Indian Army Chief on China: বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে শাকসগাম উপত্যকা, চিনকে স্পষ্ট বার্তা ভারতীয় সেনাপ্রধানের
১৯৬৩ সালে পাকিস্তান অবৈধভাবে দখলকৃত ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে শাকসগাম উপত্যকার ৫১৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা চিনের কাছে হস্তান্তর করে।
'চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের ১৯৬৩ সালের চুক্তি বেআইনি ছিল।' শাকসগাম উপত্যকা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। চিনের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'শাকসগাম উপত্যকায় আমরা চিনের কোনও কর্মকাণ্ড স্বীকার করি না। আর চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোরের ক্ষেত্রে দুই দেশই বেআইনি কার্যকলাপ করে চলেছে। সেগুলি আমরা স্বীকৃতি দিই না।'

উল্লেখ্য, ভারতের আপত্তির সত্ত্বেও ফের একবার ১২ জানুয়ারি শাকসগাম উপত্যকার ওপর নিজেদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছিল চিন। শাকসগামে চিন নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে। তা নিয়ে ভারত আপত্তি জানিয়েছিল। এই নিয়ে আবার চিন ১২ জানুয়ারি বলল, এই অঞ্চলে তাদের অবকাঠামো প্রকল্পগুলি 'একেবারে যুক্তিসঙ্গত'। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি শাকসগাম উপত্যকায় চিনের অবকাঠামো প্রকল্পগুলির সমালোচনা করে ভারত বলেছিল, এই উপত্যকা ভারতীয় ভূখণ্ডের অন্তর্গত এবং তার স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ভারতের রয়েছে। তবে ভারতের সেই আপত্তি চিনের কানে গেল না। উল্লেখ্য, ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান অবৈধভাবে দখলকৃত ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে শাকসগাম উপত্যকার ৫১৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা চিনের কাছে হস্তান্তর করে।
গত ৯ জানুয়ারি বিদেশ মন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, 'শাকসগাম উপত্যকা ভারতের ভূখণ্ড। ১৯৬৩ সালে স্বাক্ষরিত তথাকথিত চিন-পাকিস্তান 'সীমান্ত চুক্তি'কে আমরা কখনও স্বীকৃতি দিইনি। আমরা ধারাবাহিকভাবে বজায় রেখেছি যে এই চুক্তিটি অবৈধ। আমরা তথাকথিত চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরকে (সিপিইসি) স্বীকৃতি দিই না, কারণ এটি ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে গেছে। অবৈধভাবে এবং জোরপূর্বক পাকিস্তান সেই এলাকা দখল করে রেখেছে। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের পুরো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তান ও চিন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি বহুবার পরিষ্কার করা হয়েছে।'
প্রসঙ্গত, বেশ কয়েক বছর আগে শুরু হয়েছিল শি জিনপিংয়ের স্বপ্নের 'বেল্ট অ্যন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' প্রকল্প। এর অধীনে চিন-পাক ইকোনমিক করিডোর রয়েছে। চিন থেকে গিলগিট-বালতিস্তান, পাক অধিকৃত কাশ্মীর হয়ে এই অর্থনৈতিক করিডর চলে গিয়েছে পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত গাদাওয়ার বন্দর পর্যন্ত। অপরদিকে করিডরের একদিক চলে গিয়েছে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত। তবে এই প্রকল্পে ভারতের সার্বভৌমত্বের তোয়াক্কা না করেই কাজ করে গিয়েছে চিন। এই আবহে ভারত প্রথম থেকেই এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে এসেছিল। ২০১৭ সালে যখন প্রথমবার বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তখনই ভারত এক বিবৃতি প্রকাশ করে এই প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিল।
E-Paper











