Manipur Situation Latest Update: ফের অশান্ত মণিপুর, নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি জঙ্গিদের
ফৌগাকচাও ইখাই এবং তোরবুংয়ের স্থানীয়রা জানান, সরকারের নির্দেশে ৬৭টি পরিবারের প্রায় ৩৮৯ জনকে ফের তোরবুংয়ে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল। এরপর গতকালকের এই এনকাউন্টারের ঘটনা। এই ঘটনায় কমপক্ষে একজন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মণিপুরের বিষ্ণুপুর এবং চূড়াচাঁদপুর জেলার সীমান্তবর্তী তোরবুং এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং সশস্ত্র কুকি জঙ্গিদের মধ্যে গুলি বিনিময় হয় বলে জানা গিয়েছে। এরপরে নতুন করে সেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন যে এই ঘটনায় কমপক্ষে একজন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। ফৌগাকচাও ইখাই এবং তোরবুংয়ের স্থানীয়রা জানান, সরকারের নির্দেশে ৬৭টি পরিবারের প্রায় ৩৮৯ জনকে ফের তোরবুংয়ে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল। এরপর গতকালকের এই এনকাউন্টারের ঘটনা।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই মণিপুরে কুকি এবং মৈতৈ জনজাতির মধ্যে সংঘাত বজায় রয়েছে। গত ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে জাতিগত হিংসার সাক্ষী মণিপুর। মাঝে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত ছিল। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি অবস্থা। এখনও পর্যন্ত কয়েক হাজার জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। চূড়াচাঁদপুর, মোরে, কাকচিং এবং কাংপোকপি জেলা থেকে অধিকাংশ মানুষকে সরানো হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ইম্ফল উপত্যকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হল মৈতৈ জনজাতি। তবে তারা দাবি তুলেছিল যে তাদের তফসিলি উপজাতির তকমা দিতে হবে। তাদের এই দাবির বিরোধ জানিয়েছিল স্থানীয় কুকি-জো আদিবাসীরা। এদিকে হাই মণিপুর হাই কোর্টে এই নিয়ে মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় হাই কোর্ট নির্দেশ দেয়, মৈতৈদের নাম তফশিলি উপজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখুক রাজ্য। এই নির্দেশিকার পরই জো-কুকি সম্প্রদায়ের মানুষরা প্রতিবাদে নামেন। এই আবহে ২০২৩ সালের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে মণিপুরের অল ট্রাইবাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন একটি মিছিলের আয়োজন করেছিল। সেই মিছিল ঘিরেই হিংসা ছড়িয়ে পড়ে চূড়াচাঁদপুর জেলায়। পরে অবশ্য হাই কোর্ট সংরক্ষণ নিয়ে নিজেদের সেই পর্যবেক্ষণ ফিরিয়ে নেয়।
তবে এখনও মণিপুরে হিংসার আগুন মাঝে মাঝেই জ্বলে ওঠে। এদিকে তফশিলি উপজাতির ইস্যুর পাশাপাশি সংরক্ষিত জমি এবং সার্ভে নিয়েও উত্তাপ ছড়িয়েছিল সেই রাজ্যে। এই আবহে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসেই চূড়াচাঁদপুর জেলায় মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংয়ের সভাস্থলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল ইন্ডিজেনাস ট্রাইবাল লিডারস ফোরামের সদস্যরা। এদিকে এই জেলা থেকে কুকি আদিবাসী বনাম মৈতৈদের এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য জেলাতেও। আর এখনও পর্যন্ত সেই হিংসা প্রাণ হারিয়েছেন কয়েকশো সাধারণ মানুষ। বাফার জোন করে মৈতৈ এবং কুকিদের ভিন্ন এলাকায় রাখা হয়েছে। তার মধ্যেও মাঝে মাঝেই বাঁধছে সংঘাত। একে অপরের দিকে আঙুল তুলছে দুই জনজাতি। এরই মাঝে দেখা গিয়েছে সশস্ত্র জঙ্গিদের দৌরাত্ম্য।












