India on Trump's Board of Peace: মোদীকে চিঠি লিখেছিলেন ট্রাম্প, শান্তি বোর্ডে কি ভারত যোগ দেবে? কী বলল বিদেশ মন্ত্রক
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতকেও এই বোর্ড অফ পিসে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এখনও সেই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি দিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই বোর্ড অফ পিস নিয়ে সরকারের বর্তমান অবস্থানের বিষয়ে মুখ খোলেন।
ডোনল্ড ট্রাম্পের গঠিত বোর্ড অফ পিসে অংশ নিয়েছে কয়েকটি মাত্র দেশ। ইউরোপের বড় কোনও দেশ অংশ নেয়নি মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই শান্তির বোর্ডে। এদিকে ট্রাম্পের মন জয় করতে পাকিস্তান ইতিমধ্যেই অংশ নিয়েছে বোর্ড অফ পিসে। এবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতকেও এই বোর্ড অফ পিসে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এখনও সেই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি দিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই বোর্ড অফ পিস নিয়ে সরকারের বর্তমান অবস্থানের বিষয়ে মুখ খোলেন।

সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, 'আমরা মার্কিন সরকারের কাছ থেকে শান্তি বোর্ডে যোগদানের জন্য একটি আমন্ত্রণ পেয়েছি। আমরা বর্তমানে এই প্রস্তাবটি বিবেচনা করছি এবং এটি পর্যালোচনা করছি।' এদিকে গাজা নিয়ে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার বিষয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, 'পশ্চিম এশিয়া এবং গাজায় যেকোনও ধরনের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রক্রিয়ার পক্ষে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।'
গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে 'বাহিনী' গড়ে তোলার ডাক দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেটাই বোর্ড অফ পিস হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছে। সেই বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহপ্রকাশ করেছিল বাংলাদেশের ইউনুস সরকারও। এরই মাঝে ভারতকে 'বোর্ড অফ পিস' বা শান্তির বোর্ডে যোগদান করার আহ্বান জানিয়ে কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকায় ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে ট্রাম্প এই শান্তির বোর্ড গঠন করছেন। গাজা ও এর আশেপাশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ট্রাম্পের বোর্ড অফ পিসকে একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে তুলে ধরছে ওয়াশিংটন। জল্পনা চলছে, এই সংস্থাটি অন্যান্য বৈশ্বিক সংঘাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মূলত, এই নতুন সংস্থাকে গাজার পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এই বোর্ডের সভাপতিত্ব করবেন ট্রাম্প। ভারত যদি ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে, তাহলে তিন বছরের জন্য বোর্ডের অংশ হয়ে যাবে। তবে বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, কোনও দেশকে এই বোর্ডের সদস্য থাকতে হলে ১ বিলিয়ন ডলার খসাতে হবে পকেট থেকে। তবে সদস্যপদ পাওয়ার পরে আগামী তিন বছরের জন্য কোনও দেশকে আর কোনও আর্থিক অবদান রাখতে হবে না।
এই আবহে মোদীকে লেখা চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ, ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী প্রচেষ্টা এই বোর্ড অফ পিস। এই শান্তির বোর্ডকে 'বৈশ্বিক সংঘাত সমাধানে একটি সাহসী নতুন পদ্ধতি' হিসেব উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। মোদীকে লেখা চিঠিতে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য তার ২০ দফা রোডম্যাপের রূপরেখাও তুলে ধরেছেন। এক্স-এ এক পোস্টে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বলেন, মোদীকে ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডে যোগদানের আমন্ত্রণ জানাতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, গাজায় স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি অর্জনে বোর্ড কার্যকরী প্রশাসনকে সহায়তা করবে। ভারত ছাড়াও ইজরায়েল, মিশর, তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান, কানাডা এবং আর্জেন্টিনা সহ প্রায় ৫০টি দেশকে এই বোর্ডে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে তাঁর সেই বোর্ডে কয়েকটি মাত্র দেশই অংশ নিয়েছে এখনও পর্যন্ত।
E-Paper











