পারমাণবিক অস্ত্র-খনিজ সম্পদ! ঐতিহাসিক চুক্তির পর জয়শঙ্কর-রুবিও বৈঠক, নতুন অধ্যায়...

এই সফরের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প–প্রধানমন্ত্রী মোদী ফোনালাপের পর বড় ঘোষণা আসে-ভারতীয় পণ্যের উপর পাল্টা শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

Published on: Feb 04, 2026 12:50 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি সই হওয়ার পরেই ভারত-মার্কিন সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হল। মঙ্গলবার মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে দেখা করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ওয়াশিংটনে বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও। সূত্রের খবর, দু’পক্ষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাণিজ্য, শক্তি, পারমাণবিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস’ বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, প্রযুক্তি ও সাপ্লাই চেইন নিরাপত্তা।

ঐতিহাসিক চুক্তির পর জয়শঙ্কর-রুবিও বৈঠক (@DrSJaishankar)
ঐতিহাসিক চুক্তির পর জয়শঙ্কর-রুবিও বৈঠক (@DrSJaishankar)

এই সফরের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প–প্রধানমন্ত্রী মোদী ফোনালাপের পর বড় ঘোষণা আসে-ভারতীয় পণ্যের উপর পাল্টা শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই শুল্ক ছাড়কে ভারতের রপ্তানিকারকদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে উৎপাদন শিল্প, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এরমধ্যেই ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মার্কিন সফরে গিয়েছেন জয়শঙ্কর। সেখানে তিনি একের পর এক বৈঠক করেন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিওর সঙ্গে। এই প্রেক্ষাপটে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট বার্তা দিলেন, দুই গণতান্ত্রিক দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এখন আরও গভীর ও কৌশলগত পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস’ বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈঠকের পর এক্স পোস্টে জয়শঙ্কর লেখেন, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা এগিয়ে নিতে ‘উপকারী আলোচনা’ হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, বাণিজ্য সহজীকরণ ও নিয়ন্ত্রক সমন্বয়ের মাধ্যমে চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তরফে দেওয়া হয়েছে একটি বিবৃতি। সেখানে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর মধ্যে যে চুক্তি সই হয়েছে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন রুবিও এবং জয়শঙ্কর। নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ উন্মোচন, জ্বালানি নিরাপত্তার মতো বিষয় গুলি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে নিতে যেতে দুই নেতাই একসঙ্গে কাজ করায় উপর জোর দিয়েছেন।' সূত্রের খবর, দুই দেশ খনিজ অনুসন্ধান, খনন ও প্রক্রিয়াকরণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খনিজ সম্পদ সহযোগিতার পেছনে রয়েছে কৌশলগত কারণ। প্রতিরক্ষা উৎপাদন, উন্নত প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন শক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহে বর্তমানে কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীলতা, বিশেষ করে চিনের উপর, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাই বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। এই লক্ষ্যেই ওয়াশিংটনে প্রথম ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস মিনিস্টেরিয়াল’ আয়োজন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে ৫০টিরও বেশি দেশ অংশ নেবে। এস জয়শঙ্করও এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০টি দেশ চিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে একটি জোটে যোগ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।