ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত! কাটছে শুল্ক জট? কোন পথে দু'দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক?
বর্তমানে ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৯১ বিলিয়ন ডলার। নতুন চুক্তির লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে তা বাড়িয়ে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া।
ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি শীঘ্রই চূড়ান্ত হতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে চলে আসা উচ্চ শুল্ক, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বাণিজ্য বৈষম্য নিয়ে অচলাবস্থা কাটাতে এই চুক্তির গুরুত্ব বিশাল। ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন দাবি করেছেন, আগামী বছর মার্চ মাসের মধ্যেই ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির সম্ভবত চূড়ান্ত হতে চলেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক এবং আরও ২৫ শতাংশ ছিল রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর 'শাস্তি' হিসেবে চাপানো অতিরিক্ত শুল্ক। এই পরিস্থিতিতে ভারতের রফতানি বড়সড় ধাক্কা খায়। এখন নতুন চুক্তির মাধ্যমে এই চাপ কমানোর চেষ্টা করছে উভয় দেশ। ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ২০২৭ অর্থবর্ষে ভারতের একটি শক্তিশালী দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে এবং রুপির মৌলিক মূল্যের তুলনায় অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, মার্কিন কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে তাঁরা এখনও পর্যন্ত ভারতের থেকে বাণিজ্য প্রস্তাব পেয়েছেন। বর্তমানে ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৯১ বিলিয়ন ডলার। নতুন চুক্তির লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে তা বাড়িয়ে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ করে বাদাম, পিস্তাবাদাম, আপেল, ইথানল ও জেনেটিকালি মডিফায়েড ফসলের জন্য ভারতের বাজারে আরও সুযোগ চাইছে।
পিটিআই-র প্রতিবেদন অনুসারে, মঙ্গলবার সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস সাবকমিটির শুনানিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, ভারতের কাছ থেকে এযাবৎকালের সেরা প্রস্তাব পেয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, 'আমরা যখন এই বিষয়ে আলোচনা করছি, তখন আমাদের একটি প্রতিনিধিদল নয়া দিল্লিতে রয়েছে। শস্য, মাংস এবং অন্য কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতের নির্দিষ্ট আপত্তি রয়েছে। আপনারা ঠিকই বলেছেন, ওদের (ভারতের) সঙ্গে বাণিজ্যিক বোঝাপড়ায় খুব কঠিন কিছু বাধা রয়েছে। আমি এ বিষয়ে ১০০ শতাংশ একমত। তবে ওরা বেশ কিছু ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে। ওরা আমাদের সঙ্গে যে ধরনের প্রস্তাব নিয়ে কথা বলেছে, তা একটি দেশ হিসাবে আমাদের কাছে এযাবৎকালের সেরা প্রস্তাব। আমি মনে করি, একটি কার্যকর বিকল্প বাজার।' অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বুধবার নিশ্চিত করেছেন যে মার্কিন প্রতিনিধি দল বর্তমানে নয়া দিল্লিতে রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের এই সফর দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। শুল্ক, রুশ তেল নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ এবং ২০২৬ সালের জন্য মার্কিন নীতির মধ্যে, এই আলোচনাগুলি ভারতের রফতানি সম্ভাবনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।












