Indian Minister in USA for Meeting: শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের চোখরাঙানির মাঝেই ওয়াশিংটনে ভারতের মন্ত্রী, আলোচনা হবে...
ট্রাম্প ভারতকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে চলেছেন, বারবার দিচ্ছেন আরও শুল্ক চাপানোর হুমকি। এরই মাঝে ওয়াশিংটনে পৌঁছলেন ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি সেখানে মার্কিন রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন। জানা গিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ নিয়ে কথা হবে দুই দেশের মন্ত্রীর।
ভারতের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে চলেছেন, বারবার দিচ্ছেন আরও শুল্ক চাপানোর হুমকি। এরই মাঝে ওয়াশিংটনে পৌঁছলেন ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি সেখানে মার্কিন রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন। জানা গিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ নিয়ে কথা হবে দুই দেশের মন্ত্রীর।

এদিকে শুল্ক ইস্যুতে ভারত-মার্কিন দ্বন্দ্বের আবহে ওয়াশিংটনের এই বৈঠক বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে স্কট বেসেন্ট নিজেও ভারতকে একাধিকবার আক্রমণ শানিয়েছিলেন। ট্রাম্পের সুরে সুর মেলাতে গিয়ে ভারতকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর দাবি করেছিলেন তিনি। এহেন স্কট বেসেন্ট এবার ভারতীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন। যা থেকে বোঝা যাচ্ছে, ট্রাম্প যাই বলুন না কেন, প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে দুই দেশের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য চেষ্টা চলছে। এদিকে ভারতও কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে আমেরিকার সঙ্গে এই সম্পর্কের বিষয়টি।
কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন, মোদীর নাকি উচিত ছিল তাঁকে খুশি করা। গত ৪ জানুয়ারি ভারতের ওপর আরও শুল্ক বৃদ্ধির হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যে 'জ্বালা ধরেছে' তাঁর মনে। এর আগে ট্রাম্প নিজে নিজেই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, ভারত নাকি রাশিয়ার থেকে তেল কিনবে না। তবে তাঁর সেই ভিত্তিহীন ঘোষণা কার্যকর হয়নি। ভারত এখনও রাশিয়ার সাথে ব্যবস্থা করছে। এই আবহে এবার ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করার কথা বলন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী মোদী খুব ভালো মানুষ। তিনি জানতেন আমি খুশি নই। আমাকে খুশি করা গুরুত্বপূর্ণ। তারা আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য করে, এবং আমরা খুব দ্রুত তাদের উপর শুল্ক বাড়াতে পারি।' সেই কথা বলার একদিন পরই ট্রাম্প আবার বলেন, 'মোদী তাঁর সঙ্গে খুশি নন।' এর পাশাপাশি ফের শুল্ক নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ট্রাম্প দাবি করলেন, ভারতের মতো দেশ শুল্ক দিচ্ছে বলে আমেরিকা ধনী হয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প মুখে দাবি করছেন, রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় ভারতের ওপর শুল্ক চাপানো হচ্ছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য বেড়েছে ট্রাম্পের জমানাতেই। এদিকে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে মধ্যস্থতার দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। ভারত সেই দাবি অস্বীকার করে। এরপর থেকেই নিজের মনের মতো গল্প বানিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি নাকি মোদীকে ফোন করে যুদ্ধ বন্ধ করতে বলেছিলেন। এবং যুদ্ধ করলে বাণিজ্য চুক্তি না করা নিয়ে মোদীকে বার্তা দেওয়ার পর নাকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নাকি বলেছিলেন, 'না না বাণিজ্য চুক্তি তো করতে হবে'। ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ফোন করে করেছিলাম। আমি দুই দেশকেই বলেছিলাম যে আমি প্রতিটি দেশের উপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব... যার মানে তারা কখনও আর আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না। আমি শুল্কের কথা বলে শুধু ভালো ভাষায় বোঝাতে চেয়েছিলাম, আমরা আপনার সাথে ব্যবসা করতে চাই না।'
প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এরপরই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর ৭ মে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে 'অপারেশন সিঁদুর' শুরু করে ভারত। ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়ে শতাধিক সন্ত্রাসবাদীকে খতম করে ভারত। এর পরের দিনগুলিতে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল। পাকিস্তান ভারতীয় বিমানঘাঁটিগুলিতে আঘাত হানার চেষ্টা করেছিল। পালটা জবাবে পাকিস্তানের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিল ভারত। পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি অকেজো করে দিয়েছিল ভারত। রাওয়ালপিন্ডি, করাচি, লহোরের মতো শহরে আছড়ে পড়েছিল ভারতীয় মিসাইল। এই আবহে পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির জন্য কাতর আর্তি জানিয়েছিল ভারতের কাছে। সেই আর্তি মেনে অপারেশন সিঁদুর স্থগিত করতে সহমত হয়েছিল ভারত।
এরপর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার ভারত-পাক আলোচনার মধ্যস্থতার কৃতিত্ব নিতে চেয়েছেন। তাঁর দাবি, বাণিজ্য আলোচনাকে হাতিয়ার করে ভারত-পাক সংঘাত থামান তিনি। তবে নয়াদিল্লি বারবার এই দাবি অস্বীকার করে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার সংঝোতা দ্বিপক্ষীয়ভাবে হয়েছে। পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) ভারতীয় ডিজিএমও-কে ফোন করে হামলা ব্ধের আর্জি জানিয়েছিলেন। এই আবহে ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল। অন্যদিকে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল পাকিস্তান। তবে ভারত সেই সবে পাত্তা দেয়নি। এই সবের মাঝেই ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা চাপিয়েছেন ট্রাম্প। মোদীকে একটা সময় ৪ বার ফোন করলেও মোদী কথা বলেননি ট্রাম্পের সঙ্গে। জি৭ সম্মেলনের সময় ফোনে কথোপকথন চলাকালীন ট্রাম্পের সংঘর্ষবিরতি দাবির বিরুদ্ধে সরবও হয়েছিলেন মোদী। তবে ট্রাম্প প্রায় প্রতিদিনই যপ করার মতো একবার করে দাবি করে চলেন, তিনি ৭-৮টা যুদ্ধ থামিয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম হল ভারত-পাক যুদ্ধ। এবং তাতে নাকি তিনি বাণিজ্যকে হাতিয়ার করেছেন। তবে সেই বাণিজ্য চুক্তি আজও সম্পন্ন হল না ভারত-আমেরিকার সঙ্গে।
E-Paper











