কাশ্মীর সংহতি দিবসে বুমেরাং! সন্ত্রাস-বিরোধিতায় বিশ্বব্যাপী কাশ্মীরিদের বিক্ষোভের মুখে পাকিস্তান

ইউরোপের একধিক পাক কনস্যুলেট এবং দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন প্রবাসী কাশ্মীরি এবং পাক নাগরিকেরা।

Published on: Feb 06, 2026 7:49 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারতের আপত্তি উড়িয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি ফের 'কাশ্মীর সংহতি দিবস' পালন করেছে পাকিস্তান। তা নিয়ে এবার আন্তর্জাতিক স্তরে বিড়ম্বনায় পড়ল পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফের সরকার। গত কয়েক দশক ধরে চলতে থাকা হিংসা, হানাহানি, নিপীড়নের ঘটনা ঢাকতেই এই দিনটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভে শামিল হলেন প্রবাসী কাশ্মীরি এবং পাক নাগরিকরা।

শ্বব্যাপী কাশ্মীরিদের বিক্ষোভের মুখে পাকিস্তান (সৌজন্যে টুইটার)
শ্বব্যাপী কাশ্মীরিদের বিক্ষোভের মুখে পাকিস্তান (সৌজন্যে টুইটার)

ব্রিটেন থেকে বেলজিয়াম, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী কাশ্মীরি ও পাক নাগরিকরা পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁদের অভিযোগ, নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করতে দিনের পর দিন ধরে কাশ্মীরে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে উসকানোরও চেষ্টা চলছে। পাক সরকারের বিরুদ্ধে তাঁরা স্লোগান তুলেছেন, 'সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করুন।'

ব্র্যাডফোর্ডে পাক কনস্যুলেটে বিক্ষোভ

ইউরোপের একধিক পাক কনস্যুলেট এবং দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন প্রবাসী কাশ্মীরি এবং পাক নাগরিকেরা। তবে ব্র্যাডফোর্ডে পাক কনস্যুলেটের বাইরে যে বিক্ষোভের দৃশ্য সবথেকে বেশি প্রতিফলিত হয়েছে। সেখানে জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দারা 'ইউনাইটেড কাশ্মীর পিপলস ন্যাশনাল পার্টি' (ইউকেপিএনপি)-এর ব্যানারে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিক্ষোভরারীরা পাকিস্তানের এই উদযাপনকে 'প্রতারণামূলক সংহতি' বলে আখ্যা দিয়েছেন। 'সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করুন'-এর মতো একাধিক স্লোগানও তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, পাকিস্তানের ছায়াযুদ্ধ এবং সন্ত্রাসবাদের কারণে গত ৭৮ বছরে এক লক্ষেরও বেশি কাশ্মীরি প্রাণ হারিয়েছেন উপত্যকায়। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অনেকে। বিক্ষোভ হয়েছে লন্ডন এবং ব্রাসেলসের মতো শহরেও।

জম্মু ও কাশ্মীর ন্যাশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যালায়েন্স (জেকেএনআইএ)-এর চেয়ারম্যান মাহমুদ আহমেদ কাশ্মীরি বলেছেন, পাকিস্তানের বক্তব্য জনগণের অপমানের সমান, যাদের জাতীয় পরিচয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ধারাবাহিকভাবে ধ্বংস হচ্ছে। তিনি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে কাশ্মীরি রাজনৈতিক এজেন্সি মুছে ফেলার সময় নদী, জমি এবং খনিজ শোষণের অভিযোগ করেন। ইউকেপিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক সরদার টিক্কা খান তাহির, পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে রাষ্ট্রীয় বিষয় আইনের 'সুস্পষ্ট লঙ্ঘন' বলে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে জাল নথিপত্রের মাধ্যমে অ-স্থানীয়দের বসতি স্থাপন করা হচ্ছে। স্থানীয় অ্যাকশন কমিটিগুলিকে বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইউরোপ এবং ব্রিটেনের ইউকেপিএনপি কর্মকর্তা-সহ বেশ কয়েকজন নেতা ঘোষণা করেছেন যে কাশ্মীরিরা ৫ ফেব্রুয়ারিকে সংহতি দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। বরং তারা এটিকে 'বিশ্বাসঘাতকতার দিবস' হিসেবে পালন করেন।

উল্লেখ্য, শাহবাজের দাদা নওয়াজ শরিফ সে দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়ে ১৯৯১ সালে এই দিনটির সূচনা করেন। প্রতি বছর ৫ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীর সংহতি দিবস উপলক্ষে পাকিস্তানের সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকে।