ঋণ দিলেও সন্দেহের ভ্রূকুটি! পাকিস্তানের গলায় ১৮ মাসে ৬৪ টি শর্তের বেল্ট পরাল IMF
পাকিস্তানের অর্থনীতির কোমর ভেঙেছে বহু আগেই। গত কয়েক বছর ধরে আইএমএফের ঋণের উপর টিকে রয়েছে শাহবাজের দেশ।
'অপারেশন সিঁদুর'-এর পর থেকে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক অবনতির পর্যায়ে। বারবার ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে পাকিস্তান। কোমর ভেঙে গিয়েছে ইসলামাবাদের। এদিকে, দিনদিন পাকিস্তানের অবস্থা ভিখারির দশায় পৌঁছেছে। সূত্রের খবর, এই আবহে পাকিস্তানের জন্য ঋণ মঞ্জুর করেছে আইএমএফ অর্থাৎ আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার। যার পরিমাণ প্রায় ৭০০ কোটি ডলার। তবে ঋণ মঞ্জুর হলেও পাকিস্তানের গলায় বেল্ট পরিয়ে খুঁটিতে বাঁধল আইএমএফ।
জানা গেছে, সোমবার ইসলামাবাদের জন্য ১২০ কোটি ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় ১০ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা) ঋণে অনুমোদন দিয়েছে আইএমএফ-এর কার্যনির্বাহী বোর্ড। তবে আইএমএফ-এর থেকে পরবর্তী ঋণ পেতে মোট ১১ টি শর্ত আরোপ করা হয়েছে পাকিস্তানের উপর। যার ফলে একটানা ঋণ পেতে ১৮ মাসে মোট ৬৪ টি শর্ত মানতে হবে শাহবাজ শরিফ সরকারকে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পাক সরকারের দুর্নীতি-বিরোধী পদক্ষেপ। সে দেশের সরকারকে উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকদের সম্পত্তির খতিয়ান প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। পরে প্রাদেশিক সরকারগুলিকে একই নির্দেশ দেওয়া হবে। তাছাড়া পাকিস্তানের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকে দুর্নীতি রুখতে কী পদক্ষেপ করা সম্ভব, তা জানাতে হবে ইসলামাবাদকে। পাকিস্তানের ‘এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফেসিলিটি’ (ইএফএফ) এবং ‘রেসিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেনেবিলিটি ফেসিলিটি’ (আরএসএফ)- এই দুই প্রকল্পর জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে আইএমএফ।
যদিও আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের তরফে পাকিস্তানের জন্য মঞ্জুর করা অর্থ ঋণ নিয়ে এর আগেও আপত্তি জানিয়েছিল ভারত। তারপরেও বেশ কয়েক দফায় ওই প্রকল্পে পাকিস্তানকে ঋণ নিয়েছে আইএমএফ। যদিও সেই সময়ে আইএমএফের ব্যাখ্যা ছিল, পাকিস্তান এই ঋণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল লক্ষ্য পূরণ করেছে। তাই ঋণ মঞ্জুরে কোনও বাধা ছিল না। এবার আরও এক কিস্তিতে ১০০ কোটি ডলার ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরএসএফ-এর আওতায় ২০ কোটি ডলারের ঋণে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে আইএমএফ। এই নিয়ে দুই প্রকল্প মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৩৩০ কোটি ডলার বরাদ্দ হয়েছে পাকিস্তানের জন্য। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের অর্থনীতির কোমর ভেঙেছে বহু আগেই। গত কয়েক বছর ধরে আইএমএফের ঋণের উপর টিকে রয়েছে শাহবাজের দেশ। সেই ধারা অব্যাহত রেখে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ফের আইএমএফের কাছে গিয়েছিল ইসলামাবাদ। আইএমএফ বলছে, পাকিস্তানকে ঋণ দেওয়া অব্যাহত রাখতে হলে দেশটিকে সংস্কার পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজস্ব ব্যবস্থা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।












