Pakistan Province Division: ৪ ভেঙে ১৬ হোক! প্রদেশ ভাগের প্রস্তাব পাকিস্তানি মন্ত্রীর, আপত্তি সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর

প্রশাসনিক সংস্কারের নামে দেশটিকে নতুন নতুন ছোট প্রদেশে বিভক্ত করার প্রস্তাব ভাসিয়ে দেওয়া হল বর্তমান পাক সরকারের মন্ত্রীর তরফে। পাকিস্তানের ফেডারেল যোগাযোগ মন্ত্রী এবং ইস্তেহকাম-ই-পাকিস্তান পার্টির (আইপিপি) চেয়ারম্যান আবদুল আলিম খান সম্প্রতি পাকিস্তানে ছোট প্রদেশ তৈরির বার্তা দিয়েছেন।

Published on: Jan 14, 2026 8:46 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইসলামের নামে গঠন করা হয়েছিল পাকিস্তান নামক দেশটি। যদিও ১৯৭১ সালে দুই ভাগে ভেঙে যায় সেটি। ফের একবার পাকিস্তান ভাগের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বালোচিস্তান হোক কি খাইবার পাখতুনখোয়া, এমনকী সিন্ধু প্রদেশেও স্বাধীনতার দবিতে ছোট-বড় আন্দোলন চলছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক সংস্কারের নামে দেশটিকে নতুন নতুন ছোট প্রদেশে বিভক্ত করার প্রস্তাব ভাসিয়ে দেওয়া হল বর্তমান পাক সরকারের মন্ত্রীর তরফে। এই পদক্ষেপের নেপথ্যে প্রশাসনিক কারণের কথা বলা হলেও বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের জন্য ভালোর চেয়ে বেশি ক্ষতি করতে পারে।

প্রশাসনিক সংস্কারের নামে দেশটিকে নতুন নতুন ছোট প্রদেশে বিভক্ত করার প্রস্তাব ভাসিয়ে দেওয়া হল বর্তমান পাক সরকারের মন্ত্রীর তরফে। (AFP)
প্রশাসনিক সংস্কারের নামে দেশটিকে নতুন নতুন ছোট প্রদেশে বিভক্ত করার প্রস্তাব ভাসিয়ে দেওয়া হল বর্তমান পাক সরকারের মন্ত্রীর তরফে। (AFP)

পাকিস্তানের ফেডারেল যোগাযোগ মন্ত্রী এবং ইস্তেহকাম-ই-পাকিস্তান পার্টির (আইপিপি) চেয়ারম্যান আবদুল আলিম খান সম্প্রতি পাকিস্তানে ছোট প্রদেশ তৈরির বার্তা দিয়েছেন। আলিম খানের মতে, পঞ্জাব, সিন্ধু, বালোচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রত্যেককে তিন বা চারটি প্রশাসনিক ইউনিটে বিভক্ত করা হবে। এইভাবে, পাকিস্তানে মোট ১২ থেকে ১৬টি প্রদেশ থাকতে পারে। সরকার বলছে, জনসংখ্যার দিক থেকে বর্তমান প্রদেশগুলো অনেক বড়, যার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়ন পৌঁছায় না। ছোট প্রদেশের মানুষ তাদের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পেতে পারবে।

কে সমর্থন করছে, কে বিরোধিতা করছে? এই প্রস্তাব পাকিস্তানের জোট সরকারের মধ্যেও ফাটল সৃষ্টি করেছে। সরকারে থাকা সিন্ধু ভিত্তিক এমকিউএম-পি এই দাবির সমর্থক। এমকিউএম-পি তো ২৮তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে নতুন প্রদেশ গঠনের জন্য চাপ সৃষ্টি শুরু করেছে। তবে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এই বিভাজনের বিরুদ্ধে। সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলি শাহ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তিনি সিন্ধু প্রদেশের কোনও বিভাজন মেনে নেবেন না। বালোচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলি বিশ্বাস করে যে এটি তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র।

পাক প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে মারাত্মক হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পাকিস্তানের প্রাক্তন পুলিশ কর্তা সৈয়দ আখতার আলি শাহ যুক্তি দেন যে পাকিস্তানের সমস্যা প্রদেশের সংখ্যা নয়, বরং দুর্বল প্রতিষ্ঠান এবং জবাবদিহিতার অভাব। মৌলিক সংস্কার ছাড়া নতুন প্রদেশ তৈরি করা কেবল বিশৃঙ্খলার দিকে নিয়ে যাবে। প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার সময়, পাকিস্তানে ৫টি প্রদেশ ছিল। পূর্ববঙ্গ, পশ্চিম পঞ্জাব, সিন্ধু, উত্তর পশ্চিম সীমান্ত এবং বালোচিস্তান। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পরে পূর্ব বাংলা পৃথক হয়ে বাংলাদেশ হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, নয়া প্রদেশ গঠন হলে বালোচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় চলমান বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে যেতে পারে।