Muhammad Yunus Government Update: বাংলাদেশে বুক কাঁপছে ইউনুসের মুখপাত্রের? বার্তা 'বিদেশি শক্তি' নিয়ে

শফিকুল জানান, তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও ভাইবোনরা তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা চান, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনি যেন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং সংযত থাকেন। এরই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, 'বিদেশি শক্তি' নাকি বাংলাদেশকে লাইনচ্যুত করার চেষ্টা করবে।

Published on: Dec 14, 2025 9:05 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলাদেশে কট্টর ভারত বিরোধী ছাত্র নেতা ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন গত ১২ ডিসেম্বর। আর এই ঘটনার পর থেকেই ইউনুস প্রশাসনের কর্তা এবং এনসিপির নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই আবহে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানালেন, তাঁর নিরাপত্তা নিয়েও পরিবার উদ্বিগ্ন। তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও ভাইবোনরা তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা চান, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনি যেন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং সংযত থাকেন। যদিও শফিকুল নিজে দাবি করেছেন, তিনি নাকি ভীত হননি এই ঘটনায়। এরই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, 'বিদেশি শক্তি' নাকি বাংলাদেশকে লাইনচ্যুত করার চেষ্টা করবে।

শফিকুল আলমের অভিযোগ, 'বিদেশি শক্তি' নাকি বাংলাদেশকে লাইনচ্যুত করার চেষ্টা করবে।
শফিকুল আলমের অভিযোগ, 'বিদেশি শক্তি' নাকি বাংলাদেশকে লাইনচ্যুত করার চেষ্টা করবে।

এক ফেসবুক পোস্টে ওসমান হাদির ওপর হামলার বিষয়ে শফিকুল আলম লেখেন, 'আমি যেখানেই যাই, সেখানেই লাখ লাখ হাদিকে দেখতে পাই। বাংলার কসাই হাসিনা কতজনকে হত্যা করতে পারবে? এই প্রজন্মের কোটি কোটি হাদি যতক্ষণ তাদের অবস্থানে অনড় থাকবে, ততদিন আমার ভয় পাওয়ার বা আশাহত হওয়ার কোনও কারণ দেখি না। এই প্রজন্ম তাদের পরিবারের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছে, এই জাতিকে ঠিক না করা পর্যন্ত তারা থামবে না।'

এদিকে শফিকুল আরও বলেন, 'আমি নিশ্চিত, আগামী দশকগুলোতে বাংলাদেশ পথ হারাবে না। সামনে ধাক্কা আসবে। শক্তিশালী দেশি ও বিদেশি শক্তি সাময়িকভাবে ইঞ্জিন বিকল করার চেষ্টা করবে। কিন্তু এ তরুণরা ভয় পায় না। তারা গন্তব্যে পৌঁছাবেই।' অবশ্য, শফিকুলের পোস্টে 'বিদেশি শক্তি' বলতে কোন দেশকে বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে উল্লেখ্য বিষয়, ওসমান হাদি ভারত বিরোধী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিল। তাঁর ওপর হামলার ঘটনায় ভারতের 'র'-এর দিকে আঙুল তুলেছেন হাদির বোন মাহফুজা। এদিকে এনসিপি নেতা সারজিস আলমও ইঙ্গিত দেন, ভারত বিরোধী হওয়াতেই নাকি হামলা হয়েছে হাদির বিরুদ্ধে।

প্রসঙ্গত, হাসিনার বিদায়ের পর একাধিক জনসভায় এই ওসমান হাদি স্লোগান তুলেছিলেন - 'দিল্লি না ঢাকা'। গত ১২ ডিসেম্বর সেই ওসমান গুলিবিদ্ধ হন। তিনি ঢাকা-৮ আসনের নির্দল প্রার্থী হতে চলেছিলেন আসন্ন নির্বাচনে। এদিকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এই ওসমান ভারতের বিকৃত একটি মানচিত্র পোস্ট করেছিলেন ফেসবুকে। একটি আলোচনা সভার সেই পোস্টে ভারতের থেকে পঞ্জাব, লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে বিচ্ছিন্ন দেখানো হয়েছিল। সেগুলিকে পাকিস্তানের এলাকা হিসেবে দেখানো হয় মানচিত্রে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ, বিহারের অধিকাংশ এলাকা, গোটা ঝাড়খণ্ড, উত্তরপূর্ব ভারত এবং মায়ানমারের আরাকান প্রদেশের উপকূলীয় এলাকাটিকে 'বৃহত্তর বাংলাদেশ'-এর অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।

এদিকে ওসমান হাদির ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর থেকে তা নিয়ে জামাতের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিল বিএনপি। যা নিয়ে পালটা ক্ষেপেছে জামাত। এই আবহে জামাত, বিএনপি, এনসিপিকে নিয়ে বৈঠক করেন ইউনুস। এই দলগুলিকে একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে বারণ করেন তিনি। সেই বৈঠকে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, দলগুলোর টানাপোড়েনে আমরা জুলাই বিপ্লবকে শেষ করে দিচ্ছি। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, দলগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছে। যদিও সেই বৈঠকের বৈঠকের পরও একে অপরের বিরুদ্ধে তোপ দাগা অব্যাহত রেখেছে দলগুলি।