জোড়া ব্যর্থতা! বৈভবের ঝোড়ো ইনিংসেও পরাস্ত ভারত, বিতর্কিত ক্যাচে জয় পাকিস্তানের

রবিবার যুব এশিয়া কাপ ম্যাচের সূচনা পর্বেই পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের সঙ্গে হ্যান্ডশেক নিয়ে বিতর্কের আগুন জ্বলে উঠে।

Published on: Nov 16, 2025 11:55 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

একদিনে জোড়া ব্যর্থতা। সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে টানা তিন বার হারিয়ে হ্যাটট্রিক করেছিল ভারত। তারপরেও বিভিন্ন খেলায় প্রতিবেশী দেশকে বারংবার হারিয়েছে তারা। কিন্তু রবিবার দোহায় রাইজিং স্টার এশিয়া কাপে সেই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হল না। বৈভব সূর্যবংশীর ঝোড়ো পারফরম্যান্সের পরেও বোলারদের ব্যর্থতায় পাকিস্তানের কাছে ৮ উইকেটে হেরে গেল ভারত। অন্যদিকে, ইডেন গার্ডেন্সে ডাহা ফেল করেছে ভারতীয় ব্যাটিং। ২০১০ সালের পর ভারতের মাটিতে প্রথম জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

বৈভবের ঝোড়ো ইনিংসেও পরাস্ত ভারত (সৌজন্যে টুইটার)
বৈভবের ঝোড়ো ইনিংসেও পরাস্ত ভারত (সৌজন্যে টুইটার)

হ্যান্ডশেক বিতর্ক ও ভারতের ব্যাটিং

রবিবার যুব এশিয়া কাপ ম্যাচের সূচনা পর্বেই পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের সঙ্গে হ্যান্ডশেক নিয়ে বিতর্কের আগুন জ্বলে উঠে। ‘রাইজিং স্টার এশিয়া কাপ’র ম্যাচে ভারত ‘এ’ দলের অধিনায়ক জিতেশ শর্মা পাকিস্তান ‘এ’ দলের অধিনায়ক ইরফান খান নিয়াজির সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে যান। অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে পাকিস্তানিদের সঙ্গে ‘নো হ্যান্ডশেক’ নীতিতে চলছে ভারতীয় ক্রিকেট। এদিন কাতারের দোহায় টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেছিল ভারত। উবেদ শাহের প্রথম বলেই চার মেরে শুরুটা ভাল করেন বৈভব। পরের ওভারে শাহিদ আজিজকে একটি চার এবং একটি ছয় মারেন। প্রথম তিন ওভারেই ভারতের ২৬ রান উঠে যায়। এরপরেই শুরু হয় উইকেট হারানোর পালা। চতুর্থ ওভারে শাহিদ তুলে নেন প্রিয়াংশ আর্যকে। মাত্র ১০ রান করেন তিনি। আউট হয়ে যান নমন ধীরও। তিনি ২০ বলে ৩৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

আসলে রবিবারের পিচ ছিল মন্থর গতির। বল পড়ে ব্যাটে ভালো ভাবে আসছিল না। ফলে বড় শট খেলা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল বৈভবের পক্ষে। তবুও চেষ্টা জারি ছিল তাঁর। এমনকী সাদ মাসুদ এবং সুফিয়ান মুকিমকে ছয়ও মারেন। কিন্তু দশম ওভারে ভারতের ওপেনারকে সাজ ঘরে পাঠায় মুকিম। ততক্ষণে বৈভবের ঝুলিতে ২৮ বলে ৪৫ রান ঢুকে গিয়েছে। আর সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি ভারত। বৈভব ফিরে আসতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ভারতের ইনিংস। একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। শেষে দিকে হর্ষ দুবে কিছুটা চেষ্টা করলেও ভারত বড় রান তুলতে পারেনি। ১৯ ওভারের মধ্যে মাত্র ১৩৬ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত।

ভারতীয় বোলারদের ব্যর্থতা

ভারতের বিরুদ্ধে ১৩৭ রান পাকিস্তানের কাছে খুব কাটা কঠিন ছিল না। তাছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করা আরও সহজ হয়ে যায়। দ্বিতীয় ওভারেই ১৪ রান দেন যশ ঠাকুর। পঞ্চম ওভারে গুরজপনীত সিং ১৮ রান দেন পাকিস্তানকে। পাকিস্তানের বোলারেরা যেখানে নিয়ন্ত্রিত বল করছিলেন, সেখানে ভারতের বোলারদের লাইন-লেংথের কোনও ঠিক ছিল না। দু’বার ওয়াইড থেকে চার হয়ে যায়। তবে ম্যাচে বিতর্ক তৈরি হয় দশম ওভারের একটি ক্যাচ নিয়ে। প্রথম বলে সুযশ শর্মাকে লং অন এলাকা দিয়ে তুলে মেরেছিলেন সাদাকাত। সেই ক্যাচ ধরেন নমন ধীর। টাল সামলাতে না পেরে বাউন্ডারির ওপারে পা দেওয়ার আগেই বল ছুড়ে দেন মাঠের এপারে। সেই বল ধরেন নেহাল ওয়াধেরা। আম্পায়ারেরা তখনই আউট না দিলেও সাদাকাত সাজঘরে ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় ৫ মিনিট রিপ্লে দেখার পর নটআউট ঘোষণা করেন তৃতীয় আম্পায়ার। এরপরেই ভারতীয় ক্রিকেটারেরা মাঠের আম্পায়ারকে ঘিরে ধরে প্রতিবাদ করতে থাকেন। আম্পায়ার নিজের মতো করে বোঝানোর চেষ্টা করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, সাপোর্ট স্টাফ এবং রিজার্ভ ক্রিকেটারেরা প্রতিবাদ শুরু করে দেন। তাঁদের বোঝাতে আসরে নামেন চতুর্থ আম্পায়ার। শেষ পর্যন্ত নট আউটের সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়। টার্গেট তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ক্রিকেট দল ১৩.২ ওভারে মাত্র জোড়া উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রান করে ফেলে। মাজ শাদাকত পাকিস্তানের হয়ে সর্বাধিক রান করেন। তিনি ৪৭ বলে ৭৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।

News/News/জোড়া ব্যর্থতা! বৈভবের ঝোড়ো ইনিংসেও পরাস্ত ভারত, বিতর্কিত ক্যাচে জয় পাকিস্তানের