'সবাইকে হত্যা করতে হবে!' US-এ গণহত্যার ছক, অস্ত্র-সহ গ্রেফতার পাক বংশোদ্ভূত ‘জেহাদি’

লুকমান খানের জন্ম পাকিস্তানে হলেও ছোটবেলা থেকেই সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে।

Published on: Dec 04, 2025 10:48 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যার ছক! উইলমিংটন থেকে এক পাকিস্তানি অভিবাসীকে গ্রেফতার হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে মার্কিন মুলুকে। অভিযোগ, মার্কিন মুলুকের ডেলাওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যার ছক করেছিল ওই পাক বংশোদ্ভূত যুবক। অভিযুক্তের কাছে থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর অস্ত্রসস্ত্র। শুধু তাই নয়, তাঁর কাছ থেকে একটি নেটবুকও উদ্ধার হয়েছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল ক্যাম্পাসে হামলার গোটা ছক লেখা ছিল বলে অভিযোগ।

US-এ গণহত্যার ছক (সৌজন্যে টুইটার )
US-এ গণহত্যার ছক (সৌজন্যে টুইটার )

নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধৃতের নাম লুকমান খান (২৫)। গত ২৪ নভেম্বর উইলমিংটন পার্কের কাছে একটি ট্রাকে বসেছিল সে। তাকে দেখে সন্দেহ হওয়ার তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। তারপরেই সেই গাড়ি থেকে একাধিক অস্ত্র উদ্ধার হয় বলে খবর। পাশাপাশি একটি নোটবুকও উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই নোটবুকে ডেলাওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ছকের কথা লেখা ছিল। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানচিত্র আঁকা ছিল। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থানার দূরত্ব, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ ও বাইরে যাওয়ার পথ-সহ অন্যান্য তথ্য লেখা ছিল বলে অভিযোগ। জানা যাচ্ছে, অভিযুক্ত ওই যুবক ডেলাওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তনী। পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, জেহাদের বশে সে এই বয়াবহ হামলা চালাতে চেয়েছিল। তবে তাকে কে এই হামলা চালাতে বলেছিল সে বিষয়ে পুলিশ জানতে পারেনি বলে খবর।

ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (ডিওজে) জানিয়েছে, ধৃত যুবকের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে বন্দুক, গোলাবারুদ, বডি আর্মার পাওয়া গেছে। এছাড়া তার কাছে একটি নোটবুকও পাওয়া যায়- যেখানে লেখা ছিল ‘সবাইকে মেরে ফেলতে হবে’ এবং ‘শহিদ’ হওয়ার ইচ্ছার কথা।পুলিশের মতে, নোটবুকের সব লেখাই ছিল আগে থেকেই পরিকল্পিত হামলার ছক এবং স্পষ্ট যুদ্ধ কৌশল। ডিওজে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তল্লাশির সময় পুলিশ গাড়ির ভেতর থেকে একটি পয়েন্ট ৩৫৭ ক্যালিবারের গ্লক পিস্তল খুঁজে পায়। পিস্তলটিতে ২৭ রাউন্ড গুলি ভর্তি ছিল এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র ব্রেস কিটের সাহায্যে সেটিকে আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলে রূপান্তর করা হয়েছিল। এছাড়া আরও তিনটি লোডেড ২৭-রাউন্ড ম্যাগাজিন, একটি লোডেড গ্লক ৯ মিমি ম্যাগাজিন, একটি বুলেটপ্রুফ আর্মার প্লেট এবং একটি মার্বেল কম্পোজিশন নোটবুক উদ্ধার হয়েছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাতে লেখা নোটবুকে লুকমান খান আরও অস্ত্র সংগ্রহ, সেগুলি কীভাবে হামলায় ব্যবহার করা যায় এবং হামলার পর কীভাবে পুলিশের নজর এড়ানো যাবে এসব নিয়ে বিস্তারিত লিখেছিল। নোটবুকে ডেলাওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তার নামও উল্লেখ ছিল। হামলার উদ্দেশ্য পুরোপুরি পরিষ্কার না হলেও গ্রেফতারের পর লুকমান পুলিশকে জানায়, শহিদ হওয়া সবচেয়ে বড় অর্জনগুলির একটি।

লুকমান খান কে?

নিউ ক্যাসেল কাউন্টি পুলিশ নিউ ইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছে, লুকমান খানের জন্ম পাকিস্তানে হলেও ছোটবেলা থেকেই সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে। বর্তমানে সে মার্কিন নাগরিক। গ্রেফতারের পর এফবিআই লুকমান খানের উইলমিংটনের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেখানে তারা একটি এআর-স্টাইলের রাইফেল উদ্ধার করে, যাতে রেড-ডট স্কোপ লাগানো ছিল। আরও একটি গ্লক পিস্তল পাওয়া যায়, যার সঙ্গে অবৈধ একটি যন্ত্র লাগানো ছিল। এটি পিস্তলটিকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় মেশিনগানে পরিণত করে, যা মিনিটে প্রায় ১,২০০ রাউন্ড গুলি ছুড়তে পারে। এছাড়া আরও ১১টি লম্বা ম্যাগাজিন, মারাত্মক হোলো-পয়েন্ট বুলেট, এবং একটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পাওয়া যায়। খানের কাছে থাকা কোনো অস্ত্রই আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত ছিল না। ২৪ নভেম্বর গ্রেফতার হওয়ার দুই দিন পরে, ২৬ নভেম্বর ধৃত যুবককে অবৈধভাবে মেশিনগান রাখার অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এফবিআই মামলাটি আরও তদন্ত করছে।