Narendra Modi on Vande Mataram: বাংলা ভাগের সময় বন্দে মাতরম…, সংসদে বললেন মোদী, ‘বঙ্কিমদা’ সম্বোধনে আপত্তি সৌগতর

আজকে বক্তৃতা দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে একাধিক বার ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেন। তা নিয়ে আপত্তি তোলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি মোদীর উদ্দেশে বলেন, 'অন্তত বাবু বলুন।' এরপর সৌগতকে 'দাদা' সম্বোধন করে ধন্যবাদ জানান মোদী। বলেন, 'বঙ্কিমবাবু বলছি।'

Published on: Dec 08, 2025 1:13 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বন্দে মাতরমের ১৫০তম বার্ষিকী নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে লোকসভায়। সংসদে এই আলোচনার শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ব্রিটিশরা যখন ভারতকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছিল, তখন বন্দে মাতরম তাদের থামিয়ে দিয়েছিল। এই ইস্যুতে আলোচনার জন্য লোকসভায় ১০ ঘণ্টা সময় নির্ধারিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে আলোচনা হবে, যার সূচনা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিকে আজকে বক্তৃতা দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে একাধিক বার ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেন। তা নিয়ে আপত্তি তোলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি মোদীর উদ্দেশে বলেন, 'অন্তত বাবু বলুন।' এরপর সৌগতকে 'দাদা' সম্বোধন করে ধন্যবাদ জানান মোদী। বলেন, 'বঙ্কিমবাবু বলছি।'

বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনার জন্য লোকসভায় ১০ ঘণ্টা সময় নির্ধারিত করা হয়েছে। (Sansad TV)
বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনার জন্য লোকসভায় ১০ ঘণ্টা সময় নির্ধারিত করা হয়েছে। (Sansad TV)

আজ লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, 'ব্রিটিশরা ভারতকে বিভক্ত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গকে বেছে নিয়েছিল। ব্রিটিশরা বুঝতে পেরেছিল যে ১৮৫৭ সালের পরে দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে বেঁচে থাকা তাদের পক্ষে কঠিন ছিল। তারা বুঝেছিল, ভারতকে বিভক্ত না করলে, ভারতকে টুকরো টুকরো না করলে, ভারতে মানুষকে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বাধ্য না করলে এখানে শাসন করা কঠিন হবে। ব্রিটিশরা বিভাজন ও শাসনের পথ বেছে নিয়েছিল এবং বাংলাকে তাদের গবেষণাগারে পরিণত করেছিল।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, 'এই সব এমন একটি সময় ছিল যখন বাংলার বুদ্ধিশক্তি দেশকে দিশা দেখাচ্ছিল। বাংলা দেশকে শক্তি যুগিয়েছেন। বাংলা দেশকে অনুপ্রাণিত করত। সেজন্য ব্রিটিশরা বাংলার বিভাজনের জন্য কাজ করেছিল। ব্রিটিশরা বিশ্বাস করত, বাংলা ভাগ হয়ে গেলে দেশও ভেঙে যাবে। ১৯০৫ সালে বাংলা বিভাজন করা হয়। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশরা যখন এই পাপ করেছিল, তখন বন্দে মাতরম একটি পাহারের মতো দাঁড়িয়ে ছিল ব্রিটিশদের সামনে।'

প্রসঙ্গত, ১৮৭০-র দশকে বন্দে মাতরম লেখেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এই আবহে গত ৭ নভেম্বর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বন্দে মাতরমের সার্ধশতবর্ষ বা ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিকে আজ মোদী অভিযোগ করেছিলেন যে, কংগ্রেস বন্দে মাতরমের গুরুত্বপূর্ণ স্তবক বাদ দিয়ে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, '১৯৩৭ সালে বন্দে মাতরমের গুরুত্বপূর্ণ স্তবক, যা গানটির প্রাণ, সেগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বন্দে মাতরমের ওই বিভাজন দেশভাগের বীজ বপন করেছিল। ‘আজকের প্রজন্মের জানা উচিত, জাতি গঠনের এই মহামন্ত্রের সঙ্গে কেন এই অবিচার করা হয়েছিল। এই বিভাজনমূলক মানসিকতা এখনও দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ।' পরে অবশ্য কংগ্রেস সভাপতি বলেছিলেন, '১৯৮৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত, কংগ্রেসের ছোট-বড় প্রত্যেকটি বৈঠকে আমরা গর্বের সঙ্গে বন্দে মাতরম গাই। এই গান আমাদের দেশমাতৃকার গান। মানুষের মধ্যে একতা এবং প্রত্যেক ভারতবাসীর প্রাণের গান বন্দে মাতরম।'