বড় ধাক্কা ভারতীয়দের! সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নির্ভর করবে H-1B ভিসা,কী বলছে ট্রাম্পের নয়া নির্দেশিকা?
ট্যারিফের পর সেপ্টেম্বরে এইচ-১বি ভিসা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
এবার দক্ষ কর্মী ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নজরদারি ব্যবস্থা চালু করল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট 'পাবলিক' করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ স্টেট ডিপার্টমেন্ট 'অনলাইন উপস্থিতি' যাচাই প্রক্রিয়া আরও বিস্তৃত করছে। এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন ভারত ও চিন থেকে আসা বিপুল সংখ্যক এইচ-১বি ভিসা প্রাপ্ত কর্মী ও শিক্ষার্থীরা।
বুধবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক নির্দেশিকায় জানিয়েছে, আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে এইচ-১বি ভিসা আবেদনকারী এবং তাদের নির্ভরশীল এইচ-৪ ভিসা আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতির পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক করা হবে। এর সঙ্গে শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিজিটর শ্রেণির আবেদনকারীরাও একই ধরনের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবেন। যাচাই প্রক্রিয়া সহজ করতে এইচ-১বি, এইচ-৪ এবং এফ, এম, ও জে ভিসা ক্যাটাগরির সকল আবেদনকারীকে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রাইভেসি সেটিং 'পাবলিক' রাখতে বলা হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলেছে, ভিসা স্ক্রিনিংয়ে তারা সকল উপলব্ধ তথ্য ব্যবহার করে থাকে, বিশেষ করে যারা জাতীয় নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। প্রতিটি ভিসা অনুমোদনকে তারা 'জাতীয় নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত' হিসেবে বিবেচনা করে এবং বলেছে, 'মার্কিন ভিসা অধিকার নয়, এটি একটি সুযোগ।'
নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এইচ-১বি ভিসা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেই তীব্র মতবিরোধ দেখা গেছে। প্রশাসন ফি বৃদ্ধি ও 'প্রজেক্ট ফায়ারওয়াল'-সহ কঠোর পদক্ষেপ সমর্থন করছে, কিন্তু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও কিছু রিপাবলিকানদের মতে এই প্রোগ্রাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা রক্ষার জন্য অপরিহার্য এবং স্টেম খাতে কর্মী সংকট পূরণে গুরুত্বপূর্ণ। সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট বাধ্যতামূলকভাবে ‘পাবলিক’ রাখতে বলা হওয়ায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নজরদারি এবং আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়, মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও এইচ-১বি ভিসা
ট্যারিফের পর সেপ্টেম্বরে এইচ-১বি ভিসা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এইচ-১বি ভিসার জন্য ১ লক্ষ মার্কিন ডলার ফি চাপিয়েছেন পোটাস। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই মার্কিন মুলুকে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কর্মীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ে। প্রশাসনের দাবি ছিল, ভিসা প্রোগ্রামের 'অতিরিক্ত ব্যবহার' ও 'অপব্যবহার' কমানো এই আদেশের লক্ষ্য।এইচ-১বি ভিসা হল সেই পথ, যার মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগকর্তারা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করেন। ভারত এবং চিন-সহ বহু দেশ থেকে কর্মী টানার ক্ষেত্রে এই ভিসা মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে তিনি ‘তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ’ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ‘স্থায়ীভাবে স্থগিত’ করবেন। এই ঘোষণার আগের দিন ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, যার মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়। ঘটনাটির প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে একজন আফগান নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত জুনে ট্রাম্প প্রশাসন যে ১৯টি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, সেগুলির মধ্যেই অধিকাংশ সমস্যা–সৃষ্টিকারী দেশ রয়েছে। আফগানিস্তান, চাদ, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, মায়ানমার, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন-এগুলো সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। আংশিক নিষেধাজ্ঞায় আছে বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান ও ভেনেজুয়েলা।












