Iran NOTAM issued: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আশঙ্কা আরও বাড়ল, জারি নোটাম, বন্ধ ইরানের আকাশসীমা

ইরান নিজেদের আকাশসীমা ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের জন্য নোটাম জারি করেছে। ইরানের নোটাম জারির জেরে ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো আন্তর্জাতির উড়ানে বিলম্বের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এই নিয়ে যাত্রীদের আগাম ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাগুলি।

Published on: Jan 15, 2026 10:51 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কি যুদ্ধ হবে? বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্বজুড়ে। পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই আবার ইরান নিজেদের আকাশসীমা ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের জন্য নোটাম জারি করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন তাদের নাগরিকদের ইরান ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। এই আবহে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য ইরান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিনিয়ত ইরানকে যুদ্ধ ও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন। একইসঙ্গে ইরান বলছে, এই ধরনের যেকোনও পরিস্থিতিতে গোটা পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়বে।

ইরান নিজেদের আকাশসীমা ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের জন্য নোটাম জারি করেছে। (HT_PRINT)
ইরান নিজেদের আকাশসীমা ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের জন্য নোটাম জারি করেছে। (HT_PRINT)

এদিকে ইরানের নোটাম জারির জেরে ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো আন্তর্জাতির উড়ানে বিলম্বের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এই নিয়ে যাত্রীদের আগাম ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাগুলি। ইরানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বহু রুটের উড়ানকে এখন ঘুরপথে যাত্রা করতে হতে পারে। এদিকে যে সব আন্তর্জাতিক উড়ান আগের থেকে টেকঅফের জন্য অনুমতি পেয়েছিল, সেগুলিকে যেতে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

এরই মাঝে রিপোর্টে দাবি করা হল, কাতারের আল উদেদ সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনাদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইরানে হামলা করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমেরিকার বিভিন্ন ঘাঁটিতে পালটা হামলা চালানো হবে। এই পরিস্থিতিতে কাতার থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ায় হামলার জল্পনা আরও বেড়েছে। এরই সঙ্গে সেই ঘাঁটিতে থাকা আমেরিকার ৬টি কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কারও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সেনা সরানোর বিষয়ে কাতার সরকার এক বিবৃতি জারি করে বলেছে, পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমেরিকা এই পদক্ষেপ করেছে। উল্লেখ্য, কাতারে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিটা পশ্চিম এশিয়ায় তাদের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি। সেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকে বলে জানা যায়। এর আগে ২০২৫ সালের জুন মাসে আমেরিকা যখন ইরানে বোমা ফেলেছিল, তখন ইরানও পালটা হামলা চালিয়েছিল কাতারের এই মার্কিন ঘাঁটিতে।

এই সবের মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড নাকি বন্ধ হয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, যদি কোনও আন্দোলনকারীকে ইরান সরকার মৃত্যুদণ্ড দেয়, তাহলে ফল ভালো হবে না। তবে সেই হুঁশিয়ারির তোয়াক্কা না করেই ২৬ বয়সি বিক্ষোভকারী ইরফান সুলতানিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছিল। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের মৃত্যুদণ্ড নাকি বন্ধ করেছে ইরান। ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও প্রস্তাবিত মৃত্যুদণ্ড দুটোই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইরানে। ট্রাম্প বলেন, 'আমি জানতে পেরেছি যে, ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে এখন কাউকে ফাঁসি দেওয়া হবে না।' তবে কে তাঁকে এই তথ্য দিয়েছে, জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প কারও নাম বলতে অস্বীকার করেন। তিনি শুধু বলেন, এই তথ্য ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সূত্র থেকে এসেছে। এই আবহে ট্রাম্প বলেন, এখন তাঁর প্রশাসন অপেক্ষা করবে এবং নজর রাখার নীতি গ্রহণ করবে। তিনি আরও দাবি করেন, হোয়াইট হাউস ইরানের কাছ থেকে 'খুব ভালো বার্তা' পেয়েছে। তবে তিনি এখনও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি।