'জনগণের ইচ্ছাকে...,' ইমরানের জেলযাত্রা থেকে মুনিরের সুরক্ষা, পাকিস্তানকে তুলোধোনা ভারতের
পাকিস্তানকে ‘বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থল’ হিসেবে চিহ্নিত করে ভারতের প্রতিনিধি সিন্ধু জলচুক্তি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের সপক্ষে যুক্তি দেন।
জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান জানানোর অনন্য উপায় অবলম্বন করেছে ইসলামাবাদ। রাষ্ট্রসংঘে ফের একবার পাকিস্তানকে তুলোধোনা করল ভারত। পাকিস্তানে সরকার বদল থেকে শুরু করে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জেলযাত্রা, সেনাপ্রধান আসিফ মুনিরের আজীবন সুরক্ষার নামে কীভাবে গণতন্ত্রের গণহত্যা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশের সেই কুকীর্তি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে ভারত। এক কথায়, ইসলামাবাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট ও দীর্ঘদিনের সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদকে এক সুতোয় বেঁধে কড়া বার্তা দিল নয়াদিল্লি।

মঙ্গলবার ‘লিডারশিপ ফর পিস’ শীর্ষক খোলা বিতর্কে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বতানেনি স্পষ্ট করে জানান, পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক সঙ্কট ও সন্ত্রাসে মদত দেওয়া নীতির মধ্যে গভীর যোগ রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের মঞ্চে পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থাকে বিদ্ধ করে পার্বতানেনি বলেন, 'পাকিস্তান জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান জানায় এক অনন্য উপায়ে- একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে জেলে ভরে, তাঁর দলকে নিষিদ্ধ করে এবং সেনাবাহিনীকে দিয়ে ২৭তম সংশোধনের মাধ্যমে কার্যত এক সাংবিধানিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে।' ওই সংশোধনীর মাধ্যমে পাক সেনাপ্রধান অসিম মুনিরকে আজীবন দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ১৯০ মিলিয়ন ইউরোর দুর্নীতি মামলায় জেলে রয়েছেন ইমরান খান। পাশাপাশি ৯ মে, ২০২৩-এর অশান্তির ঘটনায় সন্ত্রাসবাদ দমন আইনে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে। সম্প্রতি ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ এক্স সিইও ইলন মাস্কের কাছে একটি আবেদন জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইমরান খানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে করা তাঁর পোস্টগুলি এক্সে ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এগুলি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে দেওয়া হচ্ছে না। জেমিমা বলেন, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ইমরান খানের যে সঙ্গে আচরণ করছে এবং তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দেয়া আপডেটগুলো জনসাধারণের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।
একই সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের মন্তব্যকে ‘অপ্রয়োজনীয় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে খারিজ করে দেয় ভারত। পার্বতানেনির বক্তব্য, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, এবং এই বিষয়ে পাকিস্তানের বারবার মন্তব্য তাদের ভারতের ক্ষতি করার ‘অবসেশন’-এরই প্রমাণ। তাঁর কটাক্ষ, 'যে দেশ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হয়েও প্রতিটি মঞ্চে বিভাজনমূলক এজেন্ডা নিয়ে আসে, তাদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করা যায় না।' পাকিস্তানকে ‘বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থল’ হিসেবে চিহ্নিত করে ভারতের প্রতিনিধি সিন্ধু জলচুক্তি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের সপক্ষে যুক্তি দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষ নিহত হন। পার্বতানেনির কথায়, '৬৫ বছর আগে সদিচ্ছার ভিত্তিতে সিন্ধু জলচুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ভারত। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তান তিনটি যুদ্ধ ও হাজার হাজার সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে চুক্তির মূল ভাবনাকেই লঙ্ঘন করেছে। তাই পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্যভাবে সীমান্ত-পার সন্ত্রাস বন্ধ না করা পর্যন্ত চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'












