নয়া ছক ইউনুসের? বাংলাদেশে আলোচিত বিডিআর হত্যাকাণ্ডে জড়িত ভারত, দাবি রিপোর্টে
গত মাসে মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে গিয়ে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত হাসিনার এই নিকট আত্মীয়ের কথা বারে বারে উল্লেখ করে।
বাংলাদেশ সেনা সদর দফতরে ১৬ বছর আগের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে যোগ রয়েছে ভারতের। এমনটাই দাবি করল সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের তৈরি তদন্ত কমিশন। ১১ মাস ধরে তদন্ত করে রবিবার তারা রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

বিডিআর হত্যাকাণ্ড কী?
২০০৯ সালে পিলখানায় বাংলাদেশ রাইফেলস-এর সদর দফতরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল। সেনার ৫৭ জন কর্তা নিহত হয়েছিলেন। ইউনুসের তদন্ত কমিশনের দাবি, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবুজ সংকেতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়। এর সঙ্গে যোগ রয়েছে ভারতের। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বর্তমান নাম বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ)। আগে তা বাংলাদেশ রাইফেলস বা বিডিআর হিসাবে পরিচিত ছিল। ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তাদের সদর দফতরে যে হামলা চলে, তাতে নিহত হন বিডিআর-এর তৎকালীন প্রধান (মহাপরিচালক) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ সহ ৫৭ জন সেনা আধিকারিক। তাঁদের পরিবারকেও ছাড়া হয়নি। ঘটনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৪।
পিলখানায় বিডিআরের সদর দফতরে ২৫ তারিখ বাৎসরিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। পরদিন সকালে ছিল দরবার অনুষ্ঠান। ওই অনুষ্ঠানে বাহিনীর অধস্তন কর্মী অফিসারদের বক্তব্য শোনার কথা পদস্থদের। সেই অনুষ্ঠানের শুরুতে বিডিআরের বেশ কয়েকজন জওয়ান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। এরপর শুরু হয় গোলাগুলি তাতে প্রায় ৫৭ জন সামরিক অফিসার নিহত হন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদস্থ অফিসারেরাই বিডিআরের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিডিআর এর অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে খুব জমা হচ্ছিল। তার জেরেই এক পর্যায়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিডিআরের জওয়ানেরা।
কী বলছে মহম্মদ ইউনুসের তদন্ত কমিশন?
ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনকে এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ১১ মাস ধরে তদন্ত চলার পর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন বাংলাদেশের আওয়ামী লিগ সরকারের তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। হাসিনার সবুজ সংকেত পেয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি। গত মাসে মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে গিয়ে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত হাসিনার এই নিকট আত্মীয়ের কথা বারে বারে উল্লেখ করে। বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের সময় ফজলে নূর তাপসকে টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেছিলেন আন্দোলন দমনে তিনি মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। ইউনুসের তদন্ত কমিশনের দাবি, ওই ঘটনার সময় ৯২১ জন ভারতীয় বাংলাদেশে এসেছিলেন। তারমধ্যে ৬৭ জনের কোনও হিসাব নেই। কমিশনের দাবি, প্রতিবেশী বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল ভারত।
এই কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আলম ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনার সময় ৯২১ জন ভারতীয় বাংলাদেশে এসেছিলেন। তারমধ্যে ৬৭ জনের কোনও হিসাব নেই। তাঁরা কোন দিক দিয়ে এসেছিলেন, কোথা দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন, জানা যাচ্ছে না। আমরা জানতে পেরেছি, প্রতিবেশী বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল ভারত। সেনাবাহিনী ও বিজিবি-কে দুর্বল করতে চেয়েছিল।' ফজলুরের কথায়, ‘ভারত থেকে আসা সেই ৬৭ জন কোথায়, কেন তাঁরা এলেন, কোথায় গেলেন, তা খুঁজে বার করার জন্য সরকারকে আমরা সুপারিশ করেছি। বিষয়টি ভারতের কাছে জানতে চাওয়ার পরামর্শও দিয়েছি।’ এ বিষয়ে ভারতের কাছে জবাব চাওয়া হতে পারে। তবে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ২০০৯ সালের ঘটনা নিয়ে নয়া দিল্লিকে ঢাকা কোনও চিঠি দেবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনা সরকারের রাজনৈতিক ব্যর্থতাকে দায়ী করেছে কমিশন। পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ব্যর্থতাও ছিল বলে দাবি। এছাড়া, কিছু সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অপেশাদারিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে। বলা হয়েছে, সেনা সদর দফতরের হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত। তার প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন তাপস। আওয়ামী লিগের একাধিক নেতার নামও উঠে এসেছে তদন্তে।












