'কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী আসিম...,' ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের ষড়যন্ত্র পাকিস্তানের? বিস্ফোরক ইমরানের বোন
গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়।
'কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী আসিম মুনির ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকেন।' এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন আলিমা খান। কয়েক সপ্তাহ ধরে টালবাহানার পর অবশেষে মঙ্গলবার ইমরান খানের সঙ্গে তাঁর বোন ডাক্তার উজমা খানুমকে দেখা করতে দেওয়া হয়। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে ঢুকতে দেওয়া হয় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের সর্বময় নেতা ইমরানের বোনকে। প্রাক্তন ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ী পাক ক্যাপ্টেন গত দুবছর ধরে আদিয়ালা জেলে বন্দি। এরপরেই প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীর আরেক বোন দাবি করলেন, ইমরান খান একজন খাঁটি উদারপন্থী। তিনি চান ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে।

ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিককের মুখোমুখি হয়ে উজমা খানুম বলেন, 'ঈশ্বরের কৃপায় ও সুস্থ আছে…কিন্তু ওঁর উপরে চলা মানসিক অত্যাচার নিয়ে ক্ষুব্ধ। সারাদিন সেলে বন্দি করে রাখা হয় ওঁকে…খুব অল্প সময়ের জন্যই সেল থেকে বেরতে পারে, কারোর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয় না।' জেলবন্দি ইমরান খান পাকিস্তানের সেনা প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকেই দুষেছেন দেশের বর্তমান অবস্থার জন্য। ইমরানের দাবি আসিম মুনির পাক সেনার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নিয়েছেন। এমনকী, সংবিধানে পরিবর্তন করে নিজেকে এবং সমস্ত সেনা প্রধান ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিকে আজীবন সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। এবার তাঁর বোন আলিমাও দু’জনের সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে আনলেন। স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলিমা খান বলেন, 'আসিম মুনির কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী। সেই কারণেই তিনি ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকেন। তাঁর কট্টর ইসলামিক চিন্তাধারা ও সংরক্ষণ মনোভাবই তাঁকে জোর করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে, যারা ইসলামে বিশ্বাস করে না।'
সেখানেই ইমরান খান স্বাধীন চিন্তাধারার। যখন ইমরান খান ক্ষমতায় ছিলেন, তখন তিনি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান তাঁর বোন। তিনি বলেন, 'ইমরান খান যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চেয়েছিলেন। এমনকী বিজেপির সঙ্গেও। যখনই আসিম মুনিরের মতো মৌলবাদী ক্ষমতায় থাকবেন, তখন ভারতের সঙ্গে তো যুদ্ধ করতে চাইবেনই। এমনকী ভারতের বন্ধু দেশগুলিও ভুগবে।' পাশাপাশি ইমরান খানকে পাকিস্তানের 'সম্পদ' বলে অভিহিত করেন আলিমা খান।
ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ
গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়। ওই হামলায় ২৫ জন পর্যটক এবং একজন স্থানীয় নিহত হন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ হামলার পেছনে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর ’ চালায়, যার মাধ্যমে পাকিস্তান ও পিওকে-র লস্কর-ই-তৈবা এবং জৈশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়। এই অপারেশনের নামকরণ করা হয়েছিল পহেলগাঁও হামলায় নিহত মহিলাদের স্মরণে, যারা তাদের স্বামীদের হারিয়েছিলেন। পাকিস্তান পাল্টা ৮ থেকে ১০ মে পর্যন্ত জম্মু অঞ্চলে, বিশেষ করে পুঞ্চে, ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে ভারতীয় বাহিনী এই হামলাগুলো প্রতিহত করে এবং পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। ১০ মে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষের অবসান ঘটে, তবে ভারত স্পষ্ট করে জানায় যে, পাকিস্তান যদি তার মাটিতে ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যকলাপের অনুমতি দেয়, তবে এই যুদ্ধবিরতি সম্মানিত হবে না।
জেলবন্দি ইমরান খান
২০২৩ সাল থেকে জেলে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বিগত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ-জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, প্রায় এক মাস ধরে ইমরানের সঙ্গে পরিবারের কাউকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। অবশেষে মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি থাকা ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হল তাঁর বোন উজমাকে। তিনি বলেন যে ইমরান বেঁচে থাকলেও, তাঁর উপরে মানসিক অত্যাচার করা হচ্ছে। উজমা বলেন, 'ইমরান খান বলেছেন যে তাঁর কারও সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই, এমনকী তিনি কারও সঙ্গে দেখাও করেননি। তিনি বলেছেন যে তারা তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন করছে। তিনি ক্রুদ্ধ এবং বলেছেন যে যা কিছু ঘটছে তার জন্য আসিম মুনির দায়ী।' এর আগে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদের মামলায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে আটক ইমরানকে কারাগারের ভিতরেই হত্যা করা হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর গত সপ্তাহ থেকে আদিয়ালা কারাগারের বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গুজবের মধ্যে, আদিয়ালা জেল প্রশাসন এবং সরকার দাবি করেছিল যে ইমরান সুস্থ আছেন এবং তিনি ‘সম্পূর্ণ চিকিৎসা সেবা’ পাচ্ছেন। আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ একটি বিবৃতিতে বলেছিল, 'আদিয়ালা জেল থেকে তাঁর (ইমরান) স্থানান্তরের খবরের কোনও সত্যতা নেই। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।'












