Jaishankar on Russian Oil Row: ট্রাম্পের নির্দেশে রুশ তেল কেনা বন্ধ? কোথায় গেল ভারতের স্বায়ত্তশাসন? যা বললেন জয়শঙ্কর
রাশিয়ান তেল কেনার ইস্যুতে মার্কিন চাপ ছিল ভারতের ওপরে? এই প্রশ্নের জবাব দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তুলে ধরলেন বাজার পরিস্থিতির বিষয়টি।
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির পর বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, ট্রাম্পের নির্দেশে মোদী সরকার রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে গিয়ে এই সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকেও। আর এহেন প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বাজারের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে রাশিয়ার তেল কেনা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তেল কোম্পানিগুলো এ সিদ্ধান্ত নেয়। সঙ্গে তিনি এও জানিয়ে দেন, ভারত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনে বিশ্বাসী।

প্রসঙ্গত, মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়া জয়শঙ্করকে এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়েছিল, প্রাথমিকভাবে ভারত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের জন্য রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত রেখেছিল, তারপর কি ট্রাম্পের নির্দেশে তা বন্ধ করা হয়েছে? আর যদি তাই হয়, তাহলে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এখন কোথায়? এর জবাবে বিদেশমন্ত্রী বলেন, 'রাশিয়ার তেল কতটুকু কিনতে হবে, কখন কিনতে হবে, আর কখন কিনতে হবে না... এ সবই বাজার দ্বারা নির্ধারিত হয়। তিনি আরও বলেন, বাজারের পরিস্থিতি ও খরচের ওপর ভিত্তি করে ভারত, ইউরোপ এবং অন্যান্য দেশের সংস্থাগুলি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়।
জয়শঙ্কর ভারতের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়ে বলেন যে ভারত তার জাতীয় অগ্রাধিকারের কথা মাথায় রেখে কাজ করে। তিনি আরও বলেছেন যে সরকার তার জ্বালানি চাহিদা এবং সুরক্ষা নীতিগুলি মেটাতে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের নীতি অনুসরণ করে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, জয়শঙ্করের এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এসেছে যখন আমেরিকা ক্রমাগত উল্লেখ করে চলেছে যে ভারত তাদের নির্দেশে রাশিয়ার তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার তেলের বিকল্প হিসেবে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার প্রস্তাবও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনও বিবৃতি প্রকাশ রা হয়নি।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরে, ট্রাম্প ভারতের ওপর থেকে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। রাশিয়ান তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা ছিল। এই আহে কয়েকদিন আগেও ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করে রেখেছিল আমেরিকা। আর বর্তমানে ভারতের ওপর মার্কিন আরোপিত শুল্কের হার মাত্র ১৮ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে ভারত রাশিয়ার তেল না কেনার শর্ত মেনে নিয়েছে, তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা বলেছেন যে এই বিষয়ে এখনও আলোচনা চলছে। এদিকে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ভারত যদি ফের রাশিয়ার থেকে তেল কেনে, তাহলে পুনরায় অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ধার্য করা হবে ভারতের পণ্যের ওপর।
E-Paper











