'৪৭ বছর ধরে মৃত!' গণ-বিক্ষোভে জ্বলছে ইরান, রাজপথে বৃদ্ধার 'রক্তাক্ত' প্রতিবাদ

তেহরানে বিক্ষোভের রাতের ওই ভিডিও ক্লিপটি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন ইরানের নির্বাসিত কর্মী মাসিহ আলিনেজাদ।

Published on: Jan 09, 2026 8:22 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

গণ-বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ইরান। প্রয়াত রেজা শাহের নির্বাসিত পুত্র নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি খামেনি শাসনের বিরুদ্ধে গণ-বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। এরপরই বৃহস্পতিবার রাতে ইরান জুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ এবং টেলিফোন লাইন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তার তোয়াক্কা না করেই রাজধানী তেহরানের বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে স্লোগান, প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছেন। পাল্টা বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করছে। আর তখনই একজন বয়স্ক মহিলা বিক্ষোভকারীর ইসলামী শাসনব্যবস্থাকে অমান্য করার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যা অর্থনৈতিক দুর্দশা এবং ক্রমবর্ধমান জনরোষের কারণে দেশব্যাপী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠছে।

রাজপথে বৃদ্ধার 'রক্তাক্ত' প্রতিবাদ (সৌজন্যে টুইটার)
রাজপথে বৃদ্ধার 'রক্তাক্ত' প্রতিবাদ (সৌজন্যে টুইটার)

তেহরানে বিক্ষোভের রাতের ওই ভিডিও ক্লিপটি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন ইরানের নির্বাসিত কর্মী মাসিহ আলিনেজাদ। ওই ভাইরাল ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, মুখ থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এমন বৃদ্ধা মহিলাকে তেহরানের রাস্তায় মিছিল করতে এবং সরকার বিরোধী স্লোগান দিতে। ভিডিওতে ওই মহিলাকে বলতে শোনা যায়, 'আমি ভয় পাই না। আমি ৪৭ বছর ধরে মৃত।' ওই মহিলা চিৎকার করে বলছেন। আর ওই মহিলার মুখ থেকে তখন যে লাল তরল বের হচ্ছিল সেটা রক্ত নাকি ভিন্ন কোনও রঙ ব্যবহার করেছিলেন তা স্পষ্ট নয়। ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থা শুরু হয়েছিল ৪৭ বছর আগে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শাহ মহম্মদ রেজা পাহলভিকে উৎখাত করা হয় এবং আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বে একটি শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইরানের এখন সর্বোচ্চ নেতা, আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ মুসাভি খামেনি। অন্যদিকে, ইরানে বিক্ষোভ দ্বাদশ দিনে পড়েছে। জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি, চাকরি না থাকা, জীবনযাত্রার মান পতন-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে ইরানের শাসকদের বিরুদ্ধে।বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সেই দেশের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। তাঁর গণ-বিক্ষোভের ডাকে সাড়া দিয়ে তেহরান এবং অন্যান্য শহরে পথে নামেন বিপুল মানুষ।

সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির বিরুদ্ধে যখন রীতিমতো ফুঁসছে ইরানের জনতা তখন এক্স হ্যান্ডেলে ওই ভিডিও ক্লিপটি শেয়ার করে ইরানি-আমেরিকান সাংবাদিক এবং কর্মী মাসিহ আলিনেজাদ লিখেছেন, 'আমি ভয় পাই না। আমি ৪৭ বছর ধরে মৃত। এটি ইরানের একজন মহিলার কণ্ঠস্বর। যিনি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের উপর বিরক্ত।' তিনি আরও যোগ করেন, '৪৭ বছর আগে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র আমাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং একটি জাতিকে বন্দি করে তুলেছিল। আজ মানুষের হারানোর আর কিছুই নেই, তারা জেগে উঠেছে। ইরান জেগে উঠছে।' এদিকে, বিক্ষোভকারী এবং সেনা-পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে ইরানে এখনও পর্যন্ত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চলা এই বিক্ষোভ ইরানের জনগণকে ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির দ্বারা প্রভাবিত করা যায় কিনা তার প্রথম পরীক্ষা ছিল। রেজা পাহলভির বাবা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের ঠিক আগে ইরান ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। বিক্ষোভে শাহের সমর্থনে চিৎকারও করা হয়েছে। যা অতীতে মৃত্যুদণ্ডের কারণ হতে পারত। কিন্তু এখন ইরানের দুর্বল অর্থনীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভের আগুনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বিক্ষোভগুলি মূলত নেতৃত্বহীন রয়েছে। তবে বিপুল সংখ্যক ইরানি রাস্তায় নেমে স্লোগান দিচ্ছেন, 'স্বৈরশাসকের মৃত্যু!' এবং 'ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের মৃত্যু!' অন্যরা পাহলভির প্রশংসা করে চিৎকার করে বলছেন, 'এটিই শেষ যুদ্ধ! পাহলভি ফিরে আসবে।'