‘সংঘে কোনও...,' RSS-এ কী মুসলিমদের প্রবেশাধিকার আছে? বিস্ফোরক মোহন ভাগবত

সম্প্রতি স্কুল-কলেজ, সরকারি অফিস বা পাবলিক স্পেসে আরএসএস-এর কর্মসূচী নিষিদ্ধকরণের দাবিতে উত্তাল কর্ণাটকের রাজ্য রাজনীতি।

Published on: Nov 09, 2025 9:33 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল নয়; বরং নীতির পক্ষে অবস্থান নেয়। এমনটাই বলেছেন সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর মতে, অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের দাবিকে যদি কংগ্রেস সমর্থন করত, তাহলে আরএসএসের কর্মীরা কংগ্রেসের পক্ষেই থাকত। মোহন ভাগবতের এই মন্তব্য এমন সময়ে এল-যখন কংগ্রেসের বিভিন্ন নেতা, বিশেষ করে দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে আরএসএসের সমালোচনায় মুখর।

বিস্ফোরক মোহন ভাগবত (PTI)
বিস্ফোরক মোহন ভাগবত (PTI)

বেঙ্গালুরুর একটি অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান বলেন, ‘আমরা কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করি না। নির্বাচনের রাজনীতিতেও অংশগ্রহণ করি না। সংঘের কাজ হল সমাজকে এক করা। অন্যদিকে, রাজনীতি বিভাজন সৃষ্টি করে। আমরা নীতিকে সমর্থন করি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমরা অযোধ্যায় রাম মন্দির চেয়েছিলাম। তাই আমাদের স্বয়ংসেবকরা এটি নির্মাণের পক্ষে ছিলেন। বিজেপি তা সমর্থন করেছিল। তাই তারা ভোট পেয়েছে। কংগ্রেস যদি ওই দাবিকে সমর্থন করত, আমাদের স্বয়ংসেবকেরা তাদেরই ভোট দিত।’ তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাদের কোনও দলের প্রতি বিশেষ আবেগ নেই। সংঘের নিজস্ব কোনও দল নেই, কোনও দল আমাদের নয়। আবার সব দলই আমাদের-কারণ তারা ভারতীয় দল। আমরা রাষ্ট্রনীতিকে সমর্থন করি, রাজনীতিকে নয়। আমাদের নিজস্ব মত আছে। আমরা চাই, দেশ নির্দিষ্ট পথে এগোক। যারা সেই পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, আমরা তাদেরই সমর্থন করব।’

আরএসএসে মুসলিমদের যোগ দেওয়ার সুযোগ আছে কিনা-প্রশ্নের জবাবে মোহন ভাগবত বলেন, ‘সংঘে কোনও ব্রাহ্মণের প্রবেশাধিকার নেই, কোনও বর্ণের কারও প্রবেশাধিকার নেই, মুসলিম ও খ্রিস্টানদেরও নেই...মুসলিম, খ্রিস্টান বা অন্য কোনও সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের বিচ্ছিন্নতাকে দূরে সরিয়ে রেখে সংঘে আসতে পারেন। যখন আপনি শাখায় আসবেন তখন আপনি ভারত মায়ের পুত্র হিসেবে এখানে আসবেন। মুসলমান ও খ্রিষ্টানরাও শাখায় আসেন। তবে আমরা তাঁদের সংখ্যা গুনি না। আমরা প্রশ্ন করি না তাঁরা কোন ধর্ম বা জাতির সদস্য।’ কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করছেন, আরএসএস নথিভুক্ত সংগঠন নয়। পাল্টা জবাবে আরএসএস প্রধান বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর বহুবার দেওয়া হয়েছে। যাঁরা প্রশ্ন তুলতে চান, তাঁরা বারবার সেটা তুলেই যান। সংঘের জন্ম ১৯২৫ সালে। তখন কী আমরা ব্রিটিশ সরকারের কাছে গিয়ে নথিভুক্ত করতাম? স্বাধীনতার পরও আইন অনুযায়ী নথিভুক্ত বাধ্যতামূলক নয়। 'বডি অব ইনডিভিজুয়্যালস' হিসেবেই আমাদের আইনগত স্বীকৃতি আছে এবং আমরা একটি স্বীকৃত সংগঠন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের তিনবার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। যদি আমরা না থাকতাম, তাহলে সরকার কাকে নিষিদ্ধ করেছিল? প্রতিবারই আদালত সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন। সংসদ ও বিধানসভায় বহুবার আরএসএসকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমর্থন ও বিরোধিতা-দুটিই হয়েছে। আইনগতভাবে ও বাস্তবে আমরা একটি সংগঠন, অসাংবিধানিক নই। তাই নথিভুক্তের প্রয়োজন নেই। অনেক কিছুই আছে, যেগুলি নথিভুক্ত নয়। হিন্দুধর্মও তো নথিভুক্ত নয়।’ প্রসঙ্গত, সম্প্রতি স্কুল-কলেজ, সরকারি অফিস বা পাবলিক স্পেসে আরএসএস-এর কর্মসূচী নিষিদ্ধকরণের দাবিতে উত্তাল কর্ণাটকের রাজ্য রাজনীতি। সংঘকে ‘সাম্প্রদায়িক সংগঠন’ বলে উল্লেখ করে তোপ দেগে আসছেন কর্ণাটকের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে। সেইসঙ্গে কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকারও সরকারি জায়গা বা পাবলিক স্পেসে আরএসএস-এর কার্যক্রমের উপর লাগাম টানতে চাইছে।

News/News/‘সংঘে কোনও...,' RSS-এ কী মুসলিমদের প্রবেশাধিকার আছে? বিস্ফোরক মোহন ভাগবত