বন্ধ ইন্টারনেট, কার্ফু জারি! ব্যাপক গুলিবর্ষণ, অশান্তির আগুনে পুড়ছে মণিপুর

২০২৩ সাল থেকে মণিপুরে চলা জাতিগত সংঘর্ষের প্রভাব এখনও অব্যাহত।

Published on: Feb 10, 2026 9:36 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাষ্ট্রপতি শাসন শেষ হয়ে, সদ্য নতুন সরকার গঠন হয়েছে। তারপরেও অশান্তির আগুনে পুড়ছে মণিপুর। মঙ্গলবার রাজ্যের উখরুল জেলার লিটন গ্রামে নতুন করে ব্যাপক গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গিয়েছে। বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগানো হয়। দফায় দফায় চলা গুলির শব্দে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলাজুড়ে কার্ফু জারি এবং অপপ্রচার ও গুজব ঠেকাতে আগামী ৫ দিনের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।

অশান্তির আগুনে পুড়ছে মণিপুর (ANI Video Grab )
অশান্তির আগুনে পুড়ছে মণিপুর (ANI Video Grab )

জ্বলছে ঘরবাড়ি, আশ্রয়হীন স্থানীয়রা

সূত্রের খবর, রবিবারের অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত দুষ্কৃতীরা লিটন গ্রামের একাধিক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২১টি বাড়ি পুড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল, তবে ভোরের তান্ডবের পর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০-এ। যদিও সরকারিভাবে এখনও নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি। এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং প্রাণভয়ে ঘর ছাড়ছেন। লিটন গ্রামের কুকি এবং তাংখুল-উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই নিজেদের প্রয়োজনীয় আসবাব ও সরঞ্জাম নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গ্রাম ছেড়ে পালাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী ও আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা ও মাঝে মাঝে গুলির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যর্থ শান্তি বৈঠক

মণিপুরে উত্তেজনা প্রশমিত করতে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আবেদন জানান। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জেলা প্রশাসন এবং উভয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী লোসি দিখো, বিধায়ক রাম মুইভা এবং কিমনেও হাওকিপ। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরেও কোনও স্থায়ী সমাধান সূত্র বা সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের নজরদারি ও পদক্ষেপ

এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। তবে সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত বাহিনী টহল দিচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি তাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের একজন সদস্যের ওপর কথিত হামলার প্রতিক্রিয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে, এবং কারফিউ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি উখরুল জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র বিভাগ ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) একটি আদেশ জারি করে জানিয়েছে যে জেলার সমগ্র রাজস্ব এলাকায় ব্রডব্যান্ড, ভিপিএন, ভিস্যাট-সহ সব ধরনের ইন্টারনেট ও ডেটা পরিষেবা অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হবে। এই স্থগিতাদেশ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১:৩০ থেকে শুরু হয়েছে এবং পাঁচ দিন অর্থাৎ ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।উল্লেখ্য, উখরুল জেলা মণিপুরের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত, যেখানে তাংখুল নাগা এবং কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা রয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে মণিপুরে চলা জাতিগত সংঘর্ষের প্রভাব এখনও অব্যাহত।