Pakistan Bangladesh: টার্গেট দিল্লি? প্রেশার গেম? বাংলাদেশকে নিয়ে পাকিস্তানের 'ফোরাম' কূটনীতি! কোন মতলব আঁটছে শেহবাজরা?
কী চাইছে পাকিস্তান?
বাংলাদেশে ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি। তার আগেই ইসলামাবাদ, সেদেশে বাংলাদেশ, চিন, মায়ানমারের বিদেশমন্ত্রীদের নিয়ে এক বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টায়। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান চাইছে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে এক বৈঠক। এই বৈঠক নিয়ে বাংলাদেশকে প্রস্তাবও দিয়েছে পাকিস্তান। লক্ষ্য চার দেশ মিলে একটি ফোরাম গঠনের।

বাংলাদেশের ‘প্রথম আলো’র রিপোর্ট বলছে, গত ৭ মাস ধরে চিন চাইছিল, পাকিস্তান, বাংলাদেশকে নিয়ে তারা একটি ফোরাম গঠন করতে। তাতে বাংলাদেশ সায় দেয়নি বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এবার বাংলাদেশ যদি রাজি হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের ভোটের আগেই ইসলামাবাদ ওই বৈঠক আয়োজনে সচেষ্ট বলে খবর। সেক্ষেত্রে ওই বৈঠক থেকে এই চার দেশীয় ফোরাম গঠনের উদ্যোগের প্রস্তাব দিতে পারে পাকিস্তান। জানা যায়, একটা সময় এই ফোরামে অংশ নিতে বাংলাদেশকে রাজি করাতে পাকিস্তানকে হাতিয়ার করে চিন। তবে, শেষমেশ এই ফোরাম হয়নি। প্রসঙ্গত, ১৯৭১র স্মৃতি ভুলে, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের গাঁটছড়া নিঃসন্দেহে দিল্লির জন্য সুখবর বয়ে আনেনি। এই প্রেক্ষাপটে চিন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মায়ানমারের চার দেশীয় ফোরাম তৈরির চেষ্টা নিঃসন্দেহে দিল্লিকে কূটনৈতিক চাপে ফেলার কৌশল বলে মনে করছেন অনেকে। এদিকে, জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহেই বাংলাদেশের কাছে এই চার দেশীয় বৈঠক নিয়ে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়স্তরে এক প্রস্তাব দেয়। প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার আমলের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ইউনুসের প্রশাসন, পাকিস্তানের সঙ্গে হৃদ্যতায় মেতে ওঠে। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অন্তরঙ্গ নজর কেড়েছে অনেকের।
এদিকে, ওই রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান চাইছে বাংলাদেশের ভোটের আঅগে ফেব্রুয়ারিতেই তড়িঘড়ি এই চার দেশীয় বৈঠক আয়োজনের। তবে ভোট এগিয়ে আসায় বৈঠকে যোগ দিতে গড়িমসি করছে ঢাকা। ইউনুসের ঢাকা চাইছে, বাংলাদেশে নতুন সরকার আসার পর এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিক।
জানা যাচ্ছে. এর মাঝে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার ও বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন অনেকবার বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশের বাইরে তাঁরা বহুদেশীয় নানান অনুষ্ঠানের ফাঁকে এই বৈঠক করেছেন। শুধুমাত্র জানুয়ারতেই দুই দেশের মধ্যে কয়েকবার ফোনে কথা হয় দুইপক্ষের বিদেশমন্ত্রকের মধ্যে। রিপোর্ট বলছে, তৌহিদ হোসেন ও ইসহাক দারের ফোনালাপের মধ্যে, পাকিস্তানের থেকে বাংলাদেশের জেএফ ১৭ যুদ্ধবিমান কেনা সহ, ঢাকা-করাচি বিমান চলাচল, করাচি-চট্টগ্রাম রুটে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল সহ নানান বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও ভোট পরবর্তী সময়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ নিয়েও দুই দেশ আলোচনা করেছে বলে খবর।
এর আগে, চিন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ফরাম তৈরির কথাও উঠেছিল। তবে বাংলাদেশের যুক্তি শ্রীলঙ্কা বা নেপাল,এমন কোনও চতুর্থ দেশকে যুক্ত না করলে দক্ষিণ এশিয়ায় এ ধরনের জোট ফলপ্রসূ হবে না । এরপর ২৪ জানুয়ারি ইসহাক দার ইসলামাবাদে বাংলাদেশ, চীন, মিয়ানমার ও পাকিস্তানকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন। পাকিস্তান আপাতত চাইছে, যেনতেন প্রকারে বাংলাদেশের ভোটের আগেই এই চার দেশীয় বৈঠক ইসলামাবাদে আয়োজন করতে। এই পরিস্থিতিতে জল কতদূর গড়ায় সেদিকে নজর রয়েছে কূটনৈতিক মহলের।
E-Paper











