Lashkar Terrorist on Op Sindoor: অপারেশন সিঁদুরে ভারতের ধ্বংসযজ্ঞের কথা স্বীকার করল লস্করের জঙ্গি নেতা নিজে!
রউফ স্বীকার করে যে ৬ এবং ৭ মে ভারতীয় হামলায় তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং সদর দফতরের মেরুদণ্ড ভাঙা হয়েছে। অপারেশন সিঁদুরের পরে এই আবদুল রউফ নিহত জঙ্গিদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিল। এসব শেষকৃত্যের ছবি সামনে এসেছিল। যার জেরে পাকিস্তানের জঙ্গি প্রীতির বিষয়টি সামনে চলে এসেছিল।
অপারেশন সিঁদুর নিয়ে পাকিস্তানে বসেই সত্যিটা তুলে ধরল লস্কর-ই-তৈবার অন্যতম নেতা আবদুল রউফ। এক অনুষ্ঠানে জঙ্গি নেতা বলেই দিল, কীভাবে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংসযজ্ঞ চলেছিল। রউফ স্বীকার করে যে ৬ এবং ৭ মে ভারতীয় হামলায় তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং সদর দফতরের মেরুদণ্ড ভাঙা হয়েছে। উল্লেখ্য, অপারেশন সিঁদুরের পরে এই আবদুল রউফ নিহত জঙ্গিদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিল। এসব শেষকৃত্যের ছবি সামনে এসেছিল। যার জেরে পাকিস্তানের জঙ্গি প্রীতির বিষয়টি সামনে চলে এসেছিল।

এহেন লস্করের জঙ্গি নেতা বলে, '৬ থেকে ৭ মে যা ঘটেছিল, তার পরে, সেই জায়গাটিতে মসজিদ আর নেই। আজ ওখানে আমাদের বসার জন্য জায়গা নেই। আমরা থাকতে পারছি না। সব ভেঙে পড়েছে।' তার এই বক্তব্য লস্করের সবচেয়ে বড় স্বীকারোক্তি। সাধারণত, লস্করের মতো সংগঠন তাদের দুর্বলতা গোপন করে। তবে রউফ নিজেই ভারতীয় ধ্বংসযজ্ঞের কথা তুলে ধরল। এরই সঙ্গে সেই ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণরত জঙ্গি থাকার কথাও কার্যত স্বীকার করে নেয় আবদুল রউফ। সে বলে, 'যখন মিসাইল উড়ে আসছিল, তখন প্রশিক্ষণরত সবাইকে এখান থেকে বাইরে বের করার চেষ্টা করা হয়েছিল।' এদিকে আবদুল রউফ স্বীকার করে যে তারা চিনা অস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদ ছড়ায়। এরই সঙ্গে সে স্বীকার করে, জঙ্গি ভর্তির ক্ষেত্রে পাকিস্তান সরকার তাদের জন্য কোনও বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। তার কথায়, 'পাকিস্তানে জিহদের জন্য স্বাধীনতা আছে।'
এদিকে লস্কর-ই-তৈবার অন্য এক জঙ্গি নেতা আবার জম্মু ও কাশ্মীরে সহিংস জিহাদের ডাক দিয়েছে। সম্প্রতি লস্করের সিনিয়র কমান্ডার প্রকাশ্যে হিন্দুদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক ঘৃণসূচক বক্তৃতা দিয়েছে। পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময়, আবু মুসা কাশ্মীরি হিন্দুদের গলা কেটে ফেলার কথা বলে। তার কথায়, কাশ্মীর সমস্যা কেবল সন্ত্রাসবাদ এবং তথাকথিত 'জিহাদের' মাধ্যমেই সমাধান করা যেতে পারে।
আবু মুসা বলে, 'ভিক্ষা করে স্বাধীনতা অর্জিত হবে না, হিন্দুদের গলা কেটে স্বাধীনতা অর্জিত হবে।' মুসা আরও দাবি করেছে যে ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং অন্যান্য সিনিয়র মন্ত্রীদের কাছে নিজের এই মতামত সে পৌঁছে দিয়েছে। মুসার এই ভাষণ দেওয়া হয়েছিল পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের রাওয়ালকোট জেলার পুঞ্চ এলাকার হাজিরা তহসিলের বাহিরা গ্রামে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পহেলগাঁও হামলার আগেও আবু মুসা এই ধরনের হিন্দু বিদ্বেষী ভাষণ দিয়েছিল।
লস্কর-ই-তৈবার ডেপুটি চিফ তথা পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড সাইফুল্লাহ কাসুরিরও একটি ভিডিয়ো সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছিল। সেই ভিডিয়োতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার সংগঠনের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরতে শোনা গিয়েছে তাকে। কাসুরি বলে, জওয়ানদের শেষকৃত্যের সময় জানাজার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সাইফুল্লাহ কাসুরিকে সেই ভাইরাল ভিডিয়োতে বলতে শোনা যায়, 'পাকিস্তান সেনাবাহিনী আমাকে জানাজার নমাজ পড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। আপনি কি জানেন যে ভারতও আমাকে ভয় পায়?' এই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসায় ফের একবার ভারতের দাবি সঠিক বলে প্রমাণিত হল। ভারত প্রথম থেকেই বলে এসেছে, পাকিস্তানের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় মদতে ভারতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদ চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা ধর্ম জিজ্ঞেস করে ২৫ জন পর্যটক এবং এক স্থানীয়কে খুন করে। এর জবাবে ভারত ৬ মে গভীর রাতে বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে সহ পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। সেই অভিযানে প্রায় ১০০ জন জঙ্গিকে খতম করে ভারত। আর এরপর থেকেই পাকিস্তানের তরফ থেকে শেলিং শুরু হয় ভারতের ওপর। অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের শেলিংয়ে ভারতের অন্তত ১৬ জন নাগরিকের মৃত্যু ঘটে। এরপর সংঘাত বাড়তে থাকে দুই দেশের। ১০ মে-র ভোররাতে এরপর ভারতীয় বায়ুসেনা হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি অকেজো করে দেয়।
এই সময়কালে পাকিস্তানের এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ শ্রেণির যুদ্ধবিমান সহ পাঁচটি জেট ভারত ধ্বংস করেছিল মাঝ আকাশের লড়াইয়ে। পাকিস্তানের রাডার, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, হ্যাঙ্গার এবং রানওয়ে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ভারতের হামলায়। পাকিস্তানের একটি সি-১৩০ শ্রেণির বিমানও ধ্বংস করা হয়েছিল এই সংঘাতের সময়। এছাড়া ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে একটি AEW&C বা একটি SIGINT বিমান ধ্বংস করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা।
E-Paper











