রান্নার প্ল্যানিং, লন্ড্রি! সংসার সামলাতে 'হোম ম্যানেজার' নিয়োগ GreyLabs AI সিইও-র, বেতন জানলে চমকে উঠবেন
একজন হোম ম্যানেজারের বেতন পরিচারক বা পরিচারকার তুলনায় অনেকটাই বেশি।
স্বামী-স্ত্রী দু'জনেই নিজেদের কর্মক্ষেত্রে তুমুল ব্যস্ত। তাই নিজেদের সংসার সামলাতে কর্মব্যস্ত দুই মানুষ একজন পরিচারক বা পরিচারকা নয়, বরং নিযুক্ত করেছেন 'হোম ম্যানেজার।' যিনি বাড়ির সমস্তটা গুছিয়ে রাখবেন। আর তাঁর বেতন প্যাকেজ মাসে ১ লক্ষ টাকা। গ্রেল্যাবস এআই-এর প্রতিষ্ঠাতা আমন গোয়েলের এমনই পোস্ট ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।

আইআইটি বোম্বের প্রাক্তনী আমন গোয়েল গ্রেল্যাবস এআই-এর সিইও। তাঁর স্ত্রী হর্ষিতা শ্রীবাস্তবও উচ্চশিক্ষিত, কর্মব্যস্ত পেশাদার মানুষ। দু’জনেই গ্রেল্যাবস এআই-কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যস্ত। এর মাঝে রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার খেয়াল রাখা, বাজার করা, বিল সময়মতো দেওয়া, ছোটখাটো মেরামতের কাজ - সবই হয়ে উঠছিল সময়সাপেক্ষ এবং ক্লান্তিকর। ঠিক সেই জায়গা থেকেই একজন ফুল-টাইম ‘হোম ম্যানেজার’ নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেন ওই দম্পতি। মাসে এক লক্ষ টাকা বেতন দিয়ে তাঁরা ঘরের যাবতীয় দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন এক প্রশিক্ষিত পেশাদারের হাতে। রান্নার প্ল্যানিং থেকে বাজার, লন্ড্রি থেকে বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ - সবকিছু এখন সেই ম্যানেজারের নিয়ন্ত্রণে। এক্স পোস্টে আমন লিখেছেন, 'আমি একজন ফুল-টাইম হোম ম্যানেজার নিয়োগ করেছি। তিনি খাবার প্ল্যানিং, আলমারি গোছানো, মেরামত, মেইনটেন্যান্স, বাজার, লন্ড্রি-সবকিছু দেখেন। ঘরের কাজে আরও যাঁরা সাহায্য করেন ও সার্ভিস প্রোভাইডারদের তিনিই ম্যানেজ করেন। ফলে আমাদের সময় বেঁচে যায়।' তিনি আরও বলেন, 'আমি আর হর্ষিতা দু’জনেই কাজ করি। তাই বাড়ির এসব দায়িত্ব সামলানোর মতো সময় নেই। আমাদের এনার্জি আমরা পুরোটা কোম্পানি তৈরিতে দিতে চাই।'
উচ্চশিক্ষিত পেশাদার ও মোটা বেতন
একজন হোম ম্যানেজারের বেতন পরিচারক বা পরিচারকার তুলনায় অনেকটাই বেশি। এক্স পোস্টে আমন জানিয়েছেন, যাঁকে তাঁরা নিয়োগ করেছেন, তিনি কোনও সাধারণ গৃহসহায়িকা বা পরিচারিকা নন। এর আগেও তিনি একটি হোটেল চেইনের অপারেশনস হেড হিসেবে কাজ করেছেন। কাজের সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে এখন তিনি একটি পরিবারের সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা সামলাচ্ছেন। তাঁর কথায়, 'তিনি শিক্ষিত এবং এর আগে হোটেল চেইনের অপারেশনস হেড ছিলেন। আমরা তাঁকে মাসে ১ লক্ষ টাকা দিই। ব্যয়বহুল? হয়তো। কিন্তু আমরা আমাদের সময়ের মূল্য দিই, এবং যেহেতু পারি, তাই দিচ্ছি।' আমন আরও বলেন, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত। ফলে বয়স্ক বাবা-মায়ের উপর বাড়ির দায়িত্ব চাপাতে চাননি। তাই এই সিদ্ধান্ত।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া
আমনের এই পোস্ট ভাইরাল হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় ট্রোলিং। কেউ কেউ বলেন, এতে অযথা টাকা খরচ করা হচ্ছে। আবার কেউ অভিযোগ করেন, স্টার্টআপের ইনভেস্টরের টাকা পোড়াচ্ছেন। তবে আমন পাল্টা জবাবে জানান, 'এটা আমার ব্যক্তিগত টাকা। আমার আগের ভেঞ্চার কয়েক মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে যে অর্থ পেয়েছি, সেখান থেকেই দিই।' এদিকে আরও একজন নেটিজেন বলেছেন, 'কোম্পানি বানানো বা টাকা রোজগারের চেয়ে জীবনে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। এমন করবেন না।' অন্যদিকে, অনেকে আমনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। মুম্বই ভিত্তিক এই সিইওর যুক্তি অনেকের কাছে যুক্তিসঙ্গতই মনে হয়েছে। এক্স ব্যবহারকারী শ্রীজন আর শেঠি লিখেছেন, 'তিনি একজন হোম ম্যানেজার নিয়োগ করেছেন, বাজারদরের চেয়েও বেশি বেতনে, যাতে তিনি আর তাঁর স্ত্রী তাঁদের কাজে মন দিতে পারেন এবং তাঁদের বাবা-মাও ভাল যত্ন পান। এটা অবিশ্বাস্য যে এমন একজন মানুষকেও অকারণে কটাক্ষ করা হচ্ছে।'












