বড়দের পথেই ছোটরা! অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপেও পাকিস্তানের সঙ্গে ‘নো হ্যান্ডশেক’ নীতি অব্যাহত ভারতের

গত এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ফল যতটা না আলোচনায় ছিল, তার থেকে বেশি শিরোনামে উঠে এসেছিল হ্যান্ডশেক বিতর্ক।

Published on: Dec 14, 2025 3:34 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

শুরুটা করেছিলেন সূর্যকুমার যাদবেরা। এশিয়া কাপের মঞ্চে পাকিস্তানের কোনও প্লেয়ারের সঙ্গেই হাত মেলাননি ভারতীয়রা খেলোয়াড়রা। এবার বড়দের দেখানো পথেই হাঁটলেন ছোট ভাইয়েরাও। চলতি অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপের মঞ্চে আজ অর্থাৎ রবিবার মুখোমুখি হয়েছে ভারত এবং পাকিস্তান। সেখানেও পাকিস্তানের সঙ্গে ‘নো হ্যান্ডশেক’ নীতি ধরে রাখলেন ভারতীয় অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রেরা। টসের সময় পাক অধিনায়ক ফারহান ইউসুফের সঙ্গে হাত মেলালেন না আয়ুষ। এ থেকে বোঝাই যাচ্ছে ম্যাচের পর এবং টুর্নামেন্টের বাকি অংশগুলিতেও পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করবে না ভারতের জুনিয়ররা।

বড়দের পথেই ছোটরা!
বড়দের পথেই ছোটরা!

সিনিয়রদের এশিয়া কাপে তিনবার পাকিস্তানকে হারায় ভারত। তবে কোনও বারই টসের আগে-পরে পাক ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাননি সূর্যকুমার যাদবরা। আর সব শেষে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর মহসিন নকভির থেকে ট্রফি নিতে রাজি হয়নি ভারত। সেই ট্রফি আজও পাওয়া হয়নি। এরপর মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে হরমনপ্রীত কৌররা করমর্দন নিয়ে একই নীতি অনুসরণ করেন। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ নিয়ে আইসিসি'র বক্তব্য ছিল এই ম্যাচে রাজনীতির রং না লাগুক। গোটা বিষয়টায় নজর রাখছিল ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। তবে শেষ পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান হাত মেলায়নি। টসে জিতে পাক অধিনায়ক ফারহান ইউসুফ প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে আইসিসির তরফে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে চলা আটটি দলকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা করমদর্ন করেন। কিন্তু এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের কোচ হৃষিকেশ কানিতকর এবং টিম ম্যানেজার আনন্দ দাতার ও ক্যাপ্টেনের ওপর নির্ভর করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বোর্ড কর্তা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, 'ছেলেদের কিছু বলা হয়নি। তবে বিসিসিআই ম্যানেজার আনন্দ দাতারকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। এখন যদি ভারতীয় ছেলেরা পাকিস্তান দলের সঙ্গে হাত না মেলায়, তবে ম্যাচ রেফারিকে আগেই জানাতে হবে। আমরা নিশ্চিত ভাবে জানি যে, আইসিসি জুনিয়র ক্রিকেটে রাজনীতিকে সামনে আনতে চায় না।'

রবিবার, প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাক প্লেয়ারদের সামনে ব্যর্থতার ফাঁদে পা দেন বৈভব সূর্যবংশী। এদিন মাত্র ৫ রান খাতায় তুলেই বিদায় নিতে হয়েছিল বিহারের ভূমিপুত্রকে। উইকেট হারান ভারতের অধিনায়কও। যদিও আয়ুষের ব্যাট থেকে ৩৮ রানের যোগদান পেয়েছে দল। তবে দুই ভরসাযোগ্য প্লেয়ারকে হারালেও দলের রাস্তা পরিষ্কার করছেন বাকিরা। বলাই বাহুল্য, এদিন দুবাইয়ে বৃষ্টি হওয়ার কারণে নির্দিষ্ট সময় থেকে ৪৫ মিনিট দেরিতে শুরু হয়েছিল খেলা। বলে রাখা ভালো, অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপ শুরু হতেই প্রতিপক্ষের সামনে ক্ষমতা জাহির করেছে ভারত এবং পাকিস্তান দুই দলই। উদ্বোধনী ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে ২৩৪ রানের বিরাট ব্যবধানে হারিয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে ভারত। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়াকে ২৯৭ রানে গুটিয়ে দিয়ে টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছে পাকিস্তান। কাজেই এশিয়ার দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই যে আগামীতে কঠিন থেকে কঠিনতর হতে চলেছে সে কথা বলাই যায়।

উল্লেখ্য, গত এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ফল যতটা না আলোচনায় ছিল, তার থেকে বেশি শিরোনামে উঠে এসেছিল হ্যান্ডশেক বিতর্ক। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর থেকেই দু দেশের সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকেছে। গত এশিয়া কাপে তো মাঠে দু দলের ক্রিকেটাররা কথা পর্যন্ত বলেননি। এমনকী টসের সময় থেকে শুরু করে ম্যাচ শেষের পরও ভারতীয় ক্রিকেটাররা হাত মেলাননি পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে। যা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল।