‘ম্যাডাম সার্জন!' 'অপারেশন হামদর্দ’-র দায়িত্বে শাহিন? দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে নয়া তথ্য
গোয়েন্দাদের অনুমান, জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠন সংখ্যালঘু অল্পবয়সি তরুণ-তরুণীদের 'মগজধোলাই' করে ‘অপারেশন হামদর্দ’-এ যোগ করানো হত। সূত্রের খবর, যার নেপথ্যে ছিল গ্রেফতার হওয়া মহিলা চিকিৎসক শাহিন।
দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণে চিকিৎসক শাহিন সইদ তথা ‘ম্যাডাম সার্জন’কেই মূল ষড়যন্ত্রী বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে নেমে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত শাহিনকে ‘ম্যাডাম সার্জন’ নামেই ডাকত তার সঙ্গীরা। গত সপ্তাহে ফরিদাবাদ থেকে গ্রেফতার হওয়া এই চিকিৎসকের নাম উঠে এসেছে এক উচ্চশিক্ষিত, 'সাদা পোশাকের জঙ্গি মডিউল'-এর কেন্দ্রে।

‘অপারেশন হামদর্দ’
ফরিদাবাদে শাহিনের গ্রেফতারের পর তদন্তকারী সংস্থাগুলি যে ডিজিটাল প্রমাণ আবিষ্কার করেছে তা পুরো মডিউলের মেরুদণ্ড উন্মোচিত করেছে। এরমধ্যে রয়েছে হাতে লেখা ডায়েরি, তহবিল তালিকা, নিয়োগ নোট, লক্ষ্য মানচিত্র এবং নিরাপদ যোগাযোগ কোড। এই নথিগুলিতে স্পষ্টভাবে 'ডি-৬ মিশন: ৬ ডিসেম্বর' উল্লেখ রয়েছে, যা ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিশোধ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছিল। ডঃ শাহিন 'ম্যাডাম সার্জন' হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০২১ সাল থেকে সে জেইএম-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছে বলে জানা গেছে। এর আগে ধৃত চিকিৎসক মুজাম্মিল-এর কাছ থেকে যে ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছিল সেখানে উল্লেখ রয়েছে ‘অপারেশন হামদর্দ’-এর কথা। গোয়েন্দাদের অনুমান, জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠন সংখ্যালঘু অল্পবয়সি তরুণ-তরুণীদের 'মগজধোলাই' করে ‘অপারেশন হামদর্দ’-এ যোগ করানো হত। সূত্রের খবর, যার নেপথ্যে ছিল গ্রেফতার হওয়া মহিলা চিকিৎসক শাহিন। তার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। শাহিন দুটি নম্বর থেকে নির্দেশ সংক্রান্ত বার্তা পেয়েছিল। শাহিন সেই নম্বরগুলিকে 'ম্যাডাম এক্স' এবং 'ম্যাডাম জেড' নামে তার ফোনে সেভ করেছিল। দুটি নম্বরেরই কোনও ছবি নেই।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ম্যাডাম এক্স গত জুলাই মাসে ম্যাডাম সার্জনকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠিয়েছিল, সেখানে সে শীঘ্রই ম্যাডাম জেডকে সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অন্য একটি বার্তায়, শাহিন বলেছিল যে তার অর্ডার করা ওষুধটি এই সপ্তাহেই পৌঁছে যাবে। এরপর লিখেছিল, সে নিশ্চিত করবেন যে অপারেশনের জন্য কোনও ওষুধের অভাব নেই। তদন্তকারীদের মতে, এই 'মেডিসিন' শব্দটি বিস্ফোরক বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছিল। হামলার কোড ওয়ার্ড হিসেবে 'অপারেশন' শব্দটি ব্যবহার করা হয়। একইভাবে, ম্যাডাম জেডের কাছ থেকে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছিল, যেখানে লেখা ছিল, 'ম্যাডাম সার্জন, দয়া করে অপারেশন হামদর্দে আরও মনোযোগ দিন।' জইশ-ই-মহম্মদের এই গোপন নেটওয়ার্ক মূলত সংখ্যালঘু অল্পবয়সী তরুণী ও মহিলাদের লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছিল। এই মুহূর্তে তদন্তকারী সংস্থাগুলি ম্যাডাম এক্স এবং ম্যাডাম জেড কারা তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
কে শাহিন সইদ?
ফরিদাবাদ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের তদন্তে নেমে মহিলা চিকিৎসক শাহিনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। দিল্লি বিস্ফোরণের নেপথ্যেও তার মদত রয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান গোয়েন্দাদের। তদন্তকারী সূত্রে আগেই দাবি করা হয়েছে, এই শাহিনকে জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা ব্রিগেডের 'মাথা' বানিয়ে ভারতে নাশকতা সৃষ্টির জন্যে নিযুক্ত করা হয়েছিল। মূলত পহেলগাঁও হামলার পরে ভারতের বিরুদ্ধে বদলা নিতে মাসুদ আজহার এই মহিলা বাহিনী তৈরি করেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে জামাত-উল-মোমিনাত। এই সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছে রয়েছে মাসুদের বোন সাদিয়া। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের সূচনা হয়েছিল অক্টোবরের মাঝামাঝি, যখন শ্রীনগরের নওগাম এলাকায় জইশ-ই-মহম্মদের পোস্টার দেখা যায়। তারপর থেকেই একের পর এক গ্রেফতারি অভিযান শুরু হয়। ৮ নভেম্বর ফরিদাবাদ থেকে মুজাম্মিলকে গ্রেফতার করা হয়, উদ্ধার হয় বিস্ফোরক ও একটি একে-৪৭ রাইফেল। জেরায় উঠে আসে শাহিনের ভূমিকা, মহিলা নেটওয়ার্কের সংগঠক হিসেবে। গ্রেফতারের পর লখনউর লালবাগে শাহিনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় উত্তরপ্রদেশ এন্টি-টেরর স্কোয়াড (এটিএস), জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ দল। বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক মোবাইল, হার্ড ডিস্ক ও নথি।












