India-US Trade Deal Update: বাণিজ্য চুক্তির নথিতে পরিবর্তন আমেরিকার, কী বলছে ভারত?
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে বলা হয়, 'আপনারা জানেন যে, পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কাঠামো সম্পর্কে ভারত-মার্কিন বিবৃতি করেছিল ৭ ফেব্রুয়ারি। বিবৃতিটি এই বিষয়ে আমাদের পারস্পরিক বোঝাপড়ার কাঠামো এবং ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে।'
ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি সংক্রান্ত ফ্যাক্টশিট প্রকাশ করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল হোয়াইট হাউজ। পরে সেই নথিতে বেশ কিছু পরিবর্তন করে আমেরিকা। সেই সব পরিবর্তন নিয়ে এবার মুখ খুলল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে দেন, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে একমাত্র ভারত-মার্কিন যৌথ বিবৃতিই পারস্পরিক বোঝাপড়া প্রতিফলিত হচ্ছে। অর্থাৎ, আমেরিকার এই তথাকথিত ফ্যাক্টশিটকে পাত্তা দিতেই নারাজ ভারত।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে বলা হয়, 'আপনারা জানেন যে, পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কাঠামো সম্পর্কে ভারত-মার্কিন বিবৃতি করেছিল ৭ ফেব্রুয়ারি। বিবৃতিটি এই বিষয়ে আমাদের পারস্পরিক বোঝাপড়ার কাঠামো এবং ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে। উভয় পক্ষ এখন এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য এবং চুক্তিটি বাস্তবায়ন করার জন্য কাজ করবে দুই দেশ।'
উল্লেখ্য, এর আগে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করে হোয়াইট হাউজ দাবি করেছিল, ভারত নাকি মার্কিন ডালের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এরই সঙ্গে সেই নথিতে বলা হয়েছিল, ভারত নাকি আমেরিকা থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করতে দায়বদ্ধ (Committed)। তবে সেই বাক্যটি বদলে বলা হয়, ভারত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনতে আগ্রহী (Intended)। এরই সঙ্গে ফ্যাক্টশিট থেকে 'ডাল'-এর উল্লেখ মুছে ফেলা হয়। কারণ এর আগে এক তরফা ভাবে আমেরিকা সেই সব ঘোষণা করে দিয়েছিল তাদের ফ্যাক্টশিটে।
প্রসঙ্গত, ভারত এবং আমেরিকা অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে ৬ ফেব্রুয়ারি। এই চুক্তির অধীনে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের উপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করবে। এই নিয়ে যৌথ বিবৃতি জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, 'যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি দুই দেশের অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।' এই বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ভারত অনেক মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আমেরিকার কৃষি ও খাদ্য পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে জোয়ার, শুকনো ডিস্টিল শস্য, তাজা এবং প্রক্রিয়াজাত ফল, বাদাম, সয়াবিন তেল এবং অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়। ইউএস অর্ডার ১৪২৫৭-এর অধীনে, ভারতের পণ্যের ওপর এখন ১৮ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক ধার্য করবে আমেরিকা। পোশাক, চামড়া, জুতো, প্লাস্টিক, রবার, জৈব রাসায়নিক, আলংকারিক সামগ্রী, হস্তনির্মিত জিনিসপত্র ও যন্ত্রপাতি এই শুল্ক ছাড়ের আওতায় পড়বে।
এই চুক্তির আওতায় ভারত আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জ্বালানি পণ্য, বিমান ও তাদের যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, কারিগরি পণ্য কিনতে পারে। কিছু ভারতীয় পণ্যের উপর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণরূপে শুল্ক প্রত্যাহার করবে। এর মধ্যে রয়েছে রত্ন, হীরা, বিমানের যন্ত্রাংশ, জেনেরিক ওষুধ। বিমান এবং বিমানের কিছু অংশের জন্য অ্যালুমিনিয়াম, ইস্পাত এবং তামা আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা শুল্কের অধীনে নির্দিষ্ট কিছু মোটরগাড়ি যন্ত্রাংশের জন্য শুল্ক ছাড় পাবে ভারত।
E-Paper











