গণভোটে কোনদিকে ঝুঁকল বাংলাদেশ? অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবে সায়?ফলাফল প্রকাশ্যে
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ভোট পড়েছে ৬০.২৬ শতাংশ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার একই সঙ্গে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের আয়োজন করা হয় বাংলাদেশে। গত নভেম্বরে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী চারটি বিষয়ের উপর একটি প্রশ্নের ভিত্তিতে হয়েছে ওই গণভোট। আর সেই গণভোটের প্রবণতা জানাচ্ছে, বড় ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ পেয়ে জয়ী হয়েছে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাব।

শুক্রবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ভোট পড়েছে ৬০.২৬ শতাংশ। এরমধ্যে 'হ্যাঁ' ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লক্ষ ৭৪ হাজার ৪২৯টি। অন্যদিকে, 'না' ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। স্বাভাবিকভাবে, এতে হ্যাঁ ভোট জয়ী হয়েছে। তথ্যের বিভ্রাট যেন না হয়, সেই কারণে ফল প্রকাশে দেরি হল। তবে জাতীয় নির্বাচনের থেকে গণভোটের হার বেশি কীভাবে হল? এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, 'আপানার জানেন দুটি আসনের ভোট গ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু ফলাফল প্রকাশ হবে না। এ কারণে গণভোটের ক্ষেত্রে শতাংশটা বেড়ে গিয়েছে।'
আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ২৯৭টা আসনের বেসরকারি ফলাফলে ভোটের হার ৫৯.৪৪ শতাংশ। তিনি আরও জানান, বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। সেখানে জামায়াতে ইসলামী ৬৮, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণ অধিকার ১টি, বিজেপি ১টি, গণসংহিত ১টি, খেলাফত মজলিস ১টি এবং স্বতন্ত্র ৭টি আসন দখল করেছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ভোটের সাড়ে ৬ ঘণ্টায় ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে সংসদ নির্বাচনের ভোটের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। তবে শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে আগেই ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো গণভোটেও প্রবাসী-সহ চার শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ভোটারদের সমর্থন আছে কিনা, সেই প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিয়েছেন ভোটাররা।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৫ অগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের বর্ষপূর্তিতে ‘৩৬ জুলাই উদ্যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন ইউনূস। ২৮ দফার ওই ঘোষণাপত্র হল ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের একটি দলিল, যার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। মুজিবুর রহমান এবং হাসিনার আমলে ‘আওয়ামী লিগের স্বৈরাচারের’ পাশাপাশি ওই সনদে সমালোচনা করা হয়েছে দুই সেনাশাসক, জিয়াউর রহমান (বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা) এবং হুসেন মহম্মদ এরশাদের (জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা) জমানারও। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে ঘোষণার কথাও বলা হয়েছে ওই সনদে। সেই সঙ্গে জুলাই রয়েছে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ৮৪ দফা প্রশাসনিক সংস্কারের ঘোষণা।
E-Paper











