কে বাবা, কে মা লিখতে হবে না সন্তানের জন্ম শংবাসপত্রে, রূপান্তরকামীদের জয় কেরল হাইকোর্টে

কোঝিকোড়ের বাসিন্দা জাহাদ এবং জিয়া পাভালের দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এ এ জিয়াদ রহমান এই নির্দেশ দেন। জাহাদ আগে একজন নারী ছিলেন। অস্ত্রোপচার করে পুরুষ হয়েছেন।

Published on: Jun 03, 2025 12:44 PM IST
By
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ঐতিহাসিক রায় কেরল হাইকোর্টের। ভারতের প্রথম রূপান্তরকামী বাবা-মা জাহাদ এবং জিয়ার আবেদন মঞ্জুর করল কেরল হাইকোর্ট। এই রূপান্তরকামী দম্পতিকে তাঁদের সন্তানের জন্ম শংসাপত্রে লিঙ্গ-নিরপেক্ষ শব্দ ‘পেরেন্টস’ (অভিভাবক) ব্যবহারের অনুমতি দিল। এই রায় দেশের রূপান্তরকামী অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বলেই মনে করছে বিশিষ্ট মহল।

রূপান্তরকামী দম্পতির সন্তানের শংসাপত্রে ‘প্যারেন্টস’, বড় রায় কেরল হাইকোর্টের
রূপান্তরকামী দম্পতির সন্তানের শংসাপত্রে ‘প্যারেন্টস’, বড় রায় কেরল হাইকোর্টের

আরও পড়ুন: সব প্রতিকূলতা পার করে HSC পাশ একই স্কুলের ৯ ঘরছাড়া ট্রান্সজেন্ডার পরিক্ষার্থীর

কোঝিকোড়ের বাসিন্দা জাহাদ এবং জিয়া পাভালের দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এ এ জিয়াদ রহমান এই নির্দেশ দেন। জাহাদ আগে একজন নারী ছিলেন। লিঙ্গ পরিবর্তন করে পুরুষ হয়েছেন। অন্যদিকে, জিয়া একজন পুরুষ ছিলেন। তিনি নারী হয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরেই কোঝিকোড়ে একসঙ্গে থাকেন এই রূপান্তরকামী দম্পতি। তাঁরাও চেয়েছিলেন তাঁদের নিজের সন্তান হোক। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই দম্পতি সন্তানের জন্ম দেন। অথচ, কোঝিকোড় পুরসভার দেওয়া জন্ম শংসাপত্রে জাহাদকে ‘মা’ এবং জিয়াকে ‘বাবা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাতেই আপত্তি জানিয়েছিলেন এই দম্পতি। তাঁরা আদালতে জানিয়েছিলেন, আলাদা আলাদা করে বাবা এবং মা না লিখে তার জায়গায় লিঙ্গ নিরপেক্ষ শব্দ অভিভাবক বা পেরেন্টস লেখা হোক।

জাহাদ আদালতে জানান, একজন রূপান্তরকামী হিসেবে তাঁকে মা হিসেবে উল্লেখ করলে সামাজিক ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সন্তানের স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট, আধার কার্ড ইত্যাদি তৈরির ক্ষেত্রে জটিলতা হতে পারে। তাঁদের অনুরোধ ছিল, জন্ম শংসাপত্রে বাবা বা মা নয়, শুধু পেরেন্টস শব্দ ব্যবহার করা হোক এবং লিঙ্গভিত্তিক পরিচয় উল্লেখ না করা হোক।

আদালত দম্পতির যুক্তিকে স্বীকৃতি দিয়ে কোঝিকোড় পুরসভাকে নির্দেশ দিয়েছে সংশোধিত জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করতে হবে। তাতে আবেদনকারীদের নাম থাকবে। কিন্তু বাবা বা মা শব্দ নয়, শুধু প্যারেন্টস বলে উল্লেখ থাকবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে সংশোধিত জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করতে বলা হয়েছে পুরসভাকে। আদালতের এই রায়ে খুশি দম্পতি। জিয়া বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত খুশি। আমাদের মতো রূপান্তরকামী দম্পতিরা এখন মা এবং বাবা-এর মতো লিঙ্গ-নির্দিষ্ট পরিচয়ের পরিবর্তে পেরেন্টস হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারেন।’