Temple in Pakistan: পাকিস্তানে খুলে গেল বহু প্রাচীন 'লোহ' মন্দিরের দ্বার! এমন মন্দির কার? কোন দুর্গের ভিতর রয়েছে…
বিশ্বাস করা হয়, শ্রীরামচন্দ্রের পুত্র লবের নাম থেকেই পাকিস্তানের লাহোরের নামকরণ।
পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রভিন্সের লাহোর দুর্গ একটি ঐতিহাসিক স্থান। সেখানেই অবস্থিত লোহ মন্দির। জানা যায়, এই ‘লোহ’ শব্দটির সঙ্গে শ্রীরামচন্দ্রের পুত্র ‘লব’ জড়িয়ে রয়েছেন, সেই থেকেই মনে করা হয়, এই লোহ মন্দির শ্রীরামচন্দ্রের পুত্র লবের। আর এই লোহ মন্দিরের দরজাই এবার সংস্কারের পর খুলে গেল জনসাধারণের জন্য।

একটু ফিরে যাওয়া যাক ২০২৫ সালে। সেই বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫-র সময় পাকিস্তানের সফরে গিয়েছিলেন বিসিসিআই-র অন্যতম কর্তা রাজীব শুক্লা। পাকিস্তানে গিয়ে তিনি এক মন্দিরের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। রাজীব লিখেছিলেন,'লাহোরের প্রাচীন দুর্গে ভগবান শ্রীরামের পুত্র লবের একটি প্রাচীন সমাধি রয়েছে। লাহোরের নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামে। আমি সেখানে প্রার্থনা করার সুযোগ পেয়েছি।' রাজীব শুক্লা সেবার আরও লিখেছিলেন,'লাহোরের পৌর রেকর্ডে লিপিবদ্ধ আছে যে এই শহরের নামকরণ করা হয়েছিল ভগবান রামের পুত্র লবের নামে এবং কাসুর শহরের নামকরণ করা হয়েছিল তাঁর অপর পুত্র কুশের নামে। পাকিস্তান সরকারও এই সত্যটি স্বীকার করে।' এই মন্দিরে রাজীবের সঙ্গে সেবার গিয়েছিলেন পাকিস্তানের বোর্ডের চিফ মহসিন নাকভি। সেকথাও রাজীব লিখেছিলেন। এবার আসা যাক, নতুনভাবে খুলে যাওয়া এই লোহ মন্দিরের কথায়।
সদ্য ‘ওয়ালড সিটি লাহোর’ কর্তৃপক্ষ (ডব্লিউসিএলএ) জানিয়েছে যে তারা আগা খান কালচারাল সার্ভিস-পাকিস্তানের সহযোগিতায় লোহ মন্দিরের পাশাপাশি আরও দুটি স্মৃতিস্তম্ভ - শিখ যুগের হাম্মাম এবং মহারাজা রঞ্জিত শিখের আথদারা প্যাভিলিয়নের সংরক্ষণ সম্পন্ন করেছে। রিপোর্ট বলছে, লোহ মন্দিরটি লাহোর দুর্গের মধ্যে অবস্থিত আন্তঃসংযুক্ত কক্ষগুলির একটি গুচ্ছ নিয়ে গঠিত। লোহ মন্দির হল একটি উন্মুক্ত স্থান যেখানে একটি স্মারক মন্দির রয়েছে। এদিকে, ‘ওয়ালড সিটি লাহোর’র সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বলছে, এই কর্মকাণ্ডে টাকা ঢেলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। পোস্টে বলা হয়েছে,'লাহোর দুর্গে লোহ মন্দির, আথদারা প্যাভিলিয়নের উদ্বোধনের মাধ্যমে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তহবিলের অর্থায়নে AKCS-P এবং WCLA দ্বারা সংরক্ষণের পর এই ঐতিহাসিক স্থানটির উন্মোচন করা হয়েছে।'
বিশ্বাস করা হয়, শ্রীরামচন্দ্রের পুত্র লবের নাম থেকেই পাকিস্তানের লাহোরের নামকরণ। স্থানীয় এক WCLA অফিশিয়াল বলেন,' এই সংস্কার উদ্যোগের লক্ষ্য লাহোর দুর্গের সমৃদ্ধ আন্তঃসাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপন করা, যা এর শিখ ও হিন্দু মন্দির, মুঘল মসজিদ এবং ব্রিটিশ আমলের কাঠামোতে প্রতিফলিত হয়।' প্রসঙ্গত, গত বছর, একজন শিখ গবেষক শিখ যুগে (১৭৯৯-১৮৪৯) রক্ষিত লাহোর দুর্গে প্রায় ১০০টি স্মৃতিস্তম্ভ চিহ্নিত করেছিলেন, যার ঐতিহাসিক তাৎপর্য বর্ণনা করেছিলেন তিনি। এর মধ্যে প্রায় ৩০টি স্মৃতিস্তম্ভ আজ আর নেই।
E-Paper











