Lashkar Terrorist's Anti Hindu Speech: ‘ভিক্ষা করে স্বাধীনতা আসবে না, হিন্দুদের গলা কেটেই কাশ্মীরে স্বাধীনতা আসবে’
পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময়, আবু মুসা কাশ্মীরি হিন্দুদের গলা কেটে ফেলার কথা বলে। তার কথায়, কাশ্মীর সমস্যা কেবল সন্ত্রাসবাদ এবং তথাকথিত 'জিহাদের' মাধ্যমেই সমাধান করা যেতে পারে।
পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা আবারও জম্মু ও কাশ্মীরে সহিংস জিহাদের ডাক দিয়েছে। সম্প্রতি লস্করের সিনিয়র কমান্ডার প্রকাশ্যে হিন্দুদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক ঘৃণসূচক বক্তৃতা দিয়েছে। পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময়, আবু মুসা কাশ্মীরি হিন্দুদের গলা কেটে ফেলার কথা বলে। তার কথায়, কাশ্মীর সমস্যা কেবল সন্ত্রাসবাদ এবং তথাকথিত 'জিহাদের' মাধ্যমেই সমাধান করা যেতে পারে।

আবু মুসা বলে, 'ভিক্ষা করে স্বাধীনতা অর্জিত হবে না, হিন্দুদের গলা কেটে স্বাধীনতা অর্জিত হবে।' মুসা আরও দাবি করেছে যে ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং অন্যান্য সিনিয়র মন্ত্রীদের কাছে নিজের এই মতামত সে পৌঁছে দিয়েছে। মুসার এই ভাষণ দেওয়া হয়েছিল পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের রাওয়ালকোট জেলার পুঞ্চ এলাকার হাজিরা তহসিলের বাহিরা গ্রামে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পহেলগাঁও হামলার আগেও আবু মুসা এই ধরনের হিন্দু বিদ্বেষী ভাষণ দিয়েছিল।
লস্কর-ই-তৈবার ডেপুটি চিফ তথা পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড সাইফুল্লাহ কাসুরিরও একটি ভিডিয়ো সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছিল। সেই ভিডিয়োতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার সংগঠনের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরতে শোনা গিয়েছে তাকে। কাসুরি বলে, জওয়ানদের শেষকৃত্যের সময় জানাজার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সাইফুল্লাহ কাসুরিকে সেই ভাইরাল ভিডিয়োতে বলতে শোনা যায়, 'পাকিস্তান সেনাবাহিনী আমাকে জানাজার নমাজ পড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। আপনি কি জানেন যে ভারতও আমাকে ভয় পায়?' এই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসায় ফের একবার ভারতের দাবি সঠিক বলে প্রমাণিত হল। ভারত প্রথম থেকেই বলে এসেছে, পাকিস্তানের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় মদতে ভারতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদ চালানো হচ্ছে।
পহেলগাঁও হামলায় ২৬ জনকে হত্যার ঘটনায় লস্কর-ই-তৈবা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে বলে ভারত ইতিমধ্যেই প্রমাণ পেয়েছিল। এর আগে ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধেও পাক সেনা এবং জঙ্গিদের আঁতাত দেখা গিয়েছিল। এদিকে অপারেশন সিঁদুরের ছয় মাস পরে পাকিস্তান সমর্থিত লস্কর এবং জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম) জম্মু ও কাশ্মীরে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের ধ্বংস হওয়া জঙ্গি ঘাঁটি পাক সরকারের মদতে পুনর্নির্মাণ করছে লস্কর ও জইশ। সাম্প্রতিককালে জইশের তরফে মহিলাদের জঙ্গি বাহিনী গঠন করা হয়েছে। দিল্লি বিস্ফোরণের আগে ধৃত লখনউয়ের এক ডাক্তার শাহিন সইদ জইশের সেই শাখার প্রধান ছিল ভারতে।
এদিকে লস্করের সঙ্গে ক্রমেই আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে প্যালেস্তাইনের ‘হরকত আল-মুকাওয়ামা আল-ইসলামিয়া’ (হামাস)। ২০২৫ সালে পহেলগাঁও হামলার আগে লস্করের অনুষ্ঠানে হাজির থাকতে দেখা গিয়েছিল হামাস নেতাদের। আবার চবতি বছরের শুরুতেও পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের গুরজানওয়ালায় লস্করের একটি মিটিংয়ে দেখা গিয়েছে হামাসের অন্যতম শীর্ষ কম্যান্ডার নাজি জাহিরকে। গত ৫ জানুয়ারি লস্করের অন্যতম শীর্ষ কম্যান্ডার রাশিদ আলি সান্ধুর ছেলের বিয়ে উপলক্ষে পাকিস্তানে গিয়েছিল জাহির। পরে লস্করের রাজনৈতিক উইং পাকিস্তানি মারকাজি মুসলিম লিগের বৈঠকে যোগ দিয়েছিল হামাসের এই জঙ্গি নেতা।
E-Paper











