রামমোহন 'ব্রিটিশদের দালাল!' বিজেপির মন্ত্রীর বক্তব্যে বিতর্ক, সরব তৃণমূল, শেষে চাপের মুখে বললেন..,

মন্ত্রীর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই সরব হয় বাংলার শাসকদল তৃণমূল।

Published on: Nov 16, 2025 6:22 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাঙালি মহাপুরুষদের নিয়ে বিজেপি মন্ত্রী, নেতাদের কুমন্তব্য অব্যাহত। সম্প্রতি সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়কে 'ব্রিটিশদের দালাল' মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন মধ্যপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ইন্দর সিং পারমার। স্বাভাবিকভাবেই উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর মন্তব্যে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। সমালোচনায় মুখর হয় কংগ্রেস ও তৃণমূল। এরপরই রাজা রামমোহন রামকে নিয়ে করা নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন ইন্দর সিং পারমার। চাইলেন ক্ষমাও।

বিজেপির মন্ত্রীর বক্তব্যে বিতর্ক, চাপের মুখে ডিগবাজি (সৌজন্যে টুইটার)
বিজেপির মন্ত্রীর বক্তব্যে বিতর্ক, চাপের মুখে ডিগবাজি (সৌজন্যে টুইটার)

বিতর্কের মধ্যে রবিবার দুপুরে এক ভিডিয়োবার্তায় দুঃখপ্রকাশ করেন মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী ইন্দর সিং। তিনি বলেন, 'ভগবান বিরসা মুন্ডার জীবন নিয়ে কথা বলার সময়, আমি ভুল করে রাজা রামমোহন রায়কে নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করে ফেলেছি। আমি এর জন্য গভীরভাবে দুঃখিত এবং ক্ষমা চাইছি। রাজা রামমোহন রায় একজন বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক ছিলেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে সম্মান করি। মন্তব্যটি অসাবধানতাবশত বেরিয়ে গিয়েছে।' তাঁর মতে, রাজা রামমোহন রায় একজন ‘বিখ্যাত’ সমাজ সংস্কারক ছিলেন। এর আগে বিজেপি মুখপাত্র শিবম শুক্লা বলেছেন, 'এটা মন্ত্রীর ব্যক্তিগত মতামত। বিজেপি দেশের জন্য অবদান রাখা সকল মহান নেতাকে সম্মান করে। তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করছে কংগ্রেস।' ফলে স্পষ্ট, পরিস্থিতি ঘোরালো হচ্ছে বুঝেই মধ্যপ্রদেশ বিজেপি পারমারের বক্তব্য থেকে নিজেদের দূরে রাখতে মরিয়া।

কী বলেছিলেন মধ্যপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী?

বিরসা মুন্ডার সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী দাবি করেন, রামমোহন রায় ব্রিটিশদের নির্দেশে কাজ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ইন্দর এ-ও বলেন, ঔপনিবেশিক শাসনকালে ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাস পরিবর্তনের জন্য যাঁরা কাজ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রামমোহন। তাঁর ভাষণে উঠে এসেছিল রামমোহন-বিরোধী একের পর এক মন্তব্য। ইন্দর সিং পারমার বলেন, বাংলা এবং আশপাশের এলাকায় ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে সেই সময়ে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছিল একটি চক্র। যাঁরা এই কাজ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। তাঁকে ব্রিটিশরা নিজেদের স্বার্থপূরণের জন্য 'ভুয়ো সমাজ সংস্কারক' হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।পাশাপাশি রামমোহন রায় 'ব্রিটিশদের দালাল' হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর আরও দাবি, যিনি এই ধর্মান্তকরণের চক্র বন্ধ করার সাহস দেখিয়েছিলেন তিনি হলেন বিরসা মুন্ডা। মন্ত্রীর কথায়, 'বিরসা মুন্ডা মিশনারি স্কুল ছেড়ে সমাজসেবা এবং ব্রিটিশ শাসনের অবসানে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।'

বিরোধীদের কড়া প্রতিক্রিয়া

মন্ত্রীর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই সরব হয় বাংলার শাসকদল তৃণমূল। দলের এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়, 'বাংলার মহাপুরুষদের প্রতি বিজেপির ঘৃণার সীমা নেই। সেই রাজা রামমোহন রায় - যিনি সতীদাহের মতো ভয়াবহ প্রথা বিলোপ করেছিলেন, তাঁকেই এখন বিজেপি নেতারা বিদ্রূপাত্মক করছেন। মধ্যপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ইন্দ্র সিং পারমার রামমোহন রায়কে 'ব্রিটিশ এজেন্ট' এবং 'ভুয়া সংস্কারক' বলে অভিহিত করেছেন। এটাই প্রথমবার নয় যে, বিজেপি বাংলার গর্বকে অপমান করেছে। প্রতিটি কাজ, প্রতিটি অপমান, বিজেপির বাংলা-বিরোধী মানসিকতাকে প্রকাশ করে। এগুলি কেবল ব্যক্তির উপর আক্রমণ নয়, এগুলি বাংলার আত্মা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের উপর আক্রমণ। বাঙালিদের এভাবে অপমান বিজেপির বাংলা-ভীতিই প্রমাণ করে। যখন তারা বাংলার বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পারে না, তখনই বাঙালিদের অপমান করার আশ্রয় নেয়। বাংলা দৃঢ়ভাবে এর জবাব দেবে।' অন্যদিকে, তাঁর মন্তব্যকে 'লজ্জাজনক' বলে সমালোচনা করেন মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র ভূপেন্দ্র গুপ্তা। তিনি বলেন, 'সতীদাহ প্রথা বিলোপ কী ব্রিটিশদের দালালি? এটা কী ধরণের দালালি ছিল? যারা ব্রিটিশদের এজেন্ট ছিল তারাই আজ এই কথা বলছে।'

উল্লেখ্য, সমাজ এবং ধর্মীয় সংস্কারক হিসাবে বিশ্বজোড়া পরিচিতি রাজা রামমোহন রায়ের। বাঙালির উপর তো বটেই, গোটা দেশেই তাঁর প্রভাব অনস্বীকার্য। আধুনিক ভারতীয় নবজাগরণের জনক হিসাবে পরিচিত রামমোহন। সতীদাহ প্রথা বন্ধের নেপথ্যে কান্ডারি ছিলেন তিনি।

News/News/রামমোহন 'ব্রিটিশদের দালাল!' বিজেপির মন্ত্রীর বক্তব্যে বিতর্ক, সরব তৃণমূল, শেষে চাপের মুখে বললেন..,