ৪ বছরের মেয়েকে আটকে রেখেছে। শুধু তাই নয়, তাঁর সঙ্গে দেখা করতেও দেওয়া হয় না। বাপের বাড়ি থেকে টাকা না আনলে মেয়েকে পাবে না বলে তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে এফআইআর-এ দাবি করেছেন দিব্যা। তিনি বলেছেন, 'একমাত্র একজন মা তার সন্তানের সঠিকভাবে যত্ন নিতে পারেন... আমি আমার মেয়েকে ফিরে চাই।'
দিব্যা প্রথমে রতলামের এসপি অমিত কুমারের কাছে যান। সেখানে তিনি জানান,তাঁর বাবা-মা রতলামে থাকেন এবং তিনিও বর্তমানে সেখানেই আছেন। তবে, যেহেতু বেশিরভাগ ঘটনা নগদাতে ঘটেছিল, তাই তাঁকে উজ্জয়নের আইজি এবং এসপির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে, রতলামের পুলিশ তাঁর আবেদন গ্রহণ করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেবেন্দ্র এবং তাঁর বাবা তথা প্রাক্তন বিধায়ক জিতেন্দ্র গেহলট। এই প্রসঙ্গে জিতেন্দ্র বলেন, ‘অভিযোগ করা সহজ। যথা সময়ে সব তথ্য মিডিয়ার সামনে পেশ করব।’












