দীর্ঘ ৩২ ঘন্টার অভিযান! গ্যাস ট্যাঙ্কারে দুর্ঘটনা, ক্ষোভ-আতঙ্ক শেষে স্বাভাবিক মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ে

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবীস তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

Published on: Feb 06, 2026 11:55 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দীর্ঘ ৩২ ঘন্টার যানজট। ৯৪.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ে বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত কার্যত অচল হয়ে পড়ল। কিন্তু কেন এই দুর্ভোগ? মুম্বই–পুনে এক্সপ্রেসওয়ের আদোশি টানেলের কাছে প্রোপিলিন গ্যাসবোঝাই একটি ট্যাঙ্কার উল্টে যাওয়ার জেরেই প্রায় ৩২ ঘণ্টা ধরে যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। জল, খাবার ও শৌচাগারের মতো ন্যূনতম সুবিধা ছাড়াই ঘন্টার পর ঘন্টা বহু মানুষকে গাড়ির মধ্যে আটকে থাকতে হয়।

ক্ষোভ-আতঙ্ক শেষে স্বাভাবিক মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ে
ক্ষোভ-আতঙ্ক শেষে স্বাভাবিক মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ে

ঘটনার সূত্রপাত

সূত্রের খবর, কোচি থেকে সুরাত যাচ্ছিল একটি ট্যাঙ্কার। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা নাগাদ মুম্বইমুখী লেনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি উল্টে যায়। ট্যাঙ্কারটিতে ২১ টন 'উচ্চমাত্রায় দাহ্য' প্রোপিলিন গ্যাস ছিল। দুর্ঘটনার পরই ট্যাঙ্কারটি থেকে গ্যাস লিক করতে থাকে। বড়সড় বিপদের আশঙ্কাও তৈরি হয়। সঙ্গে সঙ্গে মুম্বইগামী লেন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় প্রশাসনের তরফ থেকে। গ্যাসের চাপ অত্যন্ত বেশি থাকায় এবং ভালভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজেও দেরি হয়। দমকল, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং ভারত পেট্রোলিয়ামের বিশেষ রাসায়নিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে গ্যাসের চাপ ৮ psig থেকে ২ psig-এ নামার অপেক্ষা করতে হয়। আগুন লাগা ঠেকাতে দমকল ক্রমাগত জল ছিটিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। দুর্ঘটনাস্থলের চারপাশে ৫০০ মিটার এলাকা ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ ঘোষণা করা হয়। রাত গভীর হলে অন্য ট্যাঙ্কারে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয় এবং উল্টে থাকা ট্যাঙ্কার সরানো হয়। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল শুরু হয়।

দুর্ঘটনার প্রভাব

এই দুর্ঘটনার প্রভাব পড়ে এক্সপ্রেসওয়ের দুই দিকেই। পুনেমুখী যানবাহন খালাপুর টোল প্লাজা পর্যন্ত আটকে পড়ে। অন্য দিকে মুম্বইমুখী লেনে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। বুধবার এক্সপ্রেসওয়ের ড্রোনচিত্র প্রকাশ করে প্রশাসন। তাতে ধরা পড়ে গাড়ির ২০-২২ কিলোমিটারের লম্বা লাইন। দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় আটকে পড়ে যাত্রীদের ক্ষোভ ও আতঙ্ক দুটোই ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ জল বাঁচিয়ে রেখে খাচ্ছেন, কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি থেকে বেরতে পারেননি। ছোট শিশু, প্রবীণ যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। কেউ ডায়াপার ফুরিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন, কেউ আবার অসুস্থ শরীরে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার যন্ত্রণা। নাসিক থেকে মুম্বই যাচ্ছিলেন এক প্রবীণ দম্পতি - তাঁদের শেষমেশ তামহিনি ঘাট ঘুরে যেতে হয়। পুনের ব্যবসায়ী সুধীর মেহতা আট ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকার পর হেলিকপ্টারে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে এক্সিট পরিকল্পনার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শুধু তাই নয়, আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের হয়রানির কথা জানান। অনেকে এই এক্সপ্রেসওয়েকে ‘পার্কিং লট’ বলে কটাক্ষও করেন।

প্রশাসনের তরফে যাত্রীদের তামহিনি ঘাট, কারজাত, মালশেজ ঘাট, আলে ফাটার মতো বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হলেও সেখানেও চাপ তৈরি হয়। এদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবীস তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুপারিশ-সহ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে এমএসআরডিসি-কে। খোপোলি থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর অনুযায়ী, অতিরিক্ত গতিতে ও রাস্তার পরিস্থিতি বিবেচনা না করে গাড়ি চালানোর ফলেই এই দুর্ঘটনা। চালক রতন সিং আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তবে দীর্ঘ সময় পরে পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে ওই রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।