Bangladesh Jamaat-e-Islami Update: 'বাংলাদেশ গ্রাসের ছক…', ভারতের নামে প্রলাপ জামাত নেতার, ডাক পেলেও সভায় যায়নি BNP

ওসমান হাদিকে গুলি করার পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ ডিসেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আয়োজিত এক জনসভায় এনসিপি, জামাতের নেতারা প্রকাশ্যে ভারত বিরোধী জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার কথা বলেন। এরই মাঝে জামাতের সাধারণ সম্পাদক গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, বাংলাদেশকে নাকি ভারতের করদরাজ্য বানানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

Published on: Dec 16, 2025 8:23 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ফের একবার বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ভারত বিরোধী প্রলাপ। কোনও প্রমাণ ও যুক্তি ছাড়াই ভারতের বিরুদ্ধে 'ফাঁকা কলসির' মতো হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং জামাতে ইসলামি। ওসমান হাদিকে গুলি করার পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ ডিসেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আয়োজিত এক জনসভায় এনসিপি, জামাতের নেতারা প্রকাশ্যে ভারত বিরোধী জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার কথা বলেন। এরই মাঝে জামাতের সাধারণ সম্পাদক গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, বাংলাদেশকে নাকি ভারতের করদরাজ্য বানানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

জামাতের সাধারণ সম্পাদক গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, বাংলাদেশকে নাকি ভারতের করদরাজ্য বানানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
জামাতের সাধারণ সম্পাদক গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, বাংলাদেশকে নাকি ভারতের করদরাজ্য বানানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

জামাত নেতা গোলাম পরওয়ার বলেন, 'ওসমান হাদির ওপর আক্রমণ এই দেশকে গ্রাস করার পরিকল্পনার অংশ। এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। হাদির ওপর আক্রমণকারীদের যারা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে, তারা বাংলাদেশের নির্বাচনকে সুষ্ঠু ভাবে হতে দেবে না। এই দেশকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের করদরাজ্য বানানোর চেষ্টা চলছে। তবে তা কখনও সফল হবে না।' উল্লেখ্য, 'করদরাজ্য' বলতে ব্রিটিশ আমলেন প্রিন্সলি স্টেটগুলিকে বোঝানো হত একটা সময়। এগুলি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে থাকা এমন কিছু স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যা ব্রিটিশদের আনুগত্যের বিনিময়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্বাধীনতা ভোগ করত।

এদিকে ১৫ ডিসেম্বরের এই সমাবেশে বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তাদের দলের কোনও নেতা সেই সভায় অংশ নেননি। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে জামাত এবং এনসিপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিএনপি। এমনকী জামাতের বিরুদ্ধে তো বিএনপি নেতা তারেক জিয়া বলেছিলেন, 'যারা বলছেন অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দেখেছেন, এবার আমাদের দেখুন, মানুষ তাদের ১৯৭১ সালে দেখেছে—কিভাবে তারা লাখ লাখ মানুষ হত্যা করেছে, মা-বোনের সম্মান লুঠ করেছে।' এহেন অবস্থায় ঢাকায় এই 'ভারত বিরোধী' সমাবেশে দেখা যায়নি বিএনপির কোনও নেতাকে।

এদিকে শহিদ মিনারের সমাবেশেই এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ আবার বলেন, 'ভারত বাংলাদেশকে ফিলিস্তিন বানাতে চায়। ওসমান হাদির ওপর যারা আক্রমণ করেছে, যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের ভারত আশ্রয় দিচ্ছে, প্রশ্রয় দিচ্ছে। স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এটা চলতে থাকলে আমরাও ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়–প্রশ্রয় দেব।' এরপর এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, 'ভারত যদি মনে করে হাসিনা ও ওসমান হাদির ঘাতকদের আশ্রয় দিয়ে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে, তা কোনও দিন হবে না।'

উল্লেখ্য, যে ওসমান হাদিকে গুলি করায় এই সব ভারত বিদ্বেষ প্রকাশ পাচ্ছে, সেই ওসমান নিজে চরম ভারত বিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই হামলার ঘটনায় ভারতের 'র'-এর দিকে আঙুল তুলেছেন হাদির বোন মাহফুজা। এদিকে বাংলাদেশের তরুণ নেতাদের অভিযোগ, ওসমান হাদিকে গুলি করা কায়সার এবং তাঁর সহযোগী ভারতে পালিয়ে গিয়েছেন। এই ভিত্তিহীন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত বিরোধী সুর চড়ছে বাংলাদেশের 'বিপ্লবী' ছাত্র নেতা এবং জামাতিদের গলায়।