'আজকের দিনটা...,' ওয়াংখেড়েতে মেসি-সচিন ম্যাজিক, সুনীলের পিঠে স্নেহের পরশ
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এক ফ্রেমে ধরা দিলেন ক্রীড়া জগতের দুই কিংবদন্তি। একজন ক্রিকেট মাঠের। অন্যজন ফুটবলের।
ভারত সফরে এসেছেন বিশ্ব ফুটবলের মহানায়ক লিওনেল মেসি। তাঁকে ঘিরে একদিন আগেও কলকাতার যুবভারতীতে ছিল ক্ষোভের বারুদ। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান, মিসম্যানেজমেন্টের অভিযোগ, অস্বস্তির আবহ। ঠিক ২৪ ঘণ্টা পর সেই ছবিটা উল্টে দিল মুম্বই। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রবিবার সন্ধ্যায় যা দেখা গেল, তা শুধুই ফুটবল-উৎসব নয়, ভারতীয় ক্রীড়াস্মৃতির এক বিরল অধ্যায়। লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ, রড্রিগো ডি-পল, সচিন তেন্ডুলকার, সুনীল ছেত্রী একই মঞ্চে। দর্শকদের জন্য আর কী চাই। সচিন পরে মেসিকে নিয়ে বলতে গিয়ে তুলে ধরলেন তাঁর নিষ্ঠা, অর্জন আর তরুণদের অনুপ্রাণিত করার ভূমিকার কথা।

এক ফ্রেমে দুই কিংবদন্তি
রবিবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এক ফ্রেমে ধরা দিলেন ক্রীড়া জগতের দুই কিংবদন্তি। একজন ক্রিকেট মাঠের। অন্যজন ফুটবলের। সচিন তেন্ডুলকর ও লিওনেল মেসি। একে অপরকে আলিঙ্গন করেন দুই মহাতারকা। সচিনের উষ্ণতার পরশ পেলেন রদ্রিগো দে পল ও লুইস সুয়ারেজও। মেসির ভারত সফরের মুম্বই অধ্যায় স্মরণীয় হয়ে রইল। মেসি ও সচিন-দুজনই মাঠ মাতিয়েছেন ১০ নম্বর জার্সি পরে। রবিবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সচিন নিজের সই করা ভারতীয় ক্রিকেট দলের দশ নম্বর জার্সি তুলে দেন মেসির হাতে। রিটার্ন গিফট দেন এল এম টেনও। একটি সই করা ফুটবল তুলে দিলেন সচিনের হাতে। কিন্তু অর্থ অনেক গভীর। সম্মান, স্বীকৃতি আর দুই খেলাধুলোর মধ্যেকার এক অনুচ্চারিত সেতু।
আর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের ভক্তদের জন্য এটি ছিল একটি 'সুপার সানডে।' ক্রিকেট বনাম ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যা প্রায়শই খেলার ডাই-হার্ড ভক্তদের মধ্যে দেখা যায়, তা এদিন পেছনে চলে যায়। কারণ খেলাধুলার দুই সবচেয়ে বড় আইকন, আর্জেন্টিনার ফিফা বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার মেসি এবং 'ক্রিকেটের ঈশ্বর' সচিন, সর্বকালের অন্যতম সেরা একটি ক্রসওভার তৈরি করেছেন, যা নিঃসন্দেহে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে লেখা থাকবে। পরে এক্স পোস্টে মেসির সঙ্গে ছবি পোস্ট করে সচিন লেখেন, 'বলতেই হবে, আজকের দিনটা ছিল ১০/১০ লিও মেসি।' বলে রাখা ভালো, মেসিকে তাঁর ১০ নম্বর টিম ইন্ডিয়ার জার্সি দেওয়ার প্রসঙ্গে, যিনি আর্জেন্টিনার হয়েও ১০ নম্বর জার্সি পরেন।
সুনীল ছেত্রীকে সঞ্জীবনী মেসির
লিওনেল মেসি ভারতীয় ফুটবলকে যেন জীবন দিয়ে গেলেন। তাঁর স্নেহপরশে কী মৃতপ্রায় ফুটবল সঞ্জীবনী পেল? তার উত্তর দেবে সময়। তবে রবি-সন্ধ্যায় ওয়াংখেড়েতে যে ফ্রেম তৈরি হয়ে গেল, তা সারা জীবনের সঞ্চয়। অস্ফুটে এলএম ১০ যেন বলে দিয়ে গেলেন, এই দেশ থেকে আরও সুনীল ছেত্রী তৈরি হতেই পারে। ভাবীকালকে উৎসাহ জুগিয়ে গেল লিও মেসির রবিবারের মুম্বই সফর। ফুটবলে সুনীল ছেত্রীর দেশ এখন অসময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে ফিফার ক্রমতালিকায় ক্রমশ পিছোতে থাকা এক দেশের মহাতারকা ফুটবলারকে মেসি সম্মান দিয়ে গেলেন। তাঁর কৃতিত্বকেও স্বীকৃতি দিয়ে গেলেন। সুনীলের পিঠে স্নেহের পরশ দেন মেসির।
তবে মেসি ওয়াংখেড়েতে পা রাখার আগে সেভেন আ সাইড ফুটবল ম্যাচ চলছিল। সুনীল সেখানে হেডে দুর্দান্ত এক গোল করেন। তখনও মেসির আবির্ভাব হয়নি। খেলা চলাকালীনই থ্রি মাস্কেটিয়ার্স-মেসি, সুয়ারেজ ও দি পল মাঠে প্রবেশ করেন। দু'দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন তিন মহাতারকা। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ফুটবলারদের তালিকায় সবার শেষে দাঁড়িয়ে ছিলেন সুনীল ছেত্রী। মেসি এগিয়ে যান সুনীলের দিকে। আর্জেন্টাইনের হাসি ততক্ষণে লক্ষ ওয়াট ছাড়িয়েছে। সুনীলের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেন তিনি। ভারতীয় কিংবদন্তির পিঠে হাত রাখেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। শুধু তাই নয়, সুনীলকে জড়িয়ে ধরেন মেসি। সুনীলের হাতে হাসতে হাসতে মেসি তুলে দিয়ে ছেন দশ নম্বর লেখা আর্জেন্টিনার জার্সি।












