মুনিরের সেনা, শাহবাজ সরকারের নীতিকে একহাত নিলেন পাকিস্তানি নেতা! বললেন,'আফগানের একটা ডালিমও পাকিস্তানে ঢুকতে পারে না…'

যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের অর্থনীতিও যেখানে পাকিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে, সেখানে পাকিস্তানের শাসকদের লজ্জিত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন মাওলানা ফজলুর রেহমান।

Published on: Feb 10, 2026 1:23 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

এবার নিজের দেশেরই সেনাবাহিনী ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা কৌশলের কঠোর সমালোচনা করলেন জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-এফ (জেইউআই-এফ) প্রধান তথা পাকিস্তান সংসদ সদস্য মাওলানা ফজলুর রেহমান। পাক সীমান্তে নিরাপত্তার ব্যর্থতা এবং দ্বিমুখী নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, 'আফগানিস্তানের একটা ডালিমও পাকিস্তানে ঢুকতে পারে না, অথচ সন্ত্রাসবাদীরা ঠিকই চলে আসছে।'

মাওলানা ফজলুর রেহমান (সৌজন্যে টুইটার)
মাওলানা ফজলুর রেহমান (সৌজন্যে টুইটার)

রাওয়ালপিন্ডিতে এক জনসভায় মাওলানা ফজলুর রেহমান দাবি করেন, আফগানিস্তান থেকে জঙ্গিরা পাকিস্তানে প্রবেশ করছে। তিনি পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের প্রশ্ন করেন, জহির শাহের আমল থেকে শুরু করে আজকের ইমারাতে ইসলামিয়া পর্যন্ত কোনও আফগান সরকারই কেন পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে পারেনি। তিনি বলেন, বিভিন্ন শাসনকালে আফগানিস্তানে সরকার বদলালেও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের সংকট কাটেনি, যা ইসলামাবাদের নীতিগত ব্যর্থতাই তুলে ধরে। মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, 'কমিউনিস্টরা এসেছে, মুজাহিদিনরা এসেছে, তালিবানরা এসেছে, যারা এক সময় ‘প্রো- পাকিস্তানি’ বলে পরিচিত ছিল, তারাও এখন পাকিস্তানের সঙ্গে নেই। এর মানে হল, গত ৭৮ বছর ধরে পাকিস্তানের আফগান নীতি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।'

সীমান্তে নিরাপত্তার ব্যর্থতা এবং দ্বিমুখী নীতির চিত্র তুলে ধরে মাওলানা ফজলুর রেহমান বলেন, 'আফগানিস্তানের একটা ডালিম পাকিস্তানে ঢুকতে পারে না, একটা তরমুজ আসতে পারে না, একটা ফল আসতে পারে না; অথচ সন্ত্রাসবাদীরা ঠিকই চলে আসছে।' এরপরেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সীমান্তে এত কড়াকড়ি থাকে যে সামান্য ফলমূল বা ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সন্ত্রাসবাদীরা কীভাবে অবাধে প্রবেশ করছে। তাঁর কথায়, 'সন্ত্রাসবাদীরা যদি এসেই থাকে, তবে তাদের আটকাও, তাদের মারো। তারা তো কোনও প্রতিবাদ করেনি।' তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের কোনও সুনির্দিষ্ট জাতীয় আফগান নীতি নেই। এক এক সময় একেকজন জেনারেল এসে নিজের মতো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। মাওলানা ফজলুর রেহমান বলেন, 'একজন জেনারেল এসে বলেন আলোচনা করব, আবার আরেকজন এসে বলেন যুদ্ধ করব।'

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নীতি এভাবে ব্যক্তির খেয়ালিপনার উপর চলতে পারে না। এই অস্থিতিশীল সিদ্ধান্তের কারণেই সীমান্তে চার দশক ধরে রক্ত ঝরছে। পাকিস্তানের অর্থনীতির করুণ দশা বোঝাতে গিয়ে তিনি ভারতের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ভারতের অর্থনীতি ভালো, চিনের অর্থনীতি ভালো, ইরানের অর্থনীতি ভালো, এমনকী 'আফগানিস্তানের অর্থনীতিও আমাদের চেয়ে ভালো।' যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের অর্থনীতিও যেখানে পাকিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে, সেখানে পাকিস্তানের শাসকদের লজ্জিত হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভুল আফগান নীতির কারণে অশান্তি এখন আর শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই। খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান ছাড়িয়ে এর প্রভাব এখন ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতেও এসে পড়েছে, যেখানে মসজিদের ভেতরেও মানুষ নিরাপদ নয়।

ইসলামাবাদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ

মাওলানা ফজলুর রেহমানের বক্তব্য এমন সময় সামনে এসেছে, যখন ইসলামাবাদের মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের অভিঘাতে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৭০ জনেরও বেশি। যাদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে অন্যতম বড় সন্ত্রাসবাদী হামলা এটি। এক্স বার্তায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, নিরাপত্তারক্ষীরা হামলাকারীকে চ্যালেঞ্জ করলে সে প্রথমে গুলি চালায় এবং পরে মুসল্লিদের শেষ সারিতে দাঁড়িয়ে নিজেকে উড়িয়ে দেয়। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরীও বলেছেন যে মারাত্মক বিস্ফোরণে জড়িত হামলাকারী পাক নাগরিক ও আফগানিস্তানে গিয়েছিল। তবে, তালিবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র ইনায়েত খোয়ারিজমি পাকিস্তানের অভিযোগগুলিকে 'অযৌক্তিক' এবং 'ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।