বাংলায় বিদ্যুৎ তহবিলের প্রাপ্য কমছে! অভিষেকের বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগ, কী বলছে কেন্দ্র?
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী শ্রীপদ নায়কের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই তহবিল রাজ্যের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন, লাইনের আধুনিকীকরণ, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর সংস্কার, এবং নতুন বিতরণ নেটওয়ার্ক গঠনের জন্য ব্যবহার করা হয়।
বাংলার জন্য কমছে বিদ্যুৎ তহবিলের প্রাপ্যের পরিমাণ। বরাদ্দ টাকা ছাড়ছে না কেন্দ্র। ফের একবার বকেয়া ইস্যু তুলে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ‘বিমাতৃসুলভ’ আচরণের অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। তিনি শুধুমাত্র বাংলার বরাদ্দ তহবিলের খতিয়ানই জানতে চাইনি, বরং অন্যান্য রাজ্যের বরাদ্দ সম্পর্কেও জানতে চান।

সংসদে শুরু হয়েছে শীতকালীন অধিবেশন। এ অধিবেশনেরই অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল রাজ্যগুলির বিদ্যুৎ বরাদ্দ এবং আরডিএসএস (পরিবর্তিত বিতরণ খাত প্রকল্প) তহবিলের হিসাব। তাই রাজ্যের জন্য বরাদ্দ বিদ্যুৎ তহবিলের খতিয়ান চেয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী বরাদ্দকৃত আরডিএসএস তহবিল থেকে রাজ্যের হাতে কতটা প্রাপ্য তুলে দিয়েছে কেন্দ্র, সেই প্রশ্ন করেন তিনি। অভিষেকের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী শ্রীপদ নায়ক। সংসদে তিনি সমস্ত তথ্যের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলার জন্য আরডিএসএস খাত থেকে মোট বরাদ্দ রয়েছে ৬ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। এ অর্থ বরাদ্দের মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে রাজ্যের হাতে পাঠানো হয়েছে ২২১ কোটি টাকা। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পাঠানো হয়েছে ৬০১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬-এ নভেম্বর মাস পর্যন্ত পাঠানো হয়েছে ৪৯ কোটি টাকা। এই তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, যেহেতু আরডিএসএস তহবিল মূলত রাজ্যগুলির বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে উন্নত করতে এবং গ্রামীণ ও শহুরে অঞ্চলে বিদ্যুতের অপ্রতিবন্ধিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়, তাই বরাদ্দের সঠিক হিসাব রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই রাজ্যবাসীর পক্ষ থেকে এই তথ্য জানতে চেয়েছিলেন, যাতে সাধারণ মানুষও বুঝতে পারে কেন্দ্র রাজ্যের প্রতি কতটা অর্থ সাহায্য করছে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী শ্রীপদ নায়কের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই তহবিল রাজ্যের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন, লাইনের আধুনিকীকরণ, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর সংস্কার, এবং নতুন বিতরণ নেটওয়ার্ক গঠনের জন্য ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলার বরাদ্দের হিসাবও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এটি রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে স্বচ্ছতার নতুন ধারা নিয়ে এসেছে। তবে এই তথ্য প্রকাশের পরও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক থামেনি। তৃণমূলের অভিযোগ, ১০০ দিন-সহ অন্যান্য প্রকল্পের মতোই এবার বাংলার ক্ষেত্রে আরডিএসএস প্রকল্পেও একই ‘নীতি’ নিয়েছে কেন্দ্র। ‘ভরাচ্ছে’ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে। কেন্দ্র প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এই তিন অর্থবর্ষে ছত্তিশগড় পেয়েছে ১৭৮ কোটি টাকা, ৩০৪ কোটি টাকা এবং ৩৮২ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি পেয়েছে মধ্যপ্রদেশ। আরডিএসএস তহবিল থেকে চলতি বছরে তাঁদের প্রাপ্যের পরিমাণ ১ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা।
বলে রাখা প্রয়োজন, ২০২১ সালে প্রতিটি রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য আরডিএসএস তহবিল শুরু করে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক। রাজ্য যাতে অল্প টাকায় বিদ্যুৎ প্রদান করতে পারে, সেই প্রসঙ্গকে মাথায় রেখে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয় এই খাতে। নজর দেওয়া হয়, রাজ্যের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষতির পরিমাণ কমানোর দিকেও। সেই সূত্র ধরেই বাংলাতেও আসে আরডিএসএস তহবিলের টাকা। তবে তৃণমূলের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরে প্রাপ্য টাকা পাঠানোর পরিমাণ কমিয়েছে কেন্দ্র।












