দামের পতনে সর্বকালের রেকর্ড! ডলারের নিরিখে ৯০.৪০ টাকা পেরিয়ে গেল ভারতীয় মুদ্রা, কারণ কী?

এই ‘রক্তক্ষরণে’র জেরেই চলতি বছরে এশিয়ার সবচেয়ে খারাপ পারফর্ম করা মুদ্রার তকমা জুটেছে টাকার।

Published on: Dec 11, 2025 2:59 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

টাকার দামের রেকর্ড পতন। গত কয়েক দিন ধরেই ডলারের নিরিখে টাকার পতন অব্যাহত ছিল। আরও কমল টাকার দাম। বৃহস্পতিবার ডলারের নিরিখে টাকার দর ৯০.৪২-এ এসে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, এক ডলার কিনতে গেলে এখন গুণতে হবে ৯০ টাকারও বেশি। আর বছর শেষ হওয়ার মুখে ডলারের বিনিময়ে টাকার দরে দেদার পতনে ক্রমশ কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়ছে দেশের বাণিজ্য মহল তথা কেন্দ্রীয় সরকারের।

দামের পতনে সর্বকালের রেকর্ড! (সৌজন্যে টুইটার )
দামের পতনে সর্বকালের রেকর্ড! (সৌজন্যে টুইটার )

সামগ্রিকভাবে বৃহস্পতিবার টাকার পতনের পরিমাণ প্রায় ৫ শতাংশ। আর এই ‘রক্তক্ষরণে’র জেরেই চলতি বছরে এশিয়ার সবচেয়ে খারাপ পারফর্ম করা মুদ্রার তকমা জুটেছে টাকার। অর্থাৎ, পতনের নিরিখে এ বছর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের থেকেও বেহাল দশার মুখে পড়তে হয়েছে ভারতীয় মুদ্রাকে। কিন্তু কেন এই অবস্থা? বিশেষজ্ঞদের দাবি, একযোগে একাধিক ফ্যাক্টরের সম্মিলিত ধাক্কায় টাকার দরে এই রেকর্ড পতন। বিশেষজ্ঞরা প্রথমেই বাণিজ্য ঘাটতির উল্লেখ করছেন। অক্টোবরে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ রেকর্ড বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৪ হাজার ১৬৮ কোটি ডলার। এর ফলে চাপ বেড়েছে টাকার উপর। একইসঙ্গে রয়েছে মার্কিন চড়া শুল্কের চাপ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরে বিলম্বও টাকার দামের পতনের নেপথ্যে রয়েছে বলে মনে করা করছেন তাঁরা। কারণ, এর ফলে বাণিজ্যিক গতিবিধি শ্লথ হয়েছে। উৎপাদন ক্ষেত্র ধাক্কা খেয়েছে, কমেছে রপ্তানি। এর উপর বিদেশি বিনিয়োগ হাতছাড়া হওয়াটা গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদেশি লগ্নিকারীদের মধ্যে ভারতীয় শেয়ার বেচে দেওয়ার ধারা অব্যাহত থাকায় চাপ আরও বেড়েছে।

ব্লুমবার্গ-এর পরিসংখ্যান বলছে, টাকা-ডলার বিনিময় দর ৮৫ থেকে ৯০-এর মনস্তাত্ত্বিক গণ্ডি পেরোতে মাত্র ২৩১ দিন লেগেছে। এত কম সময়ে টাকার ৫ টাকা পতন বাণিজ্য ঘাটতি এবং সামগ্রিক ভাবে ভারতীয় অর্থনীতির পক্ষে বড়সড় ধাক্কা, দাবি বাজার বিশেষজ্ঞদের। এর আগে ৪৫-৫০ এর কোঠা ৪৫ দিন এবং ৬০-৬৫’র কোঠা ৪২ দিনে পার হলেও, অর্থনীতিবিদদের দাবি, ওই সময়ে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যক্ষেত্র পরিকাঠামোগত বদলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। যে পরিস্থিতি এখন ততটা প্রকট নয়। কিন্তু বিশ্ব বাজারে আর্থিক এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এতটাই অনিশ্চয়তা রয়েছে, যে টাকার দরে পতন ঠেকানো যাচ্ছে না। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে বুধবার পর্যন্ত ডলারের বিনিয়মে টাকার দর নেমেছে ৪.৭৬%। যে অঙ্ক তাকে এশিয়ার কারেন্সিগুলির মধ্যে সবথেকে ‘খারাপ পারফর্মার’-এর তকমা দিয়েছে। এখন সবাই তাকিয়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভ-এর বৈঠকের দিকে। সেখানে কোনও আশার আলোর সন্ধান, টাকার পতনে সাহায্য করতে পারে, দাবি বিশেষজ্ঞমহলের বড় অংশের।