Messi GOAT Event Chaos Update: গ্রেফতার করা উচিত মমতাকে, মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা নিয়ে দাবি পড়শি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য যেখানে কিছুই অনুমান করা যায় না। সেখানে ভিআইপি সংস্কৃতি চরম পর্যায়ে। মেসি সারা বিশ্বের কাছে একজন আদর্শ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মসমালোচনা করা উচিত। বাংলায় প্রতিদিন নিরীহ মানুষদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। এটি উদ্বেগের বিষয়।'
লিওনেল মেসির কলকাতা ট্যুরে চরম বিশৃঙ্খলার আবহে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির দাবি তুললেন পড়শি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর দাবি, এই বিশৃঙ্খলার জন্য রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যা মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এবং পুলিশ কমিশনারকে গ্রেফতার করা উচিত ছিল। হিমন্তের কথায়, 'এই ঘটনায় প্রথম দায় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এবং কমিশনারের' তিনি অভিযোগ করেন, মেসির ট্যুরের সময় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। তিনি এই গোটা ঘটনার জন্য ভিআইপি কালচারকে দায়ী করেন।

এদিকে জুবিনের মৃত্যু পরবর্তী পরিস্থিতির সঙ্গে মেসির অনুষ্ঠানের তুলনা টানেন হিমন্ত। তিনি বলেন, 'জুবিন গর্গের মৃত্যুর পর, গুয়াহাটির রাস্তায় তিন দিন ধরে প্রায় ১০ লাখ লোক নেমে এসেছিল, কিন্তু কোনও দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পোস্ট ম্যালোনের অনুষ্ঠান এখানে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সেখানে গিয়েছিলেন, এবং কোনও অঘটনের খবর পাওয়া যায়নি। মুম্বইতে, মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা হয়েছিল, এবং সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য যেখানে কিছুই অনুমান করা যায় না। সেখানে ভিআইপি সংস্কৃতি চরম পর্যায়ে। মেসি সারা বিশ্বের কাছে একজন আদর্শ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মসমালোচনা করা উচিত। বাংলায় প্রতিদিন নিরীহ মানুষদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। এটি উদ্বেগের বিষয়।'
উল্লেখ্য, ১৩ ডিসেম্বর সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসির ট্যুর ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। মেসি প্রায় ২০ মিনিট মাঠে ছিলেন। সেই সময় তাঁকে ঘিরে ছিলেন প্রায় ৮০ জনের মতো মানুষ। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ছাড়াও পুলিশের বড় বলয় ছিল সেখানে। এবং এই সবের জেরে হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটা সাধারণ মানুষ মেসিকে দেখতে পাননি। সেই সময় আয়োজক শতদ্রু দত্তকে সবাইকে মেসির পাশ থেকে সরে যেতেও বলা হয়। তবে কেউ কথা শোনেনি। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মেসিকে জড়িয়ে ধরে ছবি তোলাতে ব্যস্ত ছিলেন। এবং বাকিরাও মেসির পাশেপাশেই ঘুরঘুর করছিলেন। এতে একটা সময় ধৈর্য হারিয়ে দর্শকরা 'বু' করতে শুরু করেন। যে মাঠে বোতল নিয়ে ঢোকার অনুমতি ছিল না, সেখানেই ২০ টাকার বোতল ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। সেই বোতলই উড়ে যায় মাঠে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মেসিকে টানেল দিয়ে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় মাঠ থেকে। তারপর রেলিংয়ের গেটে তালা ভেঙে জনতা ঢুকে পড়ে মাঠে। গ্যালারি থেকে বাকেট সিট ভেঙে তা মাঠে ফেলা হয়। ছেঁড়া হয় ফ্লেক্স। এমনকী ভিআইপিদের জন্য মাঠের পাশে রাখা চেয়ারে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয় দর্শকদের। পুলিশ লাঠিচার্জ করে দর্শকদের মাঠ থেকে সরানোর চেষ্টা করে। এরই মাঝে অনেক দর্শক বারপোস্টের জাল কেটে 'স্মৃতিচিহ্ন' সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তারপর দেখা যায় কেউ চেয়ার নিয়ে যাচ্ছেন তো কেউ কার্পেট কাঁধে নিয়ে যাচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় সল্টলেক স্টেডিয়ামের দিকেই যাচ্ছিলেন। তবে মেসি মাঠ ছাড়ার পর তিনি আর স্টেডিয়ামে যাননি। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি মেসির কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। এই গোটা চিত্রে আন্তর্জাতিক স্তরে মুখ পুড়েছে বাংলার।












