Iran Leader on Nuclear Weapon: 'পরমাণু অস্ত্র হারাম', বলল ইরান, 'দ্বিচারী নীতির' জন্য তোপ আন্তর্জাতিক সংস্থাকে
ইরানি নেতা ডঃ আবদুল মজিদ হাকিম ইলাহি পরমাণু অস্ত্রকে হারাম বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায়নি, কারণ এটি হারাম। ইরান পরমাণু শক্তিকে জনস্বার্থে ব্যবহার করতে চায়।
ইরানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা তথা সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইয়ের প্রতিনিধি ডঃ আবদুল মজিদ হাকিম ইলাহি পরমাণু অস্ত্রকে হারাম বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায়নি, কারণ এটি হারাম। ইরান পরমাণু শক্তিকে জনস্বার্থে ব্যবহার করতে চায়। পরমাণু শক্তির মাধ্যমে ইরান সামাজিক ও মানবিক চাহিদা পূরণ করতে চায় বলে জানান আবদুল মাজিদ। এর আগে ট্রম্পের হামলার হুমকির পর অবশ্য খামেনেই পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে দাবি করেছিলেন, ইরান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম। এরই মাঝে খামেনেইয়ের প্রতিনিধি কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে তাদের 'দ্বিচারী নীতির' জন্য তোপ দাগেন। তাঁর অভিযোগ, ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং এর পরমাণু স্থাপনাগুলো কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে, কিন্তু অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে নীরবতা বিরাজ করছে।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলি হামলা চালিয়েছিল। এদিকে গত মাসে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক বৈঠকে ইরানের কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল সদস্যগুলির মধ্যে। কিছু সদস্য দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পক্ষে সওয়াল করে, অন্যরা তাদের স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করার পক্ষে মত প্রকাশ করে। এমনকী সেই বৈঠকের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এই বিরোধটি ২০১৫ সালের জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (জেসিপিওএ) চুক্তিকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত হয়। ইরান সেই চুক্তি সই করেছিল চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে।
ডঃ ইলাহি ভারত ও ইরানের মধ্যে প্রাচীন সম্পর্কের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইসলামের উত্থানের শত শত বছর আগে থেকেই ভারত ও ইরানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ছিল। ইরানে ভারতীয় গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ানো হত। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সব সময় ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের ওপর জোর দেন। চাবাহার বন্দরের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার আশা প্রকাশ করেন তিনি। এখনও ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ভারতীয় দর্শনের উপর বই পড়ানো হয়। দুটি প্রাচীন সভ্যতার মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে স্কুলে শেখানো হয়। এদিকে বিগত দিনে ইরানে অর্থনৈতিক অস্থিরতার জেরে চরম বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। তবে এখন সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি শাসকদের। এই নিয়ে ডঃ ইলাহি বলেন, 'কিছু লোক রেগে গিয়েছিল, তবে অন্যরা এর ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে খবর ছড়ানো হচ্ছে তা পুরোপুরি সত্য নয়।'
E-Paper











