Mehul Choksi Latest Update: ফিরতেই হবে ভারতে! মেহুল চোকসির শেষ আশাতেও জল ঢালল বেলজিয়ান সুপ্রিম কোর্ট?
এর আগে অ্যান্টওয়ার্প কোর্ট অফ আপিল ১৭ অক্টোবর মেহুলের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে আপিল খারিজ করেছিল। আর মঙ্গলে বেজলিয়ান সুপ্রিম কোর্ট অ্যান্টওয়ার্পের সেই রায় বহাল রাখে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে চোকসিকে ভারতে পাঠানো হলে নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে বলে যে যুক্তি তিনি দিয়েছেন, তা ভিত্তিহীন।
পলাতক হিরা ব্যবসায়ী মেহুল চোকসির গ্রেফতারির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আপিল খারিজ করে দিল বেলজিয়ামের সুপ্রিম কোর্ট 'কোর্ট অব ক্যাসেশন'। এই আবহে বেলজিয়াম থেকে মেহুলের ভারতে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যেতে পারে। এর আগে অ্যান্টওয়ার্প কোর্ট অফ আপিল ১৭ অক্টোবর মেহুলের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে আপিল খারিজ করেছিল। আর মঙ্গলে বেজলিয়ান সুপ্রিম কোর্ট অ্যান্টওয়ার্পের সেই রায় বহাল রাখে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে চোকসিকে ভারতে পাঠানো হলে নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে বলে যে যুক্তি তিনি দিয়েছেন, তা ভিত্তিহীন।

পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) কেলেঙ্কারিতে পলাতক হিরা ব্যবসায়ী মেহুল চোকসিকে ভারতে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বেলজিয়াম সরকারের সঙ্গে দ্রুত কাজ করছে ভারত সরকার। এই আবহে মেহুলকে ভারতে নিয়ে এলে এখানে তাঁর মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে বেলজিয়ান সরকারকে আগেই আশ্বস্ত করেছে মোদী সরকার। মেহুল চোকসিকে বিচারের জন্য দেশে আনা হলে অভিযুক্তকে পর্যাপ্ত খাবার, ২৪x৭ চিকিৎসা সেবা এবং স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন সুবিধা দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, মেহুল ক্যানসার আক্রান্ত বলে দাবি করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের শুরুর দিকে বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্পে বসবাস করছিলেন মেহুল। তিনি সেখানকার রেসিডেন্সি কার্ড পেয়েছিলেন। নিজের স্ত্রী প্রীতি চোকসিকে নিয়ে সেখানে ছিলেন মেহুল। পরে বেলজিয়াম সরকার ভারতের কাছ থেকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পেয়ে ৬৬ বছর বয়সি চোকসিকে অ্যান্টওয়ার্প শহর থেকে গ্রেফতার করেছিল ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল। সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মেহুল চোকসির প্রত্যর্পণের জন্য প্রথম বেলজিয়ামের কাছে আবেদন জানায় ভারত। এরপর চলতি বছরের গোড়ায় বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে ফের সেই অনুরোধ পাঠায় সিবিআই। আর এখন মেহুল বেলজিয়ান হেফাজতে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ভারত থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন চোকসি। পলাতক চোকসি বেলজিয়াম যাওয়ার আগে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় থাকতেন। এদিকে তাঁর স্ত্রী প্রীতি বেলজিয়ামের নাগরিক। সেই সুবাদে সম্প্রতি মেহুল চোকসি 'এফ রেসিডেন্সি কার্ড' পান বেলজিয়ামের। রিপোর্টে অনুযায়ী, ভারতে প্রত্যর্পণ এড়িয়ে বেলজিয়ামে বসবাসের অনুমতি পেতে বিভ্রান্তিকর নথি ব্যবহার করেছিলেন মেহুল চোকসি। বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষের কাছে জাল নথি জমা দিয়েছিলেন এই পলাতক ব্যবসায়ী। তিনি নাকি তাঁর আগের ভারতীয় এবং অ্যান্টিগার নাগরিকত্ব গোপন করেছিলেন। এদিকে জানা গিয়েছে, ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য সুইজারল্যান্ড যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন মেহুল। এর আগে ২০২১ সালের মে মাসে অ্যান্টিগা থেকে নিখোঁজ হয়ে যান চোকসি, কিন্তু পরে তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়।
প্রসঙ্গত, পিএনবি ১৩,০০০ কোটি টাকার পিএনবি কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত মেহুল চোকসি ও তাঁর ভাইপো নীরব মোদী। ২০১৮ সালে সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করেছিল। মুম্বইয়ের ব্র্যাডি হাউস শাখায় এই কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছিল। নীরব মোদী বর্তমানে লন্ডনের জেলে রয়েছেন। ভারত তাঁর প্রত্যর্পণের চেষ্টা করছে। ২০১৯ সালে ইডি ও সিবিআইয়ের অনুরোধে নীরব মোদীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই তাঁকেও পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।












