'পোষ্যকে হাঁটাতে স্টেডিয়াম খালি করান', সেই আমলাই BJP-র দিল্লিতে পেলেন বড় দায়িত্ব
সঞ্জীব খিরওয়ার এখন আবার লাদাখ থেকে দিল্লিতে ফিরে এসেছেন।
বিপুল পরিমাণ পড়াশোনা এবং পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে তাঁদের অর্জন করে নিতে হয় এই পদমর্যাদা। সেই জন্যই আইএএস অফিসার হয়ে ওঠা অত্যন্ত সম্মানের এক বিষয়। অথচ, ভুল এ হেন আইএএস অফিসারদেরও হয়। এবার যেমন দিল্লির ত্যাগরাজ স্টেডিয়ামে একজন আইএএস অফিসারের তাঁর কুকুরকে হাঁটানোর ঘটনা আবার নতুন করে সামনে এসেছে। ওই বিতর্কে জড়িয়ে পড়া আইএএস অফিসার সঞ্জীব খিরওয়ার এখন আবার উঠে এসেছেন খবরের শিরোনামে- তাঁকে লাদাখ থেকে দিল্লিতে ফের বদলি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দিল্লি পৌর কর্পোরেশনের (এমসিডি) নতুন কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সঞ্জীব খিরওয়ারকে।

২০২২ সালে বিষয়টি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে কেন্দ্রীয় সরকার সঞ্জীব খিরওয়ারকে লাদাখে এবং তাঁর আইএএস স্ত্রী রিঙ্কু দুগ্গাকে অরুণাচল প্রদেশে বদলি করে। এখন আবার সঞ্জীব দিল্লিতে ফিরে এসেছেন। জেনে নেওয়া যাক সঞ্জীব খিরওয়ার কে এবং তাঁর আইএএস অফিসার হয়ে ওঠার নেপথ্যে পুরো গল্পটা কী। ২০২২ সালে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে সঞ্জীব খিরওয়ার এবং তাঁর স্ত্রী, রিঙ্কু দুগ্গা ত্যাগরাজ স্টেডিয়ামে তাঁদের কুকুরকে হাঁটাচ্ছিলেন। ক্রীড়াবিদদের সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে মাঠ খালি করতে বলা হয়েছিল। পূর্বে ক্রীড়াবিদরা রাত ৮-৮:৩০ পর্যন্ত অনুশীলন করতে পারতেন। কোচ এবং ক্রীড়াবিদরা অভিযোগ করেছিলেন যে এটি তাঁদের প্রশিক্ষণ ব্যাহত করছে। এর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। সঞ্জীব কুকুরটিকে হাঁটানোর কথা স্বীকার করেছিলেন, কিন্তু ক্রীড়াবিদদের অনুশীলন ব্যাহত করার কথা অস্বীকার করেছিলেন। বিষয়টি আরও তীব্র আকার ধারণ করার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার ব্যবস্থা নেয়। সঞ্জীবকে লাদাখে এবং তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু দুগ্গাকে অরুণাচলপ্রদেশে বদলি করা হয়। রিঙ্কু অরুণাচল প্রদেশের আদিবাসী বিষয়ক প্রধান সচিব ছিলেন, কিন্তু পরে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। উল্লেখ করা উচিত হবে যে ত্যাগরাজ স্টেডিয়ামটি ২০১০ কমনওয়েলথ গেমসের জন্য নির্মিত হয়েছিল।
সেই সময় কিরণ বেদী সঞ্জীব খিরওয়ারের বদলি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, 'যদি তাঁর ভুল প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁকে অন্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কেন পাঠানো হল? কেন তাঁকে ছুটিতে পাঠানো হল না?' টিএমসি সাংসদ মহুয়া মৈত্রও প্রশ্ন তোলেন, 'কেন অরুণাচল প্রদেশকে অপমান করা হচ্ছে? উত্তর-পূর্বকে আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত করবেন না।' জম্মু ও কাশ্মীরের ওমর আবদুল্লাহ লাদাখকে শাস্তির পোস্টিং বলা নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি লিখেছেন যে লাদাখ সুন্দর, আতিথেয়তা চমৎকার, এটিকে শাস্তি মনে করা উচিত হবে না। তিনি অরুণাচল প্রদেশ নিয়েও একই কথা বলেন। সঞ্জীব খিরওয়ার এখন আবার লাদাখ থেকে দিল্লিতে ফিরে এসেছেন। এই বদলি তাঁর কেরিয়ারের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে সন্দেহ নেই। সেই সঙ্গে নতুন করে বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। আগে, বিতর্কের পর এই ধরনের বদলি হত না, যে দিকে অন্য রাজনীতিকরা আলোকপাত করেছেন। সেই কারণেই তাঁর প্রত্যাবর্তন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সঞ্জীব খিরওয়ার কে?
সঞ্জীব খিরওয়ারের জন্ম দিল্লিতে। তিনি অরুণাচল প্রদেশ, গোয়া, মিজোরাম এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের এজিএমইউটি ক্যাডারের ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার। সঞ্জীব সর্বদা পড়াশোনায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি কম্পিউটার সায়েন্সে বি.টেক এবং অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সঞ্জীব খিরওয়ার ১৯৯৪ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং আইএএস-এর জন্য নির্বাচিত হন। তাঁর প্রথম পদোন্নতি ছিল চণ্ডীগড়ে এসডিএম (জুনিয়র স্কেল) হিসেবে। তাঁর ২৮ বছরেরও বেশি আইএএস অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই সময়কালে তিনি গোয়ায় আবগারি ও অর্থ কমিশনার, পশ্চিম দিল্লিতে ডেপুটি কমিশনার এবং অরুণাচল প্রদেশ এবং আন্দামান ও নিকোবরে সচিবের মতো পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দিল্লিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, রাজস্ব, অর্থ এবং সাধারণ প্রশাসন সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পরিচালনা করেন। তিনি কৃষি বিপণন বোর্ডে অতিরিক্ত সচিব এবং আবগারি ও কর কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁকে দিল্লির সবচেয়ে সিনিয়র আমলাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এগারোজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং এসডিএম তাঁর কাছে রিপোর্ট করতেন। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় তিনি দিল্লির বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা মুখ্য সচিবের পরেই দ্বিতীয় স্থান।
E-Paper











