অ্যাপল-স্যামসাংয়ের আপত্তি! ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ‘সঞ্চার সাথী’ নিয়ে নয়া নির্দেশ, কেন পিছু হঠল কেন্দ্র?

বিরোধীদের দাবি, এই অ্যাপের মাধ্যমে নজরদারি চালাতে চায় কেন্দ্র। কংগ্রেস এই অ্যাপকে ‘স্নুপিং অ্যাপ’ বলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানায়।

Published on: Dec 04, 2025 2:20 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

প্রবল বিতর্কের মাঝে 'সঞ্চার সাথী' নিয়ে পিছু হটল কেন্দ্র। সমস্ত স্মার্টফোনে সঞ্চার সাথী অ্যাপ্লিকেশন বাধ্যতামূলকভাবে প্রি-ইন্সটলেশনের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, বুধবার তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের ব্যাখ্যা, 'নাগরিকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় আর এটিকে বাধ্যতামূলক করবার প্রয়োজন নেই। মানুষ এমনিই এটি ব্যবহার করবে।' কিন্তু বিরোধীরা সরাসরি অভিযোগ তুলেছে, এটি গোপনে নজরদারি চালানোর অপচেষ্টা। চাপের মুখে ব্যাকফুটে যেতে বাধ্য হল নরেন্দ্র মোদী সরকার।

কেন পিছু হঠল কেন্দ্র? (REUTERS)
কেন পিছু হঠল কেন্দ্র? (REUTERS)

যত আধুনিক হচ্ছে প্রযুক্তি, ততই ঠুনকো হচ্ছে সাইবার নিরাপত্তা। একইসঙ্গে বিপদের মুখে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তাও। সেই সমস্যার সমাধান করবে 'সঞ্চার সাথী' অ্যাপ। টেলিযোগাযোগ বিভাগের (ডিওটি) একটি ডিজিটাল সুরক্ষা অ্যাপ 'সঞ্চার সাথী।' ভারতে মোবাইল ফোন চুরির অপরাধ রোধে সহায়তা করছে এই অ্যাপ। 'সঞ্চার সাথী' অ্যাপটি ভারতে হারিয়ে যাওয়া বা চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন ট্র্যাক ও পুনরুদ্ধারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে চালু হওয়া, অ্যাপটি ব্যতিক্রমীভাবে ভাল পারফর্ম করেছে।

কেন নির্দেশ প্রত্যাহার করল কেন্দ্র?

টেলিকম দফতরের দাবি, সাইবার জগতের প্রতারণা ঠেকাতে নাগরিকদের হাতে নিরাপত্তা সরঞ্জাম তুলে দিতেই 'সঞ্চার সাথী' অ্যাপটি প্রি-ইনস্টল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ভারতে বিক্রি হওয়া প্রতিটি নতুন স্মার্টফোনেই 'সঞ্চার সাথী' প্রি-ইনস্টল থাকতে হবে। শুধু নতুন ফোনই নয়, বাজারে ইতিমধ্যেই বিক্রি হওয়া ফোনগুলিতেও সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে ওই অ্যাপ প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় আশঙ্কা ছড়ায়। যে সমস্ত প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তার অন্যতম হল, এই অ্যাপের মাধ্যমে কি তবে ব্যবহারকারীর কল, মেসেজ বা লোকেশন নজরে রাখবে সরকার? বিরোধীদের দাবি, এই অ্যাপের মাধ্যমে নজরদারি চালাতে চায় কেন্দ্র। কংগ্রেস এই অ্যাপকে ‘স্নুপিং অ্যাপ’ বলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানায়। বিরোধীদের কথায়, এটি আসলে পেগ্যাসাসের নবতম রূপ। এইচটি-কে এক সূত্র জানিয়েছে, টেলিযোগাযোগ বিভাগ এই নির্দেশ প্রত্যাহারের জন্য 'অত্যাধিক চাপের' মধ্যে ছিল।

ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, 'একবার কেন্দ্র বলেছিল যে ব্যবহারকারী এই অ্যাপটি মুছে পারবেন, তখন এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে জালিয়াতি করতে চাইলে যে কেউ এটি মুছে ফেলবে।' কেন্দ্র এই বিষয় নিয়ে কাজ করার সময় আইনি সংস্থাগুলির সঙ্গে পরামর্শ নিয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রকে বলা হয়েছিল যে নির্দেশটি সাংবিধানিকভাবে টিকবে না। ইতিমধ্যে রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বৈঠক করার বার্তা দিয়েছিল দুই মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থা অ্যাপল এবং স্যামসাং। এমনকী কেন্দ্রের ওই নির্দেশ কার্যকরের বিষয়ে অ্যাপল ও স্যামসাং কর্তৃপক্ষের আপত্তি ছিল।

'সঞ্চার সাথী' ও কেন্দ্রের অবস্থান

কেন্দ্রের নির্দেশ প্রত্যাহারের ঘোষণার আগেই, মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সম্প্রচার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া সংসদে জানিয়েছিলেন যে এই অ্যাপ রাখা বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে এই অ্যাপ ডিলিট করে দিতে পারেন। সাইবার সিকিউরিটির জন্যই এই অ্যাপ মোবাইলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গ্রাহকদের সাইবার সুরক্ষা দেওয়া ছাড়া অন্য কোনও উদ্দেশ্য নেই। একইসঙ্গে বিরোধীরা দাবি করেছিল যে 'সঞ্চার সাথী' অ্যাপের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে, তার উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিন্ধিয়া বলেছেন, 'সঞ্চার সাথী অ্যাপের মাধ্যমে নজরদারি সম্ভব নয়, না কখনও সম্ভব হবে।'