‘উপযুক্ত ব্যবস্থা!’ আসন্ন বাণিজ্য যুদ্ধ? মেক্সিকোর ৫০% শুল্ক-চাপে পাল্টা প্রস্তুতি ভারতের
জাতীয় শিল্প ও উৎপাদকদের সুরক্ষার নামে আরোপ করা এই শুল্ক ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের উপরে মেক্সিকোর একতরফা শুল্ক সিদ্ধান্ত ঘিরে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। বেশ কিছু ভারতীয় পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেক্সিকো সরকার। আর এই সিদ্ধান্তের পর নয়া দিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বাণিজ্যের স্বার্থে প্রয়োজন হলে 'উপযুক্ত ব্যবস্থা' নিতে পিছপা হবে না। শনিবার কেন্দ্রীয় সরকারের এক আধিকারিক এমনই বার্তা দিয়েছেন।

ওই আধিকারিক বলেন, 'ভারত গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার চেষ্টা চালাবে। কিন্তু প্রয়োজন হলে ভারতীয় রফতানিকারকদের স্বার্থ রক্ষায় উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকারও ভারতের আছে।' পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিলটি প্রাথমিকভাবে উত্থাপনের সময় থেকেই মেক্সিকোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারত। ওই আধিকারিক জানান, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক সমাধান খুঁজতে মেক্সিকোর অর্থ মন্ত্রকের সঙ্গে কাজ করছে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক।’ এ বিষয়ে ভারতের বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল এবং মেক্সিকোর উপমন্ত্রী লুইস রোসেন্দোর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে। আগামিদিনে আরও বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত সরকার জানিয়েছে, আগাম কোনও আলোচনা ছাড়াই ‘একতরফাভাবে’ শুল্ক বাড়ানো সহযোগিতামূলক অর্থনৈতিক সম্পর্কের চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে এটি বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার পূর্বানুমানযোগ্যতা ও স্বচ্ছতার নীতিরও পরিপন্থি। জাতীয় শিল্প ও উৎপাদকদের সুরক্ষার নামে আরোপ করা এই শুল্ক ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
ওই আধিকারিক আরও বলেন, 'ভারত মেক্সিকোর সঙ্গে অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দেয় এবং উভয় দেশের ব্যবসা ও ভোক্তাদের স্বার্থে একটি স্থিতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে যৌথভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।' মেক্সিকোর দৈনিক পত্রিকা এল ইউনিভার্সাল-এর তথ্য অনুযায়ী, নতুন শুল্কের আওতায় যেসব পণ্য পড়ছে তারমধ্যে রয়েছে- অটো পার্টস, হালকা যানবাহন, পোশাক, প্লাস্টিক, স্টিল, গৃহস্থালি সামগ্রী, খেলনা, বস্ত্র, আসবাব, জুতো, চামড়াজাত পণ্য, কাগজ ও কার্ডবোর্ড, মোটরসাইকেল, অ্যালুমিনিয়াম, ট্রেইলার, কাচ, সাবান, সুগন্ধি ও প্রসাধনী। যেসব দেশের সঙ্গে মেক্সিকোর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই, সেসব দেশ এই শুল্কের মুখে পড়বে। এরমধ্যে ভারত ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া, চিন, থাইল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়াও রয়েছে। এদিকে, ভারত ও মেক্সিকোর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের চুক্তি হলে ভবিষ্যতে ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে এ ধরনের শুল্ক-ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।












