মুসলিম পড়ুয়াদের ভর্তিতে ক্ষোভ! জম্মুর মেডিক্যাল কলেজের স্বীকৃতি বাতিল, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ...

২০২৫-২৬ সেশনের জন্য এমবিবিএস কোর্স চালানোর জন্য দেওয়া লেটার অফ পারমিশন প্রত্যাহার করে নিল জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন।

Published on: Jan 08, 2026 6:30 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় অবস্থিত শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এক্সিলেন্স (এসএমভিডিআইএমই)-এ মুসলিম পড়ুয়াদের ভর্তি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছিল। বিক্ষোভে নেমে ছিল একাধিক হিন্দু সংগঠন। এই আবহে শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এক্সিলেন্স-এর অনুমোদন বাতিল করে দিল ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন।

জম্মুর মেডিক্যাল কলেজের স্বীকৃতি বাতিল (Makhanlal )
জম্মুর মেডিক্যাল কলেজের স্বীকৃতি বাতিল (Makhanlal )

২০২৪ সালে ৫ ও ১৯ ডিসেম্বর নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের জন্য আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মেডিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড রেটিং বোর্ড (এমএআরবি)। সেই সময় শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এক্সেলেন্সও আবেদন জানায়। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই এবং সরেজমিনে পরিদর্শনের পরে কলেজটিকে মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত হওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরু হয় ভর্তি প্রক্রিয়া। কলেজের প্রথম ব্যাচে মোট ৫০ জন পড়ুয়াকে মেডিক্যালে ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই ৫০টি আসনের মধ্যে ৪৬ জন মুসলিম পড়ুয়া এবং মাত্র ৪ জন হিন্দু পড়ুয়া পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই জম্মু অঞ্চলে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনগুলি দাবি করে, কলেজের সমস্ত ৫০টি আসন হিন্দুদের জন্য সংরক্ষিত করতে হবে। হিন্দু ভক্তদের দানের টাকায় তৈরি এই কলেজে কাশ্মীরের মুসলিম ডাক্তার তৈরি করা দেশের হিন্দুরা সহ্য করবে না। এই দাবিকে সামনে রেখে জম্মু জুড়ে শুরু হয় লাগাতার বিক্ষোভ-আন্দোলন।

এরমধ্যেই মঙ্গলবার ২০২৫-২৬ সেশনের জন্য এমবিবিএস কোর্স চালানোর জন্য দেওয়া লেটার অফ পারমিশন প্রত্যাহার করে নিল জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন। ফলে কলেজটি আর মেডিক্যাল কলেজ থাকল না। জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। এরমধ্যে অপর্যাপ্ত পরিকাঠামো, পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল যন্ত্রপাতির অভাব, পূর্ণ সময়ের শিক্ষক না থাকা এবং পর্যাপ্ত রেসিডেন্ট ডাক্তারের ঘাটতি অন্যতম। অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতে ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন মেডিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড রেটিং বোর্ডের কর্তারা। পরে তাঁরা রিপোর্টও জমা দেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সবচেয়ে বড় ত্রুটি ছিল ফ্যাকাল্টি এবং ডাক্তারের ব্যাপক অভাব। রিপোর্ট অনুযায়ী, কলেজে নির্ধারিত মানদণ্ড থেকে প্রায় ৩৯ শতাংশ কম শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। এখানেই শেষ নয়, টিউটর, প্রদর্শক এবং সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসকের সংখ্যায় প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি দেখা গেছে। একটি মেডিক্যাল কলেজে শক্তিশালী ফ্যাকাল্টি এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসক পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণের মেরুদণ্ড, কিন্তু এখানে এই মৌলিক পরিকাঠামোই দুর্বল ছিল।

নিয়ম অনুযায়ী, আউটডোরে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০০ জন রোগী থাকার কথা ছিল, যেখানে গড়ে মাত্র ১৮২ জন রোগী উপস্থিত ছিলেন। একইভাবে, বেড অকুপেন্সি ছিল মাত্র ৪৫ শতাংশ, যেখানে আদর্শ মান ৮০ শতাংশ। আইসিইউ, ডেলিভারি কেস এবং অপারেশন থিয়েটারের পরিস্থিতিও হতাশাজনক ছিল। লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় বই এবং মেডিক্যাল জার্নালের ব্যাপক অভাব ছিল। অনেক বিভাগে ল্যাব, লেকচার হল এবং রিসার্চ রুমের মতো মৌলিক সুবিধাও অসম্পূর্ণ ছিল, যা এনএমসি-এর নিয়মাবলীর সরাসরি লঙ্ঘন।

এমবিবিএস পড়ুয়াদের এখন কী হবে?

স্বীকৃতি বাতিল হওয়ার পরে ওই কলেজের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। ইতিমধ্যে ওই কলেজে যে সব মেডিক্যাল পড়ুয়া ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের অন্য কলেজে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন এ বিষয়ে স্পষ্ট করেছে যে, ২০২৫-২৬ সেশনে যে পড়ুয়ারা ভর্তি হয়েছে, তাদের আসন সুরক্ষিত থাকবে। কোনও পড়ুয়াকে কোর্স ছাড়তে বাধ্য করা হবে না। ওই পড়ুয়াদের অতিরিক্ত আসন হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীরের অন্যান্য স্বীকৃত মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে হবে, যাতে পড়াশোনায় কোনও বাধা না আসে।