'মানুষকে হেনস্থা করার...,' ইন্ডিগোর আকাশে বিপর্যয়, ইঙ্গিতবাহী বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদীর

ইতিমধ্যে ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্র।

Published on: Dec 09, 2025 1:04 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

নিয়ম আনা হয় সিস্টেমের উন্নতির জন্য, মানুষকে হেনস্থা করার জন্য নয়। দেশের বৃহত্তম এয়ারলাইন ইন্ডিগোতে চরম বিশৃঙ্খলা নিয়ে ইঙ্গিতবাহী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। টানা আটদিন ধরে ইন্ডিগোতে চরম বিশৃঙ্খলা চলছে। কার্যত ধসে পড়ে ওই সংস্থার পরিষেবা। পর পর ৪ দিন ইন্ডিগোর পরিষেবার সমস্যার জেরে ভুগতে হচ্ছে গ্রাহকদের। বিমানবন্দরগুলিতে চরমে যাত্রী ভোগান্তির চিত্র। যার আঁচ ইতিমধ্যেই সংসদে পৌঁছে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অবশেষে ইন্ডগো বিপর্যয় নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

ইঙ্গিতবাহী বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদীর (PTI)
ইঙ্গিতবাহী বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদীর (PTI)

মঙ্গলবার ছিল এনডিএ সাংসদদের বৈঠক। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ইন্ডিগো নিয়ে। বৈঠক শেষে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, 'সরকারের কারণে জনগণ যাতে কোনও সমস্যার সম্মুখীন না হয় তা নিশ্চিত করুন। নিয়মকানুন ভাল... তবে সেগুলি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য এবং জনসাধারণকে যাতে হয়রানির মধ্যে না পড়েন সে জন্য তৈরি করা উচিত।' রিজিজু আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী মোদী খুব স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, এমন কোনও আইন বা নিয়ম থাকা উচিত নয় যা সাধারণ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে কষ্ট দেয়। এটা হওয়া উচিত নয়। আইন জনগণের উপর বোঝা হওয়া উচিত নয়, বরং তাদের সুবিধার জন্য প্রনয়ণ করা দরকার।' ইতিমধ্যে ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রামমোহন নাইডু সংসদে বলেন, এই বাজেট এয়ারলাইনকে উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করানো হবে। কর্মী সংকট ও শিডিউল তৈরির ব্যর্থতায় যাত্রীদের ভোগান্তির দায় এড়াতে পারবে না সংস্থা। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই ৮৩০ কোটির বেশি টাকা ফেরত দিয়েছে, আর বাজারমূল্যে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৭,০০০ কোটি টাকা।

সংসদে মন্ত্রী আরও জানান, নতুন ‘ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন’ (এফডিটিএল) বিধি মানতে গিয়ে নয়, বরং অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনার দুর্বলতার কারণেই ইন্ডিগোর এই অবস্থা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী পাইলট ও কেবিন ক্রুর ডিউটি আওয়ার কমানো, বিশ্রাম বাড়ানো - এসবই বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেই রদবদল সামলাতে না পারায় ৭ দিনে চার হাজার পাঁচশোর বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে হয় সংস্থাকে। এর ফলেই দেশজুড়ে বিমানবন্দরে দেখা দেয় অভূতপূর্ব বিশৃঙ্খলা। সোশ্যাল মিডিয়া ভরে যায় আটকে পড়া যাত্রীদের ছবি, ভিডিও ও ক্ষোভে। কারও ছিল চিকিৎসার জরুরি প্রয়োজনে যাত্রা, কেউ বা পরিবারের সংকটজনক পরিস্থিতিতে গন্তব্যে পৌঁছতে মরিয়া, কারও আর্থিক ক্ষতিই নয়, মানসিক দুর্ভোগও চরমে পৌঁছয়। ইন্ডিগো যদিও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরতের ঘোষণা করেছে, বাতিল বা পরিবর্তনের ফিও মাফ করা হয়েছে। তবু ৯.৫ লক্ষের বেশি বুকিং থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই ফেরত পেতে দেরি হচ্ছে বা ভুল প্রসেসিংয়ের অভিযোগ উঠছে, যা ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে। এদিকে, সরকার মঙ্গলবার একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডেকেছে, সংকট মোকাবিলায় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক এবং বিমান সংস্থাগুলির শীর্ষ কর্মকর্তাদের একত্রিত করেছে। সূত্রের খবর, দৈনিক অন্তত পাঁচ শতাংশ উড়ান, অর্থাৎ প্রায় ১১৫টি ফ্লাইট ইন্ডিগোর কাছ থেকে প্রত্যাহার করতে পারে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। যেসব সংস্থা আপাতত নিয়ম মেনে এবং ভরসাযোগ্য পরিষেবা দিচ্ছে, তাদের কাছেই ইন্ডিগোর বাতিল উড়ানগুলির দায়িত্ব তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।