'অত্যন্ত মর্মান্তিক...,' মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রীর 'অকাল' মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ প্রধানমন্ত্রী মোদী

একাধিক রিপোর্ট বলছে, নির্বাচন উপলক্ষে বেশ কয়েকটি জনসভায় যোগ দিতে অজিত পাওয়ারের পুণের বারামতী যাওয়ার কথা ছিল।

Published on: Jan 28, 2026 11:41 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বুধবার সাত সকালেই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রয়াত মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। মহারাষ্ট্রের বারামতিতে অবতরণের সময় অজিত পাওয়ারকে নিয়েই ভেঙে পড়ে প্রাইভেট বিমানটি। দুর্ঘটনার পরপরই বিমানে আগুন ধরে যায় বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়েই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। কিন্তু দুর্ঘটনা এতটাই মারাত্মক ছিল যে শেষ রক্ষ হল না। আর মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রীর 'অকাল' মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রীর 'অকাল' মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ প্রধানমন্ত্রী মোদী (@narendramodi)
মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রীর 'অকাল' মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ প্রধানমন্ত্রী মোদী (@narendramodi)

প্রধানমন্ত্রী কী বলছেন?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শোক প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘শ্রী অজিত পাওয়ারজি ছিলেন একজন জননেতা, তৃণমূল স্তরের সঙ্গে তাঁর দৃঢ় সংযোগ ছিল। মহারাষ্ট্রের জনগণের সেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী একজন পরিশ্রমী ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি সর্বত্র সম্মানিত ছিলেন। প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর বোধগম্যতা এবং দরিদ্র ও নিপীড়িতদের ক্ষমতায়নের প্রতি তাঁর আবেগও উল্লেখযোগ্য ছিল। তাঁর অকাল মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং দুঃখজনক। তাঁর পরিবার এবং অগণিত ভক্তদের প্রতি সমবেদনা। ওম শান্তি।’

মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

একাধিক রিপোর্ট বলছে, নির্বাচন উপলক্ষে বেশ কয়েকটি জনসভায় যোগ দিতে অজিত পাওয়ারের পুণের বারামতী যাওয়ার কথা ছিল। ওই বিমানে করেই মুম্বই থেকে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, বারামতীতে অবতরণের সময় বিমানটিতে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমানচালক জরুরি অবতরণের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। বিমানবন্দরের বাইরেই ভেঙে পড়ে বিমানটি। অজিত পাওয়ারের বিমানটি ছিল লিয়ারজেট ৪৫। যাতে ছয় থেকে আট জন বসতে পারেন। বিমানে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আরও দু’জন পাওয়ার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। একজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী এবং একজন অ্যাটেনড্যান্ট, তিনি এনসিপি কর্মী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, বিমানে ছিলেন একজন পিআইসি এবং এফও দুই বিমানকর্মীও। ডিজিসিএ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় সকলেরই মৃত্যু হয়েছে। বিমানটি সকাল ৮.১০ মিনিটের দিকে মুম্বই থেকে রওনা দেয়। সকাল ৯.১২ মিনিটে বিমান দুর্ঘটনার খবর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানানো হয়।

সূত্রের খবর, জেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে অজিত পাওয়ারের বারামতীতে যাওয়ার কথা ছিল। এদিন পুণের বারামতী সংলগ্ন এলাকায় তাঁর বেশ কয়েকটি জন সমাবেশ করার কথা ছিল। সেই কারণেই সকাল থেকেই ব্যস্ততা ছিল। কিন্তু তাঁর মাঝেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার খবর প্রকাশের পরে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ তাঁর কোঙ্কন সমাবেশ বাতিল করেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে খবরাখবর নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অজিত পাওয়ারের পরিবারের সদস্যরাও বারামতী যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে সূত্রের খবর, দেশের বেসামরিক বিমান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ডিজিসিএ উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করবে। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই পাইলট 'মে ডে' ঘোষণা করেছিলেন। বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।