ইন্ডিগোর আকাশে বিপর্যয়! কী কারণে যাত্রী হয়রানি? সংসদে প্রশ্নের মুখে ইঙ্গিতবাহী বার্তা মন্ত্রীর
বিমান পরিবহণ খাতে আরও সংস্থাকে অংশগ্রহণে উৎসাহ দিতে চায় কেন্দ্র, এই কথাও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
বিমানবন্দরগুলিতে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল, দীর্ঘ লাইনে আটকে থাকা যাত্রীরা - ইন্ডিগোর ক্রু-সংকট ঘিরে কয়েক দিনের অস্থিরতা দেশজুড়ে। এক সপ্তাহ পরেও ইন্ডিগো বিপর্যয়ে এখনও যাত্রী হয়রানি কমেনি। সপ্তাহের শুরুতে আজও অচলাবস্থা কাটেনি ইন্ডিগোতে। সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন বিমানবন্দরে একের পর এক উড়ান বাতিল হয়েছে। ইন্ডিগোর এই যাত্রী হয়রানি নিয়ে এবার সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিলেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডু কিনজারাপু।

সোমবার রাজ্যসভায় সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারির এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামমোহন নাইডু বলেন, ইন্ডিগো সংকট বিমান সংস্থার 'ক্রু রোস্টারিং ও অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা ব্যবস্থার; সমস্যার কারণে ঘটেছে। ইন্ডিগোর গণ উড়ান বাতিল সমস্যা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, 'সরকার সকল পক্ষের সঙ্গে এই বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এপ্রিলে হাইকোর্টের নির্দেশিকা অনুসারে, ডিজিসিএ-র নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।' মন্ত্রী বলেন, নতুন যাত্রী-নিরাপত্তা বিধি কার্যকর হওয়ার পর ইন্ডিগোর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি তৈরি হয়। তার জেরেই শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়, হাজার হাজার যাত্রীর ভ্রমণ ব্যাহত হয়। তাঁর কথায়, 'পাইলট, ক্রু এবং যাত্রী-সবার নিরাপত্তা ও স্বার্থই আমাদের অগ্রাধিকার। সব সংস্থাকে আমরা আগেই জানিয়েছিলাম। ইন্ডিগোকে নিজেদের ক্রু ও রোস্টারের ওপর নজরদারি শক্ত করতে হত। এত মানুষের ভোগান্তিকে আমরা হালকা ভাবে নিচ্ছি না। কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
বিমান পরিবহণ খাতে আরও সংস্থাকে অংশগ্রহণে উৎসাহ দিতে চায় কেন্দ্র, এই কথাও মন্ত্রী এদিন উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ভারতের বাজার পাঁচটি বড় এয়ারলাইন ধরে রাখার মতো সামর্থ্য রাখে। তবে তাঁর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি বিরোধী দল। আলোচনা চলাকালীনই তাঁরা অসন্তোষ প্রকাশ করে সভা থেকে ওয়াক-আউট করেন। যাত্রীদের ক্ষোভের মুখে এয়ারলাইন সংস্থাগুলির ওপর চাপ বেড়েছে কিন্তু মন্ত্রীর বার্তায় পরিষ্কার, এই নিয়ম না মানলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থেকে শুরু করে জরিমানাও আসতে পারে। মন্ত্রী রাজ্যসভায় জোর দিয়ে বলেন, ভারতের বিমান পরিবহন ব্যবস্থাকে বিশ্বের সেরা মানে নিয়ে যেতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর কথায়,' যাত্রীরা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। আমরা এর জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেব। প্রতিটি বিমান সংস্থার জন্য একটি উদাহরণ স্থাপন করব। যদি কোনও নিয়ম বা বিষয় অমান্য করা হয়, আমরা পদক্ষেপ করব।’ তিনি আরও বলেন, 'দেশের এভিয়েশন সেক্টরের জন্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট, 'Global standards' বজায় রাখা এবং উন্নতি করা। যাত্রী নিরাপত্তা, প্রযুক্তি উন্নয়ন, এবং সেবা মান সবক্ষেত্রেই আমরা উন্নত মান চাই।'
ইন্ডিগো বিপর্যয় সোমবার সপ্তম দিনে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের বিমান চলাচল সংক্রান্ত সংস্থা ডিরেক্টর জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) নতুন করে পাইলটদের প্রতি আর্জি জানিয়েছে কাজে যোগ দিতে। ডিজিসিএ ইন্ডিগোর অ্যাকাউন্টেবল ম্যানেজার এবং সিইওকে ৬ ডিসেম্বর জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেওয়ার দিতে আরও ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। ৮ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ এবং উপযুক্ত উত্তর জমা না দিলে বিষয়টিতে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।












